দেশে চলমান তীব্র গ্যাস সংকট কাটতে আরও ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল মেরামতের কাজ চলছে। টার্মিনালটি মেরামত করে আমদানি করা গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে জ্বালানি সংকটের কারণে দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
তিনি বলেন, ‘দেশবাসী গ্যাসের অভাবে সমস্যায় আছেন। আমরা এ সংকট থেকে উত্তরণের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছি। আশা করছি, কয়েক দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।’
সোমবার (২৭ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘নেভিগেটিং গ্লোবাল শিফটস: ফস্টারিং এনার্জি সিকিউরিটি অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে জ্বালানিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, দেশে আমদানি করা এলএনজি রূপান্তর করে সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। টার্মিনাল দুটি বেসরকারি খাতের।
তিনি জানান, গত মঙ্গলবার আগুন লাগার পর এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে দেশে তীব্র গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছে। টার্মিনালটি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বিগত সরকার দেশে গ্যাসের উৎপাদন না বাড়িয়ে জ্বালানি খাতকে আমদানিনির্ভর করে তুলেছে। ফলে এখন এলএনজি, এলপিজিসহ বিভিন্ন জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে আমদানি করা জ্বালানির দামও অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।
তিনি জানান, গত ছয় মাসে প্রায় ৩ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি আমদানি করতে হয়েছে। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে।
এর আগে নিজ দপ্তরে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত গ্যাস সংকট এবং বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জ্বালানি খাতের অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুটের বেশি। এ চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। তবে নিজস্ব উৎপাদন ও আমদানি মিলিয়ে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে প্রতিদিন ১১০ কোটি ঘনফুটের বেশি গ্যাসের ঘাটতি থাকছে।
সরবরাহ করা গ্যাসের মধ্যে দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাসক্ষেত্র থেকে আসে প্রায় ১৭৫ কোটি ঘনফুট। আর আমদানি করা এলএনজি থেকে আসে প্রায় ৯৫ কোটি ঘনফুট। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এলএনজি সরবরাহ নতুন করে ৪৫ কোটি ঘনফুট কমে যাওয়ায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তিতাসের আওতাধীন এলাকার সব শ্রেণির গ্রাহক গ্যাসের স্বল্পচাপের মুখে থাকবেন। অন্যান্য গ্যাস বিতরণ কোম্পানির গ্রাহকেরাও সরবরাহ সংকটে পড়েছেন।
তিনি জানান, দুটি টার্মিনালের মাধ্যমে দৈনিক সর্বোচ্চ প্রায় ১১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে সেখান থেকে গড়ে ৯৫ থেকে ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বর্তমানে সরবরাহ অর্ধেকে নেমে আসায় গ্রাহকেরা দুর্ভোগে পড়েছেন।
ভাসমান টার্মিনাল মেরামতের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, টার্মিনাল দুটি বেসরকারি খাতের হলেও সরকার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রথমে ধরে নিয়েছিলাম, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে। পরে ৪৮ ঘণ্টা পার হলেও সমাধান না হওয়ায় আয়ারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বিশেষজ্ঞ আনা হয়েছে।’
প্রতিমন্ত্রী জানান, পেট্রোবাংলা, আরপিজিসিএল ও জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। তারা এক্সিলারেট এনার্জির বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক কারিগরি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন।
বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশও আনা হচ্ছে। সেগুলো এয়ার ফ্রেইটে পৌঁছালে দ্রুত কাস্টমস ছাড়পত্র দিয়ে মেরামতের কাজে ব্যবহার করা হবে।










