জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বর্তমান সরকার সত্যিকার অর্থে বিএনপির নিখোঁজ নেতা এম ইলিয়াস আলীর চেতনা এবং গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করলে গুমবিরোধী অধ্যাদেশ বাতিলের মতো সিদ্ধান্ত নিত না।
তিনি বলেন, গুমের বিচার, সত্য উদ্ঘাটন এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পরিবর্তে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) মধ্যরাতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ওসমানীনগরের গোয়ালাবাজারে এনসিপির ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত পদযাত্রা-পরবর্তী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, এই জনপদ মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক মোহাম্মদ আতাউল গনি ওসমানী এবং ভারতীয় আধিপত্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা এম ইলিয়াস আলীর এলাকা। তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলতে চাই, ইলিয়াস আলী টিপাইমুখ বাঁধবিরোধী আন্দোলনসহ ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন।
তিনি বলেন, সেই আন্দোলনের কারণেই তিনি গুমের শিকার হন। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের যোদ্ধারা এবং এনসিপি ইলিয়াস আলীর সেই চেতনাকেই ধারণ করে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বর্তমান সরকার ইলিয়াস আলীর দলের সরকার হয়েও নিজ দলের নেতার আদর্শ ধারণ করছে না। তা করলে গুমবিরোধী অধ্যাদেশ বাতিল করার সাহস করতে পারত না।
নাহিদ ইসলাম বলেন, এনসিপি বিশ্বাস করে, ইলিয়াস আলীর গুম বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি কালো অধ্যায়। গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষ আশা করেছিল, নতুন বাংলাদেশে আর কোনো গুমের ঘটনা ঘটবে না।
তিনি বলেন, কিন্তু দুঃখের বিষয়, গুম কমিশনকে কার্যত পাশ কাটিয়ে আবারও গুমের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।
কুড়িগ্রাম, সিলেটের গোলাপগঞ্জ ও হবিগঞ্জে এনসিপির নেতা-কর্মী এবং গাড়িবহরে হামলার প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, হবিগঞ্জে বিএনপির সন্ত্রাসীরা এক কলেজছাত্রের চোখ উপড়ে দিয়ে তাকে সারা জীবনের জন্য অন্ধ করে দিয়েছে। বিএনপি যদি তাদের তৃণমূল নেতা-কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয় এবং বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির ওপর দমন-পীড়ন অব্যাহত রাখে, তাহলে অদূর ভবিষ্যতে সরকারের জন্যও এর নেতিবাচক পরিণতি তৈরি হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা চাই, হামলায় আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত হোক, গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হোক। একই সঙ্গে ইলিয়াস আলীর আদর্শ ধারণ করে সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধ এবং পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সরকারের দেশপ্রেমের সঙ্গে কাজ করার কোনো বিকল্প নেই।
ওসমানীনগর উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক মোশাহিদ আলীর সভাপতিত্বে এবং জাতীয় ছাত্রশক্তির সিলেট জেলা শাখার যুগ্ম সদস্যসচিব আশরাফুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এবং জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির কেন্দ্রীয় নেত্রী ডা. মাহমুদা মিতু।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ইলিয়াস আলী ভালো, তাহসিনা আপাও ভালো, ভালো নেই শুধু হবিগঞ্জের জি কে গউছ। কারণ তিনি সন্ত্রাসকে লালন করেন।
তিনি বলেন, ওসমানীনগর শান্ত থাকলেও বিএনপির কিছু নেতা-কর্মী মাসিক চাঁদার বিনিময়ে পলাতক আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের এলাকায় ফিরিয়ে এনে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, আমি ডান-বাম সবার বিষয়ে কথা বলি বলেই অনেকেই আমাকে চুপ করিয়ে দিতে চান।
এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, “যেখানেই আমাদের কর্মসূচি হচ্ছে, সেখানেই সন্ত্রাসী হামলা, গাড়িবহরে হামলা ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়।
মধ্যরাত পেরিয়ে গভীর রাত হলেও সিলেটের ওসমানীনগরে দেশপ্রেমিক মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। মুষলধারে বৃষ্টি কিংবা সম্ভাব্য হামলার শঙ্কা, কোনোটিই তাদের দৃঢ় মনোবল দমাতে পারেনি। জনতার এ স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ যেন জানিয়ে দিয়েছে, আদর্শের পথে অটল মানুষকে ভয় দেখিয়ে থামানো যায় না।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে উপস্থিত নেতারা আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মোশাহিদ আলীকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে সমর্থনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে উপস্থিত জনতার কাছে তার পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন।










