টিপকাণ্ডে মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া নাজমুল তারেক সুষ্ঠু তদন্ত না হওয়ার প্রতিবাদে অবশেষে “চাকুরি ফেরত চাই, তদন্ত কর্মকর্তার বিচার চাই, লতা সামাদ্দারের বিচার চাই” লিখিত প্ল্যাকার্ড গলায় ঝুলিয়ে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান করছেন।
আজ মঙ্গলবার (৩০ আগস্ট) গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, বাসা থেকে ওইদিন সকাল ৮টায় বের হয়েছিলাম। সেদিন রাস্তায় জ্যাম থাকায় আমি উল্টো দিক দিয়ে রওনা হই। তখন মোবাইলে কথা বলতে বলতে যাচ্ছিলো (লতা সামাদ্দার) এক ভদ্র মহিলা। তার সাথে আমার মোটর সাইকেলের সামান্য ধাক্কা লাগে। সাথে সাথে উত্তেজিত হয়ে সেই মহিলা আমাকে বকাঝকা করতে থাকেন। ওই মহিলা বলেন, এই বাষ্টার্ড! তুই কি রাস্তার উল্টো দিকে যেতে পারিস?
তিনি বলেন, আমি উত্তেজিত না হয়ে তাকে বলি, ম্যাডাম! সরি। এই বলে আমি যখন পুনরায় যাওয়া শুরু করি, তখন সেই ভদ্র মহিলা আমাকে পেছন থেকে টেনে ধরে মোটর সাইকেল থেকে ফেলে দেয়। ঘটনা যেনো বড় না হয়, সেজন্য আমি দ্রুত চলে আসি। পরে আমি মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারি, টিপ পরার কারণে সেই মাহিলা হেনস্তার শিকার। অথচ টিপ বিষয়ে কোন কথা হয়নি আমাদের মধ্যে। উনি আমাকে বাইক থেকে ফেলে দিয়ে অপরাধ করেছে, সেই অপরাধ ঢাকতে মিডিয়ার সামনে মিথ্যা বলেন। উনি আমাকে মিথ্যা বলে ফাঁসিয়েছেন। আমি এই ভদ্র মহিলার বিচার চাই। সেই সাথে তদন্ত কমিটির বিচার চাই।
তিনি গণমাধ্যমকে আরও বলেন, টিপকাণ্ডে আমি মিথ্যা অভিযোগের শিকার হয়েছি। দীর্ঘদিন চাকুরি না থাকায় স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে বেশ কষ্টে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে আমাকে। আমি অবিলম্বে আমার চাকুরি ফেরত চাই। সেই সাথে তদন্ত কর্মকর্তা ও লতা সামাদ্দারের উপযুক্ত বিচার চাই।
চলতি বছরের ২ এপ্রিল তেজগাঁও কলেজের থিয়েটার অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক লতা সমাদ্দার টিপ পরায় হেনস্তার শিকার হয়েছেন। এমন ঘটনা জানাজানি হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। পরবর্তীতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হলে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য নাজমুল তারেককে শনাক্ত করা হয়। তবে ঘটনার পরিপূর্ণ তদন্ত না শেষ হতেই নাজমুল তারেককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
তদন্ত শেষ হয় ৭ এপ্রিল। প্রাথমিক তদন্তে কমিটি তর্কাতর্কির সত্যতা পেলেও তা বাইকের ধাক্কাকে কেন্দ্র করে হয়েছে বলে প্রমাণ পায় তদন্ত কমিটি।
সে সময় ডিএমপির একটি সূত্র জানায়, ঘটনার পর তদন্ত কমিটি লতা সমাদ্দার ও কনস্টেবলকে পৃথকভাবে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করে। ওই কনস্টেবলকে পৃথকভাবে পুরো ঘটনা জানতে চায় তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। কনষ্টেবলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মোটরসাইকেলের ধাক্কাকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত। অন্যদিকে লতা সমাদ্দারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি স্বীকার করেছেন, তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়েছিল। আর সেই বাকবিতণ্ডার সূত্র হয় মোটরসাইকেলের ধাক্কাকে কেন্দ্র করেই।
ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস হতে চললো। এখনো পুলিশ সদস্য নাজমুল তারেকের উপর থেকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়নি।











