অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের নির্বাচনে আরব দলগুলোর রেকর্ড সাফল্যের পর ভোট চুরির অভিযোগ তুলেছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ পার্টি। বুধবার (২৮ অক্টোবর) দলটি দাবি করেছে, ঘুষ, হুমকি, সহিংসতা, জালিয়াতি ও অবৈধ সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে আরব দলগুলো নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করেছে। এ ঘটনায় পুলিশ ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতের তদন্ত দাবি করেছে লিকুদ।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আরব নেতৃত্বাধীন রা’আম ও জয়েন্ট লিস্ট রেকর্ডসংখ্যক ভোট পেয়েছে। ২৮ অক্টোবরের হিসাব অনুযায়ী, দল দুটির সম্মিলিত আসনসংখ্যা ১৯-এ পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়, যা তাদের বর্তমান ১০ আসনের প্রায় দ্বিগুণ। এই ফলের কারণে সরকার গঠনের সমীকরণে আরব দলগুলো গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে উঠে এসেছে।
বুধবার এক বিবৃতিতে লিকুদ বলেছে, আরব দলগুলো সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে এবং ইহুদি রাষ্ট্রের বিলুপ্তি চায়। দলটির অভিযোগ, ঘুষ, হুমকি, সহিংসতা, জালিয়াতি এবং ভোটারদের সংগঠিত করতে অবৈধ সফটওয়্যার ব্যবহারের মতো অপরাধের মাধ্যমে নির্বাচন ‘চুরি’ করা হয়েছে।
লিকুদ জানিয়েছে, তারা পুলিশ, শিন বেত ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির কাছে শত শত সাক্ষ্য ও অন্যান্য প্রমাণ জমা দিয়েছে। দলটির দাবি, এসব প্রমাণের মধ্যে রয়েছে নগদ অর্থ ও রা’আমের প্রতীকসংবলিত হাজারো খাম, ভোটকেন্দ্রের কমিটির সদস্যদের হুমকি ও তাঁদের ওপর সহিংসতা, ভোট দেওয়ার গোপন কক্ষে একাধিক ব্যক্তির প্রবেশ, একাধিকবার ভোট দেওয়া এবং ভোটারের সংখ্যা ও ব্যালটের খামের সংখ্যায় অসংগতি।
এ ছাড়া ভোটারদের সংগঠিত করতে অবৈধ সফটওয়্যার ব্যবহারের অভিযোগও তুলেছে দলটি। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে লিকুদ।
তবে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি জানিয়েছে, নির্বাচনের স্বচ্ছতা কিংবা ফলাফলে সম্ভাব্য ভুল নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর করা সব অভিযোগ নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। কমিটির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ডিন লিভনে ২৫ অক্টোবর, নির্বাচনের দুই দিন আগে, সব রাজনৈতিক দলকে অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবহিত করেছিলেন। লিকুদের আবেদন পাওয়ার পর সেটিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কমিটি।
এর আগে নির্বাচনের দিন কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি জানিয়েছিল, ব্যাপক ভোট জালিয়াতি বা ভোট কারচুপির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। লিকুদের অভিযোগের পরও কমিটি সেগুলো পর্যালোচনার কথা জানিয়েছে।
এদিকে নির্বাচনের আগেই হিব্রু ভাষার সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছিল, নেতানিয়াহু জয়ী না হলে আরব অধ্যুষিত এলাকার ফল চ্যালেঞ্জ করে নির্বাচন ‘চুরি’ হওয়ার অভিযোগ তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল লিকুদ। দলটির পক্ষ থেকে আরব এলাকার ভোটকেন্দ্রগুলোর ফল নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ প্রস্তুত করা হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়।
আরব দলগুলোর রেকর্ড ফলের কারণে ১২০ আসনের নেসেটে সরকার গঠনের সমীকরণও জটিল হয়ে উঠেছে। ২৮ অক্টোবরের প্রায় ৮৬ শতাংশ ভোট গণনায় নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি, গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৪৮টি এবং আরব দলগুলো ১৯টি আসনে ছিল। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন।
সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল, রয়টার্স











