ভ্যালেন্টাইনস্ ডে॥ বিজাতীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসন : সাদিয়া আহমদ আনিকা

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

ভারতীয় উপমহাদেশে তৎকালীন বৃটিশ শাসনামলে যখন ইউলিয়াম বেন্টিক ভারতের গভর্ণর জেনারেল, সে সময় বেন্টিকের নির্বাহী পরিষদের আইন সদস্য হিসেবে মিঃ ম্যাকলে যোগদান (১৮৩৪ খ্রীঃ) করেন। ম্যাকলেকে পেয়ে বেন্টিক তো মহাখুশী। গভর্ণর জেনারেল বললেন, আপনি আমাকে দুটি কাজ করে দিন। একটি হচ্ছে এদেশের জন্য প্যানাল কোড আর অন্যটি হচ্ছে শিক্ষানীতি। ম্যাকলে বললেন, স্যার! চিন্তার কোন কারণ নেই। আমি অতি অল্প সময়ের মধ্যে এ দু’টি করে দিচ্ছি। এমনভাবে তৈরি করে দিব যে, ব্রিটিশ জাতি আপনাকে এবং আমাকে শতাব্দীর পর শতাব্দী স্মরণ করবে। শিক্ষানীতি হবে এমনই যে, আমার প্রনীত শিক্ষানীতির দ্বারা এমন একটা শ্রেণী এ দেশে তৈরি হবে, যারা রংয়ে, রক্তে আর আকৃতিতে হবে ভারতবাসী, কিন্তু নৈতিকতা, সংস্কৃতি ও মগজে তারা হবে ব্রিটিশ স্বার্থ রক্ষার চরিত্রে চরিত্রবান।

আমরা যদি এদেশে নাও থাকি, তাহলেও আমাদের আইন ও আমাদের শিক্ষানীতি এদেশে চালু থাকবে। আর আমাদের রেখে যাওয়া সংস্কৃতির পায়রবিও তারা করবে জেনারেশন টু জেনারেশন।

বাস্তবেও হয়েছে তাই। ব্রিটিশরা এ উপমহাদেশ থেকে বিতাড়িত হয়েছে অর্ধ শতাব্দীরও অধিককাল হল। তারপর অনেক পানি গড়িয়ে গেছে পদ্মা, মেঘনা, যমুনাতে। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান এখন বাংলাদেশ রূপে একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ হিসেবে বিশ্ব মানচিত্রে স্থান করে নিয়েছে। কিন্তু ব্রিটিশদের রেখে যাওয়া আইন ও শিক্ষা নীতির তেমন কোন পরিবর্তন সাধিত হয়নি। যার ফল শ্রুতিতে, দেশের কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষা প্রাপ্ত অধিকাংশ শিক্ষিত লোকই জন্মসূত্রে মুসলিম, কিন্তু শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মগজে হয়েছে বিধর্মীদের স্বার্থ রক্ষার চরিত্রে চরিত্রবান।

এরাই আবার সমাজে প্রগতিশীল হিসেবে পরিচিত। প্রগতি শব্দের অর্থ- জ্ঞানে বা কর্মে যতটা না অগ্রগামী, তার দ্বিগুণ অগ্রগামী বিজাতীয় নোংরা সংস্কৃতি বাস্তবায়নে। বিশিষ্ট কলামিষ্ট জহুরী তথাকথিত এই প্রগতি পন্থীদের নিয়ে যথার্থ মন্তব্যই করেছেন। তিনি লিখেছেন- আমাদের দেশীয় প্রগতিবাদীদের মস্ত বড় একটা দোষ হচ্ছে এই, নিজেরা কিছু উদ্ভাবন করতে পারে না। ভাল কিছু করা বা উদ্ভাবনের শক্তিও তাদের নেই। শকুন যেমন ক্ষুধা পেলে আসমানে উঠে মরা গরু তালাশ করে, ওরাও দশ দিকে দৃষ্টি মেলে থাকে এই আশায় যে, কোথাও কেউ জীবনকে ভোগ করার জন্য কিছু উদ্ভাবন করলো কি-না এ উদ্দেশ্যে। যদি এমন কোন কিছু নজরে পড়ে, তাহলে আর রক্ষা নেই, শুরু হয়ে যায় অনুশীলন। ডিশের বদৌলতে সেই সন্ধান পাওয়া যায় বোতাম টেপার সাথে সাথে।

এদের তেমনি এক অনুশীলিত বিজাতীয় নোংরা সংস্কৃতির নাম ভ্যালেন্টাইনস ডে বা বিশ্ব ভালবাসা দিবস। ভ্যালেন্টইনস ডে এর সাথে এ দেশের মানুষের পরিচয় এক যুগেরও কম সময়ের। এক যুগ আগে এমন ভিনদেশি অপসংস্কৃতির উৎসবের কথা এদেশের মানুষ চিন্তাও করেনি। অথচ সেই অপরিচিত দিবসটি বেশ ক’বছর যাবত যে মহাসমারোহে ও আপত্তিকরভাবে পালিত হচ্ছে, তাতে বিবেকী মানুষ উদ্বিগ্ন না হয়ে পারে না।

এ দিবসকে কেন্দ্র করে দেশের এক শ্রেণীর পত্র-পত্রিকা ভালবাসা সংখ্যা নামে বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করে থাকে। যার অধিকাংশ লেখায় যৌনতা, নগ্নতা আর অশ্লীলতায় টইটম্বুর। আর স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল এ নিয়ে যে নানান প্রোগ্রাম প্রচার করে, তা বলাই বাহুল্য। শুধু পত্রিকার পাতায় আর টেলিভিশনের পর্দায় এ দিবসের কর্মসূচী সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং এই নোংরা সংস্কৃতি ভ্যালেন্টাইন’স ডে উদযাপন করার জন্য গর্বিত হয়েছে বিশ্ব ভালবাসা দিবস উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ নামের একটি সংগঠন। তথাকথিত ভালবাসা দিবসে এদের কর্মসূচী সম্পর্কে সংবাদপত্রের ম্যাধ্যমে যা জানা যায়, তার কিছু বিবরণ নিম্নে তুলে ধরছি- অনুষ্ঠানের শুরুতেই থাকবে শতাধিক জুটির বর্ণাঢ্য র‌্যালি। লাল গোলাপ দিয়ে বরণ করে নেয়া হবে ভালবেসে বিয়ে করা ২০০ দম্পতিকে।

ভালোবেসে বিয়ে করা দীর্ঘ দিনের নির্বাচিত পাঁচ দম্পতিকে সম্মান প্রদান করা হবে। আরো রয়েছে প্রেমিক-প্রেমিকার মধুময় স্মৃতি চারণ, কথোপকথন ও ভালবাসার গান। এছাড়াও এদের উদ্ভট কিছু দাবী রয়েছে। দাবীগুলো হলো-

ক. প্রেম করার জন্য পার্কের পরিবেশ নিরাপদ করা।

খ. কোর্ট ম্যারেজ এর ক্ষেত্রে কোর্ট ফি কমানো।

গ. প্রেমের বিয়ের ক্ষেত্রে পারিবারিক স্বীকৃতি প্রদান ও পুলিশি হয়রানী বন্ধ করা এবং

ঘ. চাকরি ক্ষেত্রে যোগ্যতা অনুযায়ী প্রেমিক দম্পতিদের অগ্রধিকার প্রদান।

সত্যিই এদের কারবার দেখে আশ্চর্য না হয়ে উপায় নেই।

মানুষের জন্মই যেন হয়েছে প্রচলিত ধারার প্রেম ভালবাসা করার জন্য, আর অন্য সব কিছুই যেন অপাঙক্তেয়! আমাদের পাশ্চাত্য প্রেমী তরুণ-তরুণীরা এ দিবসটি যেভাবে উদযাপন করে তারও কিছু বিবরণ পাঠক শ্রবণ করুন- এ দিন প্রেমিক-প্রেমিকারা সেজেগুজে প্রকাশ্যে চুটিয়ে গল্প আড্ডা, ভালবাসার পাত্র খোঁজা-খুঁজি, পাত্র-পাত্রীর সাথে অভিসার, পার্কে প্রমোদ ভ্রমণ, পুষ্প ও উপহার বিনিময়ের হিড়িক পড়ে যার সর্বত্র। শুধু তাই নয়, এ দিন নগরীর পাঁচতারা হোটেলগুলো বিশেষ সাজে সজ্জিত করা হয়। যুগল বন্দী উদ্দাম নৃত্য, ফ্রি মাদক পানীয় পরিবেশন, লাল গোলাপ শুভেচ্ছা আর উপাদেয় ভোজের আয়োজনও থাকে। রাতভর যুগল ও চেঞ্জ নাচে সরব থাকে হোটেলের বল রুম। বিদেশী মিউজিকের তালে তালে নেচে গেয়ে মাতিয়ে রাখা হয় নিশুথি রাতে উচ্চবিত্তের মহল।

আমাদের প্রগতিশীল ও পাশ্চাত্য প্রেমী তরুণ-তরুণীরা ভালোবাসা দিবসের নামে যে নোংরামী শুরু করেছে, তা কি কোন ক্রমেই সমর্থন যোগ্য? নিজেদের এতো গৌরবোজ্জ্বল সমাজ-সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য থাকতেও অতি আধুনিকতার নামে সমাজে, জাতে উঠে যাওয়ার জন্য এদের অন্যের অন্ধ অনুসরণ আর অনুকরণ দেখে ইংরেজ বুদ্ধিজীবী মিঃ ম্যাকলের কথাগুলই কি স্মরণ করিয়ে দেয় না? প্রখ্যাত স্কলার ড. খালিদ বেগ এর একটি লেখার কিয়দংশ এখানে তুলে ধরা খুব প্রাসঙ্গিক হবে।

তিনি লেখেছেন-“আজকাল অনেক মুসলিমই প্রকৃত বিষয়টি না জেনেই নানা রকম বিজাতীয় সংস্কৃতির চর্চা করে থাকে। তারা কেবল তাদের সংস্কৃতিক নেতাদের মতোই এসব ক্ষেত্রে অন্ধ অনুসারী। তারা এটা খুবই কম উপলব্ধি করে যে, তারা যা নির্দোষ বিনোদন হিসেবে করে, তার শিকড় আসলে পৌত্তলিকতায়, যা তারা লালন করে তা আসলে অবিশ্বাসেরই প্রতীক। তারা যে ধারণা লালন করে, তা কুসংস্কার থেকেই জন্ম। এমনকি ইসলাম যা পোষণ করে এসব তার প্রত্যাখ্যান।

ভালোবাসা দিবস আমেরিকা এবং বৃটেন বাদে গোটা ইউরোপে মৃত হলেও হঠাৎ করেই তা মুসলিম দেশগুলোতে আবার প্রবেশ করছে। কিন্তু কার ভালোবাসা? কেন এই দিবস পালিত হবে? কি করে একজন সচেতন মানুষ ভাবতে পারে ইসলাম অনৈসলামকি ধারণা এবং বিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত অযৌক্তিক আচার অনুষ্ঠানের ব্যাপারে উদাসীন থাকবে? এটা একটা বিশাল ট্র্যাজেডি যে, মিডিয়ার মাধ্যমে নিত্য বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক অপপ্রচারে মুসলমানরা ভ্যালেন্টাইনস্ ডে, হেলোইন এবং এমন কি “সান্তাক্লজ”কেও আলিঙ্গন করে নেয়। (ইম্প্যাক্ট ইন্টরন্যাশনাল, লন্ডন মার্চ ২০০১)।

নিবন্ধের প্রতিপাদ্য বিষয় যেহেতু ভ্যালেন্টাইন’স ডে, সুতরাং এর উৎপত্তি ও ইতিহাস নিয়ে এবার আলোচনা করা যাক।

এক. সেন্ট ভ্যালেন্টাইন নামে রোমান এক খ্রীষ্টান পাদ্রী ছিলেন। চিকিৎসা বিদ্যায় যিনি ছিলেন অভিজ্ঞ। খ্রীষ্টধর্ম প্রচারের অভিযোগে ২৭০ খ্রীষ্টাব্দে রোমের সম্রাট দ্বিতীয় ক্লাডিয়াসের আদেশে তাকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়। তিনি যখন বন্দী ছিলেন তখন তরুণ তরুণীরা তাকে ভালবাসা জানিয়ে জেলখানার জানালা দিয়ে চুমো ছুঁড়ে দিত। বন্দী অবস্থায় সেন্ট ভ্যালেন্টাইন জেলারের অন্ধ মেয়ের দৃষ্টি শক্তি ফিরিয়ে দেয়ার চিকিৎসা করেন। মেয়েটির সাথে তার হৃদয়ের সম্পর্ক গড়ে উঠে। মৃত্যুর আগে মেয়েটিকে লেখা এক চিঠিতে তিনি লিখে ছিলেন ‘ফ্রম্ ইওর ভ্যালেন্টাইন’। তাই অনেকের মতে, সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের নামানুসারেই পোপ প্রথম জুলিয়াস ৪৯৬ খ্রীষ্টাব্দে ১৪ ফেব্রুয়ারীকে সেন্ট ভ্যালেন্টাইন’স্ ডে হিসেবে ঘোষণা দেন।

দুই. কারো মতে, রোমান সম্রাট ক্লডিয়াস যুদ্ধের জন্য সৈন্য সংগ্রহের লক্ষ্যে যুবকদের বিয়ে করতে নিষেধ করেন। কারণ, বিয়ে মানুষকে ঘরমুখী করে রাখে। কিন্তু সেন্ট ভ্যালেন্টাইন নিয়ম ভঙ্গ করে প্রেম করেন, পরে আইন ভঙ্গ করে বিয়ে করেন। ফলে তার মৃত্যুদন্ড হয়। আর সেই দিনটিই ছিলো ১৪ই ফেব্রুয়ারী।

তিন. আর কারো মতে, সেই ভ্যালেন্টাইনেরও বহু পূর্বে রোমানরা দুটি দিবসকে খুব ঘটাকরে পালন করতো। একটি ১৪ ফেব্রুয়ারী। দিবসটিকে ‘জুনো’ উৎসব হিসেবে পালন করা হতো। জুনো এমন এক দেবতার নাম, যিনি সন্তান ও বিয়ের দেবী হিসেবে পরিচিত ছিল। এই দিনে তরুণরা একটি বাক্স থেকে তরুণীদের নাম লেখা কাগজ তুলতো। যার নাম উঠতো, তার হাত ধরে তাকে নৃত্যের অংশীদার করে নেচে গেয়ে ‘জুনো’ উৎসব পালন করা হতো। তার নাম ছিল ‘লুপার কালিয়া’।

এটি রোমানদের একটি দেবতার নাম। তাদের বিশ্বাস ছিল, এই দেবতা গোটা রোম শহরকে নেকড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা করে। কিন্তু এই দেবতার নামে দিবসটি উদযাপন করা হতো সন্তান উৎপাদনের দিবস হিসেবে। সেদিন অবিবাহিত যুবকরা প্রায় নগ্ন হয়ে শহরে দিগবিদিক দৌড়াদৌড়ি করতো এবং শরীরে নাম মাত্র চামড়ার লেবাস পরিধান করে চামড়ার অংশ বিশেষ দিয়ে যুবতীদের গায়ে আঘাত করতো। যুবতীরা তা আনন্দ চিত্তে মেনে নিত। কারণ, তারা মনে করতো, এই বেত্রাঘাত সহ্য করলে তাদের মধ্যে সন্তান উৎপাদনের ক্ষমতা সৃষ্টি কিংবা বৃদ্ধি হবে। এই দুটি দিবসকে রোমানরা খ্রীস্টান ধর্মে রূপান্তরিত হবার পরও পালন করতে থাকে। তবে ৪০০ খ্রীষ্টাব্দ থেকে দুই দিনের উৎসবের সময় কমিয়ে এক দিন অর্থাৎ- ১৪ ফেব্রুয়ারীতে পালন করা হয়।

এমনি নানা ধরনের উপাখ্যান প্রচলিত আছে ভ্যালেনটাইন’স্ ডে সম্পর্কে। খিস্টান কিংবদন্তীতে ৫০এরও বেশী বিভিন্ন রকম ভ্যালেন্টাইন আছে। মধ্যযুগ থেকে ভ্যালেন্টইন’স্ ডে নামক দিবসটি পালিত হয়ে আসলেও বর্তমান বিশ্বজুড়ে যে মহাসমারোহে ভ্যালেন্টান’স্ ডে পালিত হচ্ছে, তার প্রসার ঘটে মধ্য আশির দশকে। মূলতঃ দিনটি প্রথমে ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক ধ্যান ধারণা থেকে পালিত হতো। কিন্তু পরবর্তী সময়ে এটি নিছক দেহনির্ভর ভালোবাসা দিবসে রূপান্তরিত হয়। পাশ্চাত্যসহ অপরাপর দেশসমূহে এ দিবসটি উদ্যাপনে যে তথ্য বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া যায়, সবগুলোতেই অশ্লীলতা, উগ্রতা, বেহায়পনা ও লজ্জাহীনতা বিদ্যমান।

লেখার কলেবর বৃদ্ধি পাবে বলে তথ্য সংযোজন আর নয়। ভালোবাসার নাম ভাঙিয়ে বিশ্বব্যাপী কী অপবিত্র কার্যকলাপ করা হচ্ছে, তার কিছু চিত্র তুলে ধরাই ছিল উদ্ধৃত তথ্যাবলীর লক্ষ্য। বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের প্রবক্তা ও অনুসারীরা যত যুক্তিই পেশ করুন না কেন, প্রকৃত এবং সত্যি কথা হল এই যে, ভ্যালেন্টাইন’স ডে বা বিশ্ব ভালোবাসা দিবস দ্বারা ভালোবাসার প্রকাশ ঘটে না, বরং যা প্রকাশ ঘটে তা হলো, ফ্রি সেক্স কালচার। যা মুসলমানদের জন্য কোনোক্রমেই বৈধ নয় এবং বৈধ হতে পারে না। এ নোংরা সংস্কৃতি থেকে সকল মুসলমানকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। আসুন, ভিন জাতির সংস্কৃতি নয়, স্বজাতির নিজস্ব সংস্কৃতি লালন করি। মহান আল্লাহ্ আমাদের সুমতি দান করুন। আমীন।