spot_img

নতুন রাষ্ট্রপতি দল থেকেই চায় বিএনপি, আলোচনায় ফখরুলসহ একাধিক নাম

মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছেন জাতীয় সংসদের বর্তমান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন।

এরপর থেকেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন মহলে নানা ব্যক্তির নাম আলোচনায় থাকলেও বিএনপি দলীয় নেতৃত্ব থেকেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে চায়।

তবে দলটির নীতিনির্ধারণী ফোরামে আলোচনার পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিএনপির শীর্ষ নেতারা বলছেন, দলের গ্রহণযোগ্য, নৈতিকতাসম্পন্ন, পরীক্ষিত ও বিশ্বস্ত কোনো ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা উচিত।

এখনো সংবিধান সংশোধন না হওয়ায় বিদ্যমান পদ্ধতিতেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। অর্থাৎ জাতীয় সংসদের ৩৫০ জন সদস্য ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবেন।

এ ব্যবস্থায় সংসদ সদস্যরা দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট দিলে তাদের সদস্যপদ বাতিল হওয়ার বিধান রয়েছে। ফলে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিএনপির মনোনীত প্রার্থীই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদ ও দায়িত্বকালকে কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 আলোচনায় যাদের নাম

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দায়িত্ব গ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে জোর আলোচনা চলছে।

এ ছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নামও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে।

এর বাইরে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরীর নামও সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় এসেছে।

তবে বিএনপির নেতাদের একটি বড় অংশ মনে করেন, রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব থেকেই কাউকে বেছে নেওয়া উচিত।

বিশ্বস্ত ও পরীক্ষিত কাউকে চান নেতারা

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী যেভাবে হওয়ার, সেভাবেই হবে। নতুন রাষ্ট্রপতি সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন। স্বাভাবিকভাবেই বিএনপি যাকে মনোনয়ন দেবে, তিনিই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে জাতীয় সংসদ সদস্যদের ভোটে। সংসদে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই দলটির মনোনীত প্রার্থী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি এমন একজন হওয়া উচিত, যিনি দলের প্রতি বিশ্বস্ত ও পরীক্ষিত এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শের অনুসারী।

তার মতে, রাজনৈতিক নেতৃত্ব থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে পক্ষ-বিপক্ষ সবার মধ্যে পারস্পরিক সম্মানবোধ ও রাজনৈতিক নৈতিকতা বজায় থাকে।

মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল আরও বলেন, পেশাজীবীরা সাধারণত একটি নির্দিষ্ট পরিসরে কাজ করেন। কিন্তু একজন রাজনীতিবিদ যেমন সাধারণ মানুষের সঙ্গে চায়ের দোকানে বসতে পারেন, তেমনি রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতায় বঙ্গভবনেও অংশ নিতে পারেন। এ ধরনের গুণাবলি ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তি বিএনপিতে রয়েছেন।

অন্যদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সংবিধানে এ বিষয়ে স্পষ্ট বিধান রয়েছে। রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, সে সিদ্ধান্ত দল আলোচনার মাধ্যমে নেবে। দল থেকে মনোনয়ন দেওয়া হলে প্রার্থীও দলেরই হবেন।

এরপর নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে জাতীয় সংসদে ভোটের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে। রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির ভেতর থেকেই কাউকে মনোনয়ন দেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় রাজনৈতিক বলয়ের বাইরে থাকা কোনো অরাজনৈতিক ব্যক্তির রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনাও বিভিন্ন সমীকরণের ওপর নির্ভর করছে।

পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে বিএনপির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন স্থায়ী কমিটি থেকে।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ