spot_img

শাপলা চত্বরে গণহত্যা; কারাগারে পাঠানো হলো লতিফ সিদ্দিকীকে

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশ ঘিরে সংঘটিত গণহত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

শুনানিতে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম তিনি বলেন, এ মামলায় পরোয়ানা মূলে লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এখন পর্যন্ত আসামিপক্ষ থেকে কোনো আবেদন করা হয়নি। অতএব তাকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করছি।

শুনানি শেষে আবেদনটি মঞ্জুর করে লতিফ সিদ্দিকীকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

প্রসিকিউশন জানায়, শাপলা চত্বরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

এর আগে, ২৭ জুলাই এ মামলায় প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩১ জনের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও ১০ জনকে হাজিরের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। একইসঙ্গে পরবর্তী শুনানির জন্য ১৬ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়।

বর্তমানে এ মামলায় গ্রেপ্তার রয়েছেন আটজন। তারা হলেন- সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহীদুল হক, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু।

অন্য মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে রয়েছেন হাসানুল হক ইনু। এছাড়া আবদুর রাজ্জাকও গ্রেপ্তার আছেন। বাকিরা পলাতক।

মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় সুনির্দিষ্ট দুটি অভিযোগ আনা হয়। প্রথম অভিযোগে ২০১৩ সালের ৫ মে সংঘটিত শাপলা চত্বরে আবু বকর সিদ্দিকসহ ৩২ জনকে হত্যার ঘটনা আনা হয়। দ্বিতীয় অভিযোগে ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ছাদেক মিয়াসহ ২০ জনকে হত্যা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে হওয়া নিহতের ঘটনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া রাশেদুল ইসলাম, আবু ইউসুফসহ বহু মানুষকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি ও নির্যাতনের মাধ্যমে গুরুতর আহত করা হয়। এসব ঘটনা গণহত্যা, হত্যা, হত্যাচেষ্টা, নির্যাতন, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় লক্ষ্যভিত্তিক নিপীড়ন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল বলে উল্লেখ করে প্রসিকিউশন।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ