বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার সর্বোচ্চ বোর্ড আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ-এর অধীনে অনুষ্ঠিত ১৪৪৭ হিজরি সনের দাওরায়ে হাদিস পরীক্ষায় সারাদেশে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন কুমিল্লার বরুড়ার শিক্ষার্থী খালেদ হাছান। তিনি ৯৩২ নম্বর পেয়ে ছাত্রদের মেধা তালিকায় শীর্ষে ওঠেন।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বোর্ডের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটি, পরীক্ষা মনিটরিং সেল, পরীক্ষা উপকমিটি ও নিরীক্ষকদের যৌথ সভায় এ ফল ঘোষণা করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বোর্ডের চেয়ারম্যান মাওলানা মাহমুদুল হাসান।
ঢাকার সূত্রাপুরের মাদরাসা বাইতুল উলূম, ঢালকানগরের শিক্ষার্থী খালেদ হাছান এর আগেও কৃতিত্ব দেখিয়েছিলেন। বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের নাহবেমীর ও শরহে বেকায়া জামাতের পরীক্ষায় বরুড়া দারুল উলুম থেকে সারাদেশে প্রথম স্থান অর্জন করেছিলেন তিনি। খালেদ হাছান কুমিল্লা জেলার বরুড়া থানার ভউরী গ্রামের মাওলানা ফজলুল হকের সন্তান। বর্তমানে তিনি বিশ্বখ্যাত আলেমে দ্বীন আল্লামা মুফতী তাকী উসমানীর তত্ত্বাবধানে উচ্চতর পড়াশোনার জন্য দারুল উলুম করাচিতে অবস্থান করছেন। বরুড়া দারুল উলুমের শিক্ষক মুফতী জহির আহমদ ইনসাফ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এবারের ফলাফলে ছাত্রদের মধ্যে ৯২৮ নম্বর পেয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন চট্টগ্রামের আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়ার শিক্ষার্থী মো. আব্বাস। তৃতীয় স্থানে ৯২৫ নম্বর পেয়ে যৌথভাবে রয়েছেন মুতাসিম বিল্লাহ ও মুহা: আবু রায়হান।
ছাত্রীদের মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অর্জন করেছেন ঢাকার রামপুরার ফাতেমাতুয যাহরা রা. মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষার্থী আসমা। তিনি ৮৯৪ নম্বর পেয়ে শীর্ষে রয়েছেন। দ্বিতীয় স্থানে আছেন লালমনিরহাটের আদিতমারীর দারুল কোরআন মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষার্থী মোছাঃ ফাতিমাতুয যাহরা, তার প্রাপ্ত নম্বর ৮৮৩। তৃতীয় স্থানে রয়েছেন ঢাকার উত্তরা-১০-এর আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া রানাভোলার শিক্ষার্থী তাহসিনা সিদ্দীকা মারিয়া, তিনি পেয়েছেন ৮৮১ নম্বর।
বোর্ডের তথ্যমতে, এবার দাওরায়ে হাদিস পরীক্ষায় মোট ২৩ হাজার ৮৮১ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে ছাত্র ১৫ হাজার ২৬৮ জন এবং ছাত্রী ৮ হাজার ৬১৩ জন। সারা দেশের ২৫৯ কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
ফলাফলে দেখা যায়, বিভিন্ন বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছেন ২১ হাজার ৪৯১ জন এবং অনুত্তীর্ণ হয়েছেন ২ হাজার ৩৯০ জন। উত্তীর্ণদের মধ্যে ছাত্র ১৪ হাজার ১৮৬ জন এবং ছাত্রী ৭ হাজার ৩০৫ জন। ছাত্রদের পাসের হার ৯২ দশমিক ৯১ শতাংশ, আর ছাত্রীদের পাসের হার ৮৪ দশমিক ৮১ শতাংশ।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে মুমতাজ বা স্টার মার্ক পেয়েছেন ছাত্র ১ হাজার ৪৭৮ জন এবং ছাত্রী ৯৭ জন। জায়্যিদ জিদ্দান বা প্রথম বিভাগ পেয়েছেন ছাত্র ৫ হাজার ৮০২ জন এবং ছাত্রী ১ হাজার ১৪৭ জন। মাকবুল বা তৃতীয় বিভাগ পেয়েছেন ছাত্র ২ হাজার ৩৪৭ জন এবং ছাত্রী ২ হাজার ৫৭২ জন।
পরীক্ষা প্রবিধি অনুযায়ী ছাত্র ও ছাত্রীর মেধাক্রম পৃথক করা হয়েছে। ছাত্র ও ছাত্রী প্রতি ৫০০ জনের বিপরীতে একজনকে মেধা তালিকায় নেওয়া হয়েছে। সে হিসেবে ছাত্রদের ক্ষেত্রে ৩১তম এবং ছাত্রীদের ক্ষেত্রে ১৭তম পর্যন্ত মেধা তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।










