পাক-আফগান সীমান্তে ইমারাতে ইসলামিয়ার সীমান্তরক্ষী ও পাকিস্তানি বাহিনীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষ নিয়ে দুই পক্ষ পরস্পরবিরোধী দাবি করেছে।
আফগানিস্তানের ২০১ খালিদ বিন ওয়ালিদ কর্পসের মুখপাত্র ওয়াহিদুল্লাহ মোহাম্মদী বলেছেন, মঙ্গলবার নানগারহার প্রদেশের আচিন ও নাজিয়ান জেলায় হওয়া হামলাগুলো কোনো প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ ছিল না। তিনি জানান, ইমারাতে ইসলামিয়ার সীমান্তরক্ষী বাহিনী কাল্পনিক রেখার (ডুরান্ড লাইন) কাছাকাছি টহল দিচ্ছিল। সেসময় পাকিস্তানি মিলিশিয়ারা তাদের ওপর গুলিবর্ষণ শুরু করে।
ওয়াহিদুল্লাহ মোহাম্মদী জোর দিয়ে বলেন, ইমারাতে ইসলামিয়ার সীমান্তরক্ষী বাহিনীও এর পাল্টা জবাব হিসেবে গুলিবর্ষণ করেছে। তবে এতে আফগান পক্ষের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ২০১ খালিদ বিন ওয়ালিদ কর্পসের এই মুখপাত্রের দেওয়া তথ্যমতে, বর্তমানে সংঘর্ষ থেমে গেছে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে।
এর আগে আজ সন্ধ্যায় নানগারহারের স্থানীয় সূত্রগুলো আফগান সংবাদমাধ্যম ‘সালাম ওয়াতানদার’-কে জানিয়েছিল, ইমারাতে ইসলামিয়ার সীমান্তরক্ষী এবং পাকিস্তানি বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সূত্রগুলোর মতে, আজ বিকেল ৪টার দিকে নানগারহারের নাজিয়ান জেলার কাল্পনিক ডুরান্ড রেখা সংলগ্ন ‘শাহকোট’ এলাকায় এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
অন্যদিকে পাকিস্তানের দাবি, খাইবার জেলায় পাক-আফগান সীমান্তে আফগান তালেবানের পক্ষ থেকে বিনা উসকানিতে গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে নিরাপত্তা বাহিনী তাৎক্ষণিক ও কার্যকর জবাব দিয়ে তালেবানের আগ্রাসন স্তব্ধ করে দিয়েছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের মুখপাত্র মোশাররফ জায়েদি এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানিয়েছেন, আফগান তালেবান তোরখাম ও তিরাহ এলাকায় পাক-আফগান সীমান্তে বিনা উসকানিতে গুলিবর্ষণ করেছে। প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্রের দেওয়া তথ্যমতে, পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী এই আগ্রাসনের তাৎক্ষণিক ও কার্যকর জবাব দিয়েছে।
নিরাপত্তা সূত্রগুলোর মতে, সীমান্তবর্তী এলাকার ৩টি ভিন্ন পয়েন্টে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং প্রায় ১ ঘণ্টা ধরে গোলাগুলির এই ধারা অব্যাহত থাকে। পাক সেনাবাহিনীর সব জওয়ান নিরাপদে রয়েছেন। অন্যদিকে, পাল্টা জবাব দেওয়ার সময় আফগান বাহিনীর একটি চেকপোস্টকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়, যা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র আরও বলেছেন, নতুন করে যেকোনো ধরনের উসকানিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার তাৎক্ষণিক ও কঠোর জবাব দেওয়া হবে। ইনশাআল্লাহ, পাকিস্তান তার নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং নিজেদের আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষার কাজ অব্যাহত রাখবে।
সূত্র : জিয়ো নিউজ ও সালাম ওয়াতানদার












