বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ক্ষমতায় গেলে চাঁদাবাজদের পুনর্বাসন নয়, বরং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে; যাতে তারা আর চাঁদাবাজিতে জড়াতে না পারে। জনগণের রায়ে জামায়াত ক্ষমতায় গেলে চাঁদাবাজদের দায়িত্ব নেবে এবং তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে মেহেরপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, শাসন ক্ষমতায় ছিল এমন কোনো দল বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবে না—তারা সততার সাথে দেশ পরিচালনা করেছে। তারা বলতে পারবে না, ব্যাংকগুলো ডাকাতি করা হয়নি। যুবক-যুবতীদের হাতে কাজ তুলে দিতে পারেনি। অতীতে যারা দেশ শাসন করেছে তারা একদিকে দুঃশাসন, লুটপাট ও দুর্নীতি করেছে; আরেকদিকে তারা জাতিকে টুকরো টুকরো করেছে।
তিনি বলেন, মেহেরপুর ছোট জেলা হলেও এখানে চাঁদাবাজ আছে। আজ আমরা এসেছি পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে। আজ আমাদের সাথে আছে বাংলাদেশের আপামর যুবসমাজ। আমাদের সাথে আছে আমাদের মা-বোনেরা। আমাদের পাশে আছে শ্রমিক ভাই-বোনেরা। আমাদের সাথে আছে, এ দেশের বঞ্চিত কৃষক-শ্রমিকেরা। আমাদের সাথে আছেন সকল পেশার মানুষ। কোন দল কী করছে, এটা বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশের সাড়ে ১২ কোটি ভোটার আগামী ১২ তারিখ ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের জোট আজ ঐক্যবদ্ধ। বাংলাদেশের মানুষ তার পক্ষে থাকবে। আজ আমরা সেই গণজোয়ারটা দেখতে পাচ্ছি সমগ্র বাংলাদেশে। জাতির আমানতের এই দ্বায়িত্ব অর্পণ করলে জনগণের সম্পদের ওপর আমরা হাত দেব না। আমরা জনগণের চৌকিদার হয়ে জনগণের আমানত হেফাজত করব। সরকারি তহবিলের প্রত্যেকটি আয়-ব্যয়ের হিসাব আপনাদের সামনে জনসন্মুখে দিতে বাধ্য থাকব।
জামায়াত আমির বলেন, সকল নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার থেকে শুরু করে জাতীয় পরিষদের মেম্বার—সবাইকে তাদের সম্পদের হিসাব জনগণের সামনে দিতে হবে। ৫ বছরে একবার নয়, প্রতি বছরে কমপক্ষে একবার জবাব দিতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা দ্বায়িত্ব পেলে নদীগুলোর জীবন ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করব। নদী জীবন পেলে মাটি জীবন পাবে। মাটি জীবন পেলে আমার মা জীবন পাবে।
২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আমাদের শীর্ষস্থানীয় দুইজন নেতা তিনটি মন্ত্রণালয় পরিচালনা করেছে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, তারা দুর্নীতিমুক্ত, সৎ থেকে দক্ষতার সাথে পরিচালনা করেছে। আমরা দ্বায়িত্ব পেলে সবগুলো মন্ত্রণালয়ে ই ধরনের লোক দিয়ে সাজাব। সেদিন বাংলাদেশ মুক্তির স্বাদ ভোগ করবে।











