spot_img
spot_img

সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক আফগানিস্তান; দাবি পাক প্রতিরক্ষমন্ত্রীর

বিশ্বের সকল সন্ত্রাসবাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক আফগানিস্তান বলে দাবি করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ।

তিনি বলেন, আফগানিস্তানের বর্তমান তালেবান সরকার আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার পাশাপাশি ভারতের বিভিন্ন প্রক্সি গ্রুপকে ব্যবহার করে পাকিস্তানে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক বার্তায় তিনি এ দাবি করেন।

খাজা আসিফ মতে, পরিস্থিতি এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এটি এখন পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের মধ্যে একটি ‘খোলা যুদ্ধে’ রূপ নিয়েছে।

উভয় দেশের মধ্যে এই উত্তেজনার সূত্রপাত হয় গত রোববার, যখন পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী আফগানিস্তানের নানগারহার ও পাকতিকা প্রদেশে বিমান হামলা চালায়। ওই হামলায় আফগানিস্তানের বহু বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়।

এই হামলার প্রতিশোধ নিতে আফগান বাহিনী পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী সামরিক অবস্থানগুলোতে বড় ধরনের পাল্টা আক্রমণ চালায়। আফগানিস্তানের দাবি অনুযায়ী, সেই হামলায় পাকিস্তানের ৫৫ জন সেনা সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। তবে পাকিস্তান সেনাবাহিনী কেবল দুইজন সেনা নিহতের খবর আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে।

সীমান্তবর্তী এই সংঘাতের জেরে গত রাতে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ কান্দাহার, নানগারহার ও পাকতিয়া প্রদেশের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় পুনরায় বিমান হামলা শুরু করে পাকিস্তান। ইসলামাবাদ দাবি করেছে যে, তাদের সর্বশেষ অভিযানে অন্তত ১৩৩ জন তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছে।

অন্যদিকে, আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তারা পাকিস্তানি বাহিনীর একটি আকাশযান ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ তার বার্তায় আরও উল্লেখ করেন যে, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে আফগানিস্তানের গতিবিধি সম্পর্কে ইসলামাবাদ পূর্ণ সচেতন এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো আপস করা হবে না।

বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই মুসলিম দেশের সীমান্তজুড়ে এক যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সামরিক বাহিনী আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই দেশের এই সরাসরি সংঘাত আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ