আইজিপির ‘অনুমতি পেলে ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত সাম্প্রতিক বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে সরকারের কাছে জবাবদিহি দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীতে এক প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেন, পুলিশ বাহিনীকে সাবেক বিতর্কিত কর্মকর্তাদের মতো আবারও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও ক্রসফায়ারের পথে ঠেলে দিয়ে পুরো বাহিনীকে কলঙ্কিত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, আইজিপি বলছেন, সরকার অনুমতি দিলে নাকি ক্রসফায়ার দিয়ে মানুষ মারতে তাঁরা প্রস্তুত। যারা ক্রসফায়ার আর গুলি করে মানুষ মারার হুমকি দেয়, তারা হচ্ছে ডিবির হারুন আর বেনজীরের বংশধর। এমন বক্তব্যের পর কোনো সভ্য দেশে ওই আইজিপি স্বপদে বহাল থাকতে পারতেন না।
তিনি আরও বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর ভেঙে পড়া মনোবল কাটিয়ে যখন সাধারণ পুলিশ সদস্যরা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন, তখন কতিপয় কর্মকর্তার এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যের কারণে পুরো পুলিশ বাহিনীকে আবারও কলঙ্কিত হতে হচ্ছে। সরকার যদি এই বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত না নেয়, তবে আমরা ধরে নেব তারা আবারও গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অন্ধকার পথকেই বেছে নিচ্ছে।
সমাবেশে মোংলার মিরাজের সন্ধান দাবি করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন কোস্টগার্ডের মাধ্যমে গুমের শিকার ব্যক্তিদের অবিলম্বে ফিরিয়ে দিতে হবে।
তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্য ও সিন্ডিকেট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, মুগদাবাসী গ্যাস সংকটে রান্না পর্যন্ত করতে পারছেন না। ১৮০০ টাকার গ্যাস সিলিন্ডার সাধারণ মানুষকে কিনতে হচ্ছে ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকায়। সরকারের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় এসব সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি জিইয়ে রাখা হয়েছে।
সরকারের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতির সমালোচনা করে তিনি ব্যঙ্গাত্মক সুরে বলেন, সরকার ১৮ মাসে দেড় কোটি কর্মসংস্থানের কথা বলেছিল। আমাদের তথ্য অনুযায়ী তারা ইতোমধ্যে এক কোটি কর্মসংস্থান নিশ্চিত করে ফেলেছে, আর তা হলো মোড়ে মোড়ে প্রকাশ্য চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি! বাংলাদেশের মানুষ চাঁদাবাজির মাধ্যমে এমন কর্মসংস্থান চায়নি।
তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় গড়ে ওঠা চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট বন্ধ না হলে সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে নিজেদের অধিকার আদায় করে নেবে।











