spot_img
spot_img

ফিলিস্তিনিদের প্রতি তুরস্কের সমর্থন অব্যাহত থাকবে: এরদোগান

গাজ্জা ও পশ্চিম তীরে দখলদার অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তুরস্কের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে ফিলিস্তিনি ও লেবাননের জনগণের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান। ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের ভিসা সংক্রান্ত বিধিনিষেধের কারণে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে উপস্থিত হতে না পারার বিষয়টিকেও গুরুতর অবিচার হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) আঙ্কারার প্রেসিডেন্ট কমপ্লেক্সে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর বক্তব্য দেওয়ার সময় নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদে নিজের অংশগ্রহণের বিষয়টি তুলে ধরেন এরদোগান। এ সময় সাধারণ পরিষদে ১৬তমবারের মতো বক্তব্য দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

সাধারণ পরিষদের এবারের অধিবেশনের প্রতিপাদ্য ছিল, “আস্থা পুনর্গঠন ও বৈশ্বিক সংহতিকে পুনরুজ্জীবিত করা।” এরদোগান বলেন, আরও ন্যায়সঙ্গত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে তিনি পাঁচ দফার একটি কাঠামো তুলে ধরেছেন। এতে প্রতিনিধিত্ব, আস্থা ও অভিন্ন সমৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, গাজ্জা ও পশ্চিম তীরে ইসরাইলের কর্মকাণ্ড তুরস্কের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম প্রধান উদ্বেগের বিষয় হয়ে রয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের অনুপস্থিতিরও সমালোচনা করেন তিনি। এর কারণ হিসেবে ভিসা সংক্রান্ত বিধিনিষেধের কথা উল্লেখ করেন এরদোয়ান।

এরদোগান বলেন, “দুর্ভাগ্যজনকভাবে ভিসা সংক্রান্ত বিধিনিষেধের কারণে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এ বছরও ব্যক্তিগতভাবে সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দিতে পারেননি।”

দখলদার ইসরাইলি কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণের সঙ্গে মাহমুদ আব্বাসের অনুপস্থিতির তুলনা করে এরদোয়ান বলেন, এই পরিস্থিতি গুরুতর অবিচারের প্রতিনিধিত্ব করে। আঞ্চলিক সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ফিলিস্তিনি ও লেবাননের জনগণের প্রতি তুরস্কের সমর্থনের কথাও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি আরও বলেন, “আমরা এ অবস্থান থেকে পিছপা হব না।” সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষে তুরস্কের অব্যাহত অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি এ কথা বলেন।

এরদোগান বলেন, যাদের কর্মকাণ্ডকে আঙ্কারা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে, তাদের আইনের আওতায় জবাবদিহির মুখোমুখি না করা পর্যন্ত তুরস্ক তার অবস্থান বজায় রাখবে।

তিনি বলেন, “যারা মানবতাবিরোধী অপরাধ করে, যারা গাজ্জায় আমাদের ৭৪ হাজার ভাই-বোনের রক্ত ঝরিয়েছে এবং যারা লেবানন থেকে সিরিয়া পর্যন্ত আমাদের অঞ্চলে সন্ত্রাস ছড়িয়েছে, তাদের আইনের আওতায় জবাবদিহির মুখোমুখি না করা পর্যন্ত আমরা কখনোই আমাদের অবস্থান থেকে সরে আসব না।”

এরদোগান আরও বলেন, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তুরস্ক এখন আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী ও আত্মবিশ্বাসী অবস্থানে রয়েছে। দেশের ভেতরে ঐতিহাসিক সম্পর্কগুলো পুনঃপ্রতিষ্ঠার পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আবারও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলছে তুরস্ক।

তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি রাষ্ট্র, যে বড় করে চিন্তা করে, বড় পদক্ষেপ নেয়, উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করে এবং দৃঢ়তার সঙ্গে সেই লক্ষ্যগুলোর দিকে এগিয়ে যায়।”

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরের বিপরীতে অবস্থিত তুর্কেভি সেন্টারের ভূমিকাও তুলে ধরেন এরদোগান। পাঁচ বছর আগে চালু হওয়া এই ভবনটি তুরস্কের কূটনৈতিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, সেখানে বহু রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানকে স্বাগত জানানো হয়েছে।

নিউইয়র্ক সফরের সময় এরদোগান ১৭ জন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। এছাড়া আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণে আমেরিকা ও উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে আয়োজিত একটি বৈঠকে অংশ নেন তিনি। সেখানে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিষয়ে তুরস্কের মতামত তুলে ধরেন।

এরদোয়ান আমেরিকার ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। এ সময় তুরস্কে বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি তুর্কি, আমেরিকান ও মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানেও অংশ নেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় অনুষ্ঠিত বৈঠক ও যোগাযোগগুলো তুরস্ক, দেশটির নাগরিক এবং সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য সুফল বয়ে আনবে বলে তিনি আশা করেন।

এরদোগান বলেন, ২৬ সেপ্টেম্বর ২১তম মুসিয়াদ এক্সপো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা এবং ২৯তম আন্তর্জাতিক ব্যবসা ফোরামের সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন তিনি। এসব আয়োজন নতুন অংশীদারত্বের পথ খুলে দেবে বলে আশা প্রকাশ করেন এরদোয়ান। আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক যোগাযোগ জোরদারে মুসিয়াদের প্রচেষ্টারও প্রশংসা করেন তিনি।

সূত্র : ইয়েনি শাফাক

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ