মার্চ ২৪, ২০১৭

গণতান্ত্রিক রাজনীতি

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

মারুফ কামাল খান (খালেদা জিয়ার প্রেস সচিব)


মারুফ-কামাল-খান
মারুফ কামাল খান

কয়েকদিন আগে বাংলাদেশের একজন রাজনৈতিক নেত্রী সম্পর্কে অন্য এক নেত্রী কটুক্তি করে বলেছেন যে, তিনি গণতন্ত্র বানান জানেন কিনা সন্দেহ।

তার এই কথার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা একটু খতিয়ে দেখছি নিজের জ্ঞান নিয়ে বড়াই করা নেত্রী নিজে কতটা গণতন্ত্র বুঝেন এবং কতটা এর চর্চা করেন।

গণতান্ত্রিক রাজনীতি নিয়ে কথা বলতে হলে পয়লাই আমাদেরকে বুঝতে হবে রাজনীতি কাকে বলে। জানতে হবে গণতন্ত্র আসলে কী?
রাজনীতি শব্দটি অনুবাদ করা হয়েছে ইংরেজি Politics শব্দ থেকে। পলিটিক্স কথাটি এসেছে গ্রিক শব্দ πολιτικός (Politikos) থেকে। পলিটিকোস অর্থ হচ্ছে নাগরিক বা জনগণের সেই সকল কার্যক্রম যেগুলো জনগণের জন্য ও জনগণ সম্পর্কিত। ইংরেজিতে বলা হয়: “Activities of, for, or relating to citizens.”

আর গণতন্ত্র? গণতন্ত্র মূলত রাষ্ট্র পরিচালনার একটি পদ্ধতি। গণতন্ত্র মানে সাধারণ মানুষের রাষ্ট্রপরিচালনা। আগে ছিল রাজার শাসন। রাজাই ছিলেন দেশের মালিক। গণতন্ত্রে রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণের হাতে থাকে। তারা তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মারফতে রাষ্ট্র পরিচালনা করেন। একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য জনসাধারণ ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করে দেন। সেই প্রতিনিধিরা ভোটের আগে জনসাধারণের কাছে তাদের কর্মসূচি পেশ করেন। জনগণ ভোট দিয়ে যাদের কর্মসূচি অনুমোদন করে দেন তারাই নির্দিষ্ট মেয়াদে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পান। আমেরিকান যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম স্থপতি এবং আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার রূপকার আব্রাহাম লিঙ্কন গণতন্ত্রকে প্রতিনিধিত্বশীল শাসন ব্যবস্থা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। গণতান্ত্রিক সরকারের পরিচয় তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেছেন: A government of the people, for the people, by the people. অর্থাৎ জনগণের এমন একটি সরকার যেটি জনগণের জন্য জনগণই গঠন বা নির্বাচিত করেন।

তাহলে জনগণ যে সরকার গঠন বা নির্বাচন করেনি সেটি গণতান্ত্রিক সরকার নয়। অগণতান্ত্রিক সরকার গঠন ও পরিচালনাকেও রাজনীতি বলা যাবে না। এ ধরণের সরকার রাজতন্ত্র, ব্যক্তিতন্ত্র, দলতন্ত্র বা পুলিশতন্ত্র হতে পারে। এগুলোর সবই স্বৈরতন্ত্র।
স্বৈরতন্ত্র চালিয়ে গণতন্ত্রের বুলি কপচানো মূলতঃ কপটতা, ধোঁকাবাজি বা মুনাফেকির শামিল।