spot_img
spot_img

ইমরান খানের আপিল আবেদন ফেরত দিলেন সুপ্রিম কোর্ট

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এবং তার স্ত্রী বুশরা বিবির একটি আপিল আবেদন ফেরত দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।

১৯০ মিলিয়ন পাউন্ডের দুর্নীতি মামলায় সাজা স্থগিতের আবেদন নিষ্পত্তি না করে ইসলামাবাদ হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে এই আপিল দায়ের করা হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার অফিস আপিলের ওপর আপত্তি তুলে তা ফেরত পাঠায়।

রেজিস্ট্রার অফিসের উত্থাপিত আপত্তিতে বলা হয়েছে, ইসলামাবাদ হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকার সুপ্রিম কোর্টে নয়, বরং ফেডারেল কনস্টিটিউশনাল কোর্ট, এফসিসি, হওয়া উচিত।

তবে ইমরান খান ও বুশরা বিবির আইনজীবী সালমান সাফদার এই আপত্তির বিরোধিতা করেছেন।

তিনি যুক্তি দেখিয়েছেন, সংবিধানের ১৮৫(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টে এই আপিলটি সম্পূর্ণ গ্রহণযোগ্য।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১৯৯৯ সালের ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টেবিলিটি অর্ডিন্যান্সের ৩২এ ধারা অনুযায়ী হাইকোর্টের নির্দিষ্ট কিছু সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এফসিসিতে দ্বিতীয় আপিলের বিধান রয়েছে। তবে জামিন বা সাজা স্থগিতের আবেদনের আদেশের বিরুদ্ধে এফসিসিতে আপিল করার কোনো স্পষ্ট আইনি বাধ্যবাধকতা এনএওতে নেই। ফলে সুনির্দিষ্ট সংবিধিবদ্ধ প্রতিকারের অনুপস্থিতিতে এই আদেশ চ্যালেঞ্জ করার একমাত্র উপযুক্ত ফোরাম হলো পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট।

এর আগে মে মাসের শুরুতে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট সাজা স্থগিতের আবেদনটি নিষ্পত্তি করে দেয়। আদালত তখন যুক্তি দেয়, মূল আপিলের শুনানির তারিখ ইতিমধ্যে নির্ধারিত হওয়ায় আলাদাভাবে সাজা স্থগিতের আবেদন বিবেচনার যৌক্তিকতা নেই।

দায়ের করা আপিলে ইমরান খান উল্লেখ করেছেন, কারাবন্দী থাকা অবস্থায় তিনি চোখের সমস্যায় আক্রান্ত হন এবং চিকিৎসার জন্য তাকে কারাগারের বাইরে নিয়ে যেতে হয়েছিল। গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তাকে এভাবে বন্দি রাখা অন্যায় এবং দীর্ঘস্থায়ী নির্জন কারাবাস তাকে চরম মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে ফেলেছে বলেও আবেদনে বলা হয়।

আবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়, সাজা স্থগিতের আবেদনটি ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বিত করা হয়েছে। তথ্য-প্রমাণের প্রাথমিক মূল্যায়ন ছাড়া আবেদনটি খারিজ করা ভুল ছিল উল্লেখ করে এতে বলা হয়, মামলার মেরিট পরীক্ষা করার আইনি ক্ষমতা আদালতের রয়েছে।

এ ছাড়া ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টেবিলিটি ব্যুরো, নাব, বারবার সময় চেয়ে বিচারপ্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করেছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

আবেদনে দাবি করা হয়, ইমরান খানের এই গ্রেফতার সম্পূর্ণ বেআইনি ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল।

সূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ