spot_img
spot_img

শিশু ও নারীদের লাশও আটকে রেখেছে ইসরাইল, মানবিক সংকটে বিপর্যস্ত ফিলিস্তিন

গাজ্জা যুদ্ধের কারণে ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের কাছে আটক ফিলিস্তিনিদের লাশ নিয়ে দীর্ঘদিনের সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ইসরাইল প্রায় ১ হাজার ৭০০ ফিলিস্তিনির লাশ আটকে রেখেছে। এসব লাশের বেশির ভাগই গাজ্জার বাসিন্দাদের। ভবিষ্যতে বন্দি বা জিম্মি বিনিময়ের আলোচনায় এগুলো ব্যবহারের জন্য রাখা হয়েছে।

ফিলিস্তিনি সংগঠন ‘ন্যাশনাল ক্যাম্পেইন ফর দ্য রিট্রিভাল অব মার্টার্স বডিজ অ্যান্ড ডিসক্লোজার অব দ্য ফেট অব দ্য মিসিং’ জানিয়েছে, ইসরাইলের কাছে আটক ৭৯৯ ফিলিস্তিনির নাম তারা নথিভুক্ত করেছে। এর মধ্যে ২৫৬ জনকে ‘নম্বরের কবর’ নামে পরিচিত সামরিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। আটক লাশগুলোর মধ্যে ৮১ শিশু ও ১০ নারীও রয়েছেন।

ফিলিস্তিনিরা ইসরাইলের এসব গোপন সামরিক কবরস্থানকে ‘নম্বরের কবর’ বলে থাকে। সেখানে মরদেহের নাম প্রকাশ না করে কবরের ওপর একটি নম্বর দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট তথ্য একটি নথিতে সংরক্ষণ করা থাকে। এসব কবরস্থান সাধারণত সামরিক নিয়ন্ত্রিত এলাকায় হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা সেখানে যেতে পারেন না। ফলে বহু পরিবার বছরের পর বছর স্বজনের কবরের অবস্থান বা মৃত্যুর প্রকৃত তথ্য জানতে পারে না।

ফিলিস্তিনিদের লাশ আটকে রাখার ঘটনা নতুন নয়। ২০১৫ সালের পর ইসরাইল এ নীতি আরও বিস্তৃত করে। ২০১৭ সালে দেশটির নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা আলোচনায় ব্যবহারের সম্ভাবনা রেখে কিছু মরদেহ আটকে রাখার অনুমোদন দেয়। ২০১৯ সালে ইসরাইলের সুপ্রিম কোর্টও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আলোচনার অংশ হিসেবে মরদেহ আটকে রাখার অনুমতি দেয়। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে এ নীতির সমালোচনা করে আসছে।

এদিকে গাজ্জা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সংকট আরও বড় হয়েছে। ফিলিস্তিনি সংগঠনটির হিসাবে, ২০২৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইসরাইল গাজ্জায় ৯৩০টি মরদেহ ফেরত দিয়েছে। এর সঙ্গে মানবদেহের দেহাবশেষ ভর্তি ৬৬টি বাক্সও ফেরত দেওয়া হয়। তবে এসব মরদেহ শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। পর্যাপ্ত ডিএনএ পরীক্ষার সরঞ্জাম না থাকায় পরিবারগুলোর দেওয়া তথ্য ও প্রচলিত পদ্ধতিতে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

গাজ্জার ধ্বংসস্তূপের নিচেও হাজারো মরদেহ আটকে রয়েছে। গাজ্জার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য তথ্য ইউনিটের পরিচালক জাহের আল-ওয়াহিদি ২০ আগস্ট জানিয়েছেন, প্রায় ৭ হাজার ৪০০ মরদেহ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে আছে। উদ্ধারকারী দল অনেক এলাকায় পৌঁছাতে পারছে না।

গাজ্জার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইলি হামলায় গাজ্জায় ৭৩ হাজার ৪০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪০০-এর বেশি আহত হয়েছেন। ফলে নিহতদের পরিচয় শনাক্ত ও মরদেহ উদ্ধার করা এখন বড় মানবিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী, যুদ্ধে শহিদ ব্যক্তিদের লাশ ও কবরের প্রতি সম্মান দেখানো এবং পরিস্থিতি সম্ভব হলে মরদেহ পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। জেনেভা কনভেনশনের অতিরিক্ত প্রটোকল-১-এর ৩৪ নম্বর ধারাতেও এ বিষয়ে বিধান রয়েছে।

সূত্র: ডেইলি সাবাহ

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ