আদালত চত্ত্বরের গ্রীক দেবীর মূর্তি; কি ভাবছে তরুণ সমাজ?

আদালত চত্ত্বরের গ্রীক দেবীর মূর্তি; কি ভাবছে তরুণ সমাজ?

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

“কোন অবস্থা কিভাবে চলবে তা নির্ধারণ করাকেই সংস্কৃতি বলে”
-জ্যাক দেরিদা

তাহলে এই মুসলিম দেশে ভাস্কর্যের সংস্কৃতি তৈরী করেছে কারা?? আর এর পিছনে ইন্ধন দিচ্ছেও বা কারা এই হিসেবটা বর্তমমানে বেশ জটিল হয়ে দেখা দিচ্ছে। আদালত চত্ত্বরের গ্রীক মূর্তির ব্যাপারটাও আমরা সেভাবেই দেখতে পাই। বিশেষ করে যখন প্রধানমন্ত্রী নিজেই জানেন না সেই মূর্তি স্থাপনের কথা। যদিও এই বিষয়টা নিয়ে তর্ক থাকবেই।

কিন্তু যেখানে বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার ক্রমবর্ধমান অবনতি হচ্ছে সেখানে এই মূর্তি ইস্যুকে প্রধান্য দিচ্ছে এক শ্রেণীর তথাকথিত প্রগতিশীলরা যে অরাজকতা তৈরি করছে তা এককথায় ভিত্তিহীন। বাংলাদেশের তরুন প্রজন্ম এটিকে কিভাবে দেখে সে বিষয়ে কথা হচ্ছিলো জনপ্রিয় রাজনৈতিক ম্যাগাজিন জবানের কোর্ডিনেটর মিনহাজ আমানের সাথে।

“হাইকোর্ট একটী দেশের সর্বোচ্চ আদালত, ন্যায্যতা-প্রাপ্তির সর্বোচ্চ স্থান। কিন্তু তাকান এই হাইকোর্টের দিকে, কত লক্ষ-কোটি ফাইলে আটকে আছে আপনার-আমার ইনসাফ। কত হাজার লোক বিনা বিচারে তাদের জীবন যাপিত করছে কয়েদখানায়, মামলার দীর্ঘসুত্রিতার অভিশাপ। এসব নিয়ে যারা কথা বলেন, এই আওয়াজের চেয়ে বেশি আওয়াজ টের পাওয়া যাচ্ছে হাইকোর্টে মূর্তি থাকবে কিনা! আমি জানিনা, গ্রিক দেবীকে দাড় করিয়ে দিলে কি হবে, কি মুশকিলের আসান হবে!? ” বলছিলেন মিনহাজ আমান।

আমারা যদি এসব বাদ দিয়ে মুসলিম মেজরিটির কথা মাথায় নিয়ে চিন্তা করি তাহলে এই মূর্তি সংস্কৃতির বিষয়টাকে বাঙালী জাতিয়তাবাদের সাথে মেশানোর যে প্রবনতা নিয়ে তরুন প্রাবন্ধিক মুহাম্মদ এ বাসেদ বেশ চমৎকার ভাবে বলেন, “এখানে দেখতে হবে কোন সংস্কৃতির কথা বলা হচ্ছে। ভাস্কর্য শিল্পটার বিকাশ ঘটে মূলত গ্রিসে, এরপর গ্রিক বীর আলেকজান্ডারের ভারত অভিযানের সময়ে এই মূর্তি শিল্পটা উপমহাদেশে আমদানী ঘটে। আলেকজান্ডার ফিরে যাওয়ার পরেও যারা উপমহাদেশে রয়ে গিয়েছিলো, তারা ক্রমে হিন্দু ধর্মে ও বৌদ্ধ ধর্মে মূর্তির ধারনাটা অনুপ্রবেশ ঘটায়। তো, একদিক দিয়ে ভাষ্কর্য যেমন প্রাচীন গ্রিক সংস্কৃতির অংশ, তেমনি করে তা পরবর্তীতে এবং বর্তমানে হিন্দু সংস্কৃতির অংশ। এখন, এটাকে সংস্কৃতির ধারক হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে দেখতে হবে যে সমাজের অংশ বলে একে বলা হচ্ছে সেটির অধিকাংশ জনগোষ্ঠী কোন মতবাদ, সংস্কৃতি বা আদর্শের অনুসারী। বাংলাদেশের আশি ভাগেরও বেশি মানুষ মুসলমান, এবং মুসলমান হিসেবে তারা যে ধর্মকে বিশ্বাস করে তথা ইসলাম তার একটা নিজস্ব সংস্কৃতি আছে, এবং সে সংস্কৃতিতে মূর্তি বা ভাস্কর্যের কোনো স্থান নেই। ইন্ডিভিজুয়ালি কেউ যদি চায় তবে সে ভাস্কর্য কিংবা মূর্তি নিয়ে থাকতে পারে, কিন্তু এটাকে ওই মেজরিটি মুসলিম মানুষের দেশে সংস্কৃতির অংশ বা ধারক রুপে ঘোষনা দেয়া সব দিক দিয়েই বোকামী ও ভুল।

আর, যদি বাঙ্গালী সংস্কৃতির ধারক বলে মূর্তির কথা বলা হয়, তাহলে বলতে হয়- বাঙ্গালী সংস্কৃতি কি তবে গ্রিক বা হিন্দুয়ানী সংস্কৃতি দ্বারা প্রভাবিত? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলে বলতে হয়, বাংলা ভাষাভাষী অঞ্চল মূলত দুই ভাগে বিভক্ত ছিলো- হিন্দু অধুষিত পশ্চিমবঙ্গ আর মুসলিম অধ্যুষিত পূর্ববঙ্গ। আর, এই দুইটি বিভাজনে ক্ষেত্রে ধর্মই প্রধান ভূমিকা পালন করেছে, হিন্দুরা কলকাতাকে কেন্দ্র করে এবং মুসলিমরা এই পূর্বাঞ্চলকে কেন্দ্র করে বিবর্তিত হয়েছে। এখন আজকের বাংলাদেশ যেহেতু এই পূর্বাঞ্চল তথা মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চল, সেহেতু বলা যায়, এই অঞ্চলে যে বাঙ্গালী সংস্কৃতির চর্চা হয়েছে অতীত থেকে সেখানে কখনোই মূর্তির কোনো অস্তিত্ব ছিলো না। আজ এটাকে এই সংস্কৃতিতে অনুপ্রবেশ করানোর চেষ্টা মানে এই দেশে মুসলিম, মূর্তিবিহীন সংস্কৃতিকে দমিয়ে ওপারের মূর্তি প্রভাবিত সংস্কৃতিকে আমদানী করার ষড়যন্ত্র।।”

আবার দেশের বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষিতে মুর্তির মত ঠুনকো বিষয়কে নিয়ে যে বিভক্তি তৈরি করছে তা উদ্দেশ্যমুলক এমনটাই মনে করেন জাতিয়তাবাদী গণতান্ত্রিক ছাত্র আন্দোলন ঢাকা মহানগরের যুগ্ম আহবায়ক সোহাইল জামিল সরকার

সুতরাং যেখানে অধিকাংশ তরুন সমাজ বাঙালি সংস্কৃতি চর্চার জায়গায় মূর্তি সংস্কৃতিকে অস্বীকার করছে সেখানে তারুন্যের কাধে বন্দুক রেখে যা নৈরাজ্য চর্চা হচ্ছে তা কতটা যৌক্তিক তা বৃহৎ প্রশ্ন এখন।