আফগানিস্তানের সঙ্গে নিজেকে যুদ্ধে জড়িত হিসেবে উপস্থাপন করে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির অধীনে থাকা দায়িত্ব থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করছে পাকিস্তান বলে অভিযোগ করেছেন ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের মুখপাত্র মাওলানা জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ। একই সঙ্গে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা থেকে জনগণের দৃষ্টি সরাতেও আফগানিস্তানে হামলা চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) কান্দাহারের একটি মাদরাসায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, পাকিস্তানের সাম্প্রতিক হামলার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো এমন পরিস্থিতি তৈরি করা, যাতে দেশটিকে আফগানিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িত বলে দেখানো যায় এবং এর মাধ্যমে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির দায়িত্ব থেকে দূরে থাকার যুক্তি দাঁড় করানো যায়।
গত ৭ আগস্ট মক্কায় পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। পাশাপাশি তিন দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদারের কথাও এতে রয়েছে।
মুজাহিদ বলেন, ইমারাতে ইসলামিয়া এমন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি, যা পাকিস্তানকে আফগানিস্তানে হামলা চালানোর অজুহাত দিতে পারে।
আফগান ভূখণ্ড থেকে পাকিস্তানে ড্রোন পাঠানোর অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। মুজাহিদ বলেন, আফগান সরকার এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ নিলে তা প্রকাশ্যেই স্বীকার করত এবং কোন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করা হয়েছে সেটিও স্পষ্ট করত।
তিনি বলেন, “পাকিস্তান প্রতিবেশী একটি মুসলিম দেশের ভূখণ্ড লঙ্ঘন করে নিজেদের ব্যর্থতা থেকে জনগণের দৃষ্টি সরাতে চায়।”
পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন মাওলানা জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ। তাঁর অভিযোগ, দেশটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুতর সমস্যার মুখোমুখি এবং চলমান বিক্ষোভ ও অভ্যন্তরীণ সংকট থেকে মানুষের দৃষ্টি সরাতেই আফগানিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ানো হচ্ছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পাকিস্তানে রাজনৈতিক পরিসর সংকুচিত করা হয়েছে এবং দেশটির আইনে যেসব স্বাধীনতার নিশ্চয়তা রয়েছে, জনগণকে সেগুলোও পুরোপুরি ভোগ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
মুজাহিদ পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্বেরও সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, সামরিক নেতৃত্বের ‘ভুল অবস্থান’ পাকিস্তানের সাধারণ জনগণকেই ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, পাকিস্তানি সামরিক নেতৃত্বের ‘দাদাগিরির’ উপযুক্ত জবাব দেবে ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তান।
এর আগে বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর কান্দাহার, পাকতিয়া ও খোস্ত প্রদেশে হামলা চালায় পাকিস্তান। আফগান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব হামলায় চার বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। পাকিস্তান বলেছে, আগের দিন আফগান ভূখণ্ড থেকে ড্রোন প্রবেশের পর তারা দশটি স্থানে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। আফগান সরকার পাকিস্তানের ড্রোনসংক্রান্ত অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
এর তিন দিন আগে, ২১ সেপ্টেম্বর কুনার ও পাকতিকা প্রদেশেও পাকিস্তানি হামলা হয়। আফগান কর্তৃপক্ষ ও জাতিসংঘের তথ্যমতে, ওই হামলায় তিন বেসামরিক মানুষ নিহত হন। পাকিস্তান ওই অভিযানে সশস্ত্র যোদ্ধাদের লক্ষ্যবস্তু করার দাবি করেছে।
সূত্র : আরিয়ানা নিউজ, তানিন টিভি











