spot_img
spot_img

আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো প্রতিষ্ঠা করাই মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির লক্ষ্য: তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির লক্ষ্য হলো সহযোগিতা ও যৌথ প্রতিরক্ষার ভিত্তিতে একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা বলে জানিয়েছেন তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেকি লেভেন্ট গুমরুকচু। তিনি জোর দিয়ে বলেন, চুক্তিটি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক প্রকৃতির এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা সব আঞ্চলিক দেশের জন্য উন্মুক্ত।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) তুরস্কের পার্লামেন্টে তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি উপস্থাপনের সময় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় চুক্তিটি পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটি ও পার্লামেন্টের অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয় এবং আইনপ্রণেতারা প্রস্তাবিত আইন নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখেন।

তুরস্কের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, গত ৭ আগস্ট মক্কায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান, সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ চুক্তিটিতে স্বাক্ষর করেন। তিনি জানান, রিয়াদ ও ইসলামাবাদ ইতোমধ্যে নিজ নিজ দেশের অভ্যন্তরীণ অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে।

তিনি বলেন, “মক্কা চুক্তি শুধু তিন দেশের বিশেষ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সম্প্রসারণ নয়, বরং আমাদের অঞ্চলে ক্রমবর্ধমানভাবে প্রয়োজন হয়ে ওঠা আঞ্চলিক মালিকানার একটি বাস্তব রূপও।”

তিনি জোর দিয়ে বলেন, চুক্তিটি কোনো দেশকে লক্ষ্য করে করা হয়নি এবং এটি সম্পূর্ণভাবে প্রতিরক্ষামূলক প্রকৃতির। আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা সব আঞ্চলিক দেশের জন্য চুক্তিটি উন্মুক্ত থাকবে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, “এই চুক্তি অঞ্চলে কোনো জোট গড়ে তোলার পরিবর্তে একীভূত হওয়ার কথা বলে। এতে বিভাজনমূলক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গিকে ধারণ করা হয়েছে।”

উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই কাঠামোর আওতায় যৌথ প্রতিরোধ সক্ষমতা জোরদার করা, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ইস্যুতে নিয়মিত পরামর্শ করা এবং যৌথ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও সামরিক মহড়ার মাধ্যমে পারস্পরিক সামরিক সক্ষমতা ও সমন্বয় বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

এতে প্রতিরক্ষা শিল্পে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা, যৌথ উৎপাদন, প্রযুক্তি বিনিময় এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় আরও জোরালো প্রচেষ্টার ব্যবস্থাও রয়েছে বলে জানান তিনি।

উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে আরও বলেন, এই চুক্তি বিদ্যমান কোনো জোটের আওতায় তুরস্কের অঙ্গীকারকে প্রতিস্থাপন বা দুর্বল করবে না। বিশেষ করে ন্যাটোর প্রতি তুরস্কের অঙ্গীকার অক্ষুণ্ণ থাকবে। বরং বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তায় অবদান রাখার মাধ্যমে বহুপক্ষীয় প্ল্যাটফর্মগুলোতে তুরস্কের অংশগ্রহণকে এই চুক্তি আরও পরিপূরক করবে।

সূত্র : ইয়েনি শাফাক

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ