দেশের ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী ও মানসম্মত করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত ইতমিনান বোর্ড বাংলাদেশের অধীন ৬১টি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১ হাজার ২৫০ শিক্ষার্থীকে শিক্ষা বৃত্তি ও সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে (আইইবি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ২০২৫ সালের বৃত্তি পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূর। এ ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন, ময়মনসিংহ-২ আসনের সংসদ সদস্য মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের মহাপরিচালক মুফতী মুহিব্বুল্লাহিল বাকী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মাদ গোলাম রব্বানী এবং আন্তর্জাতিক ক্বারি আহমদ বিন ইউসুফ আল-আজহারী প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নুরুল হক নূর বলেন, “হাফেজ বা মাদরাসা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ শুধু ইমামতি বা খতিবের দায়িত্বের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তারা চাইলে রাষ্ট্রের উচ্চপদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিজেদের যোগ্যতা ও দক্ষতার মাধ্যমে অবদান রাখতে পারেন।”
তিনি বলেন, “সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে আলেমরা দায়িত্ব পালন করলে দেশ ও সমাজের নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজ আরও সুষ্ঠু, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখীভাবে পরিচালিত হবে।”
বর্তমান যুগের চাহিদা বিবেচনায় মাদরাসা শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি, ফ্রিল্যান্সিং ও কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ হয়ে ওঠার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে দেশ-বিদেশে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।”
তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি আলেমদের ব্যাপক সম্মান এবং উচ্চ বেতনে কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে।
নুরুল হক বলেন, “প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে কাজ চলছে। এ বিষয়ে শিগগিরই ইতিবাচক অগ্রগতির খবর পাওয়া যাবে।”
ইতমিনান বোর্ড বাংলাদেশের প্রধান মুফতী মুসা খান বলেন, ভবিষ্যতে দেশের আরও বেশিসংখ্যক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এ শিক্ষাব্যবস্থার আওতায় আনা, প্রযুক্তিনির্ভর মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করা এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি, অপরাধী অবশ্যই আইনের আওতায় আসবে। কিন্তু অভিযোগ প্রমাণের আগেই কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে হেয় করা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। এতে পুরো শিক্ষাব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”
গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “যাচাই-বাছাই করে দায়িত্বশীলভাবে সংবাদ প্রকাশ করুন, যাতে ভুল তথ্যের কারণে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে অযথা উদ্বেগ সৃষ্টি না হয়।”
ইতমিনান বোর্ডের প্রধান বলেন, “নূরানী মাদরাসা, মক্তব, ইসলামিক স্কুল ও কিন্ডারগার্টেন মাদরাসাগুলো শুধু শিক্ষার প্রসারেই নয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও মানবসম্পদ উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই বেফাকসহ যেসব প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় বোর্ডের আওতায় রয়েছে এবং দেশের প্রচলিত আইন মেনে পরিচালিত হচ্ছে, সেসব প্রতিষ্ঠানকে নিরুৎসাহিত না করে সহযোগিতা করা প্রয়োজন।”
তিনি বলেন, “ইতমিনান বোর্ড বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আমরা অঙ্গীকার করছি, ইসলামী মূল্যবোধ, আধুনিক শিক্ষা ও নৈতিক চরিত্র গঠনের মাধ্যমে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করে যাব, ইনশাআল্লাহ।”
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ইতমিনান বোর্ডের অধীনে বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় এক হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা ইসলামী শিক্ষার পাশাপাশি জাতীয় শিক্ষাক্রম অনুযায়ী পাঠ গ্রহণ করছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস প্রণয়ন করেছে ইতমিনান বোর্ড বাংলাদেশ।










