spot_img

আন্দোলনকারীদের অধিকাংশ শিক্ষার্থী নন, জামায়াতিপন্থী-মৌলবাদী: শুভেন্দু

ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদ ঘিরে সাম্প্রতিক সহিংসতায় ‘বিদেশি মদদপুষ্ট ইসলামপন্থি মৌলবাদী’ গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে অভিযোগ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

তার দাবি, সহিংসতায় জড়িত অধিকাংশ ব্যক্তি শিক্ষার্থী নন। তারা জামায়াতপন্থি মৌলবাদী। তাদের পেছনে কোনো বিদেশি শক্তির সমর্থন ছিল কি না, তদন্ত সংস্থাগুলো তা খতিয়ে দেখবে।

রোববার (২৬ জুলাই) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘এই ব্যক্তিদের সঙ্গে আন্দোলনের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা শিক্ষার্থী নয়, তারা জামায়াতি ইসলামপন্থি মৌলবাদী। তাদের পেছনে বিদেশি শক্তির সমর্থন ছিল কি না, তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে।’

গত শুক্রবার নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে আয়োজিত বিক্ষোভে বামপন্থি সমর্থিত আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে।

এ ঘটনার পর সহিংসতায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে রাজ্যের সদ্য প্রণীত ‘অ্যান্টি-গুন্ডা’ আইন প্রয়োগের ঘোষণা দিয়েছে প্রশাসন।

শুভেন্দু অধিকারী বলেন, যারা সহিংসতার সঙ্গে জড়িত, তাদের এমন শাস্তি দেওয়া হবে, যা তাদের পরবর্তী তিন প্রজন্মও মনে রাখবে।

এর আগে বিধানসভায়ও তিনি দাবি করেছিলেন, বিক্ষোভ থেকে শনাক্ত হওয়া প্রায় ৭০ জনের কেউই শিক্ষার্থী নন। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গেও তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, রাজ্যে অবৈধ মাদরাসার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ, ওবিসি সনদসংক্রান্ত আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন, গবাদিপশু জবাইসংক্রান্ত আইন প্রয়োগ এবং শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপের প্রতি ক্ষোভ থেকে এই সহিংসতা উসকে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।

বিক্ষোভ চলাকালে এক সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনাও উল্লেখ করেন তিনি। শুভেন্দুর অভিযোগ, সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল এবং তাদের প্রাণনাশেরও চেষ্টা করা হয়।

এদিকে কেন্দ্রীয় সরকার সোমবার লোকসভায় ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’ উত্থাপনের প্রস্তুতি নিয়েছে।

প্রস্তাবিত সংশোধনীতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রতিটি রাজ্যে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন, দুই মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ এবং দোষীদের ন্যূনতম পাঁচ বছর থেকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ রুপি জরিমানার প্রস্তাবও রয়েছে।

সরকার জানিয়েছে, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে এই সংশোধনী আনা হচ্ছে।

তবে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) শনিবার তাদের টানা ৩৬ দিনের আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। দলটির দাবি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং তাদের অন্যান্য দাবি মেনে নিতে সরকার সম্মত হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ