সমকামিতা: একটি বৈজ্ঞানিক ও তাত্ত্বিক অনুসন্ধান-২য় পর্ব

জাকারিয়া মাসুদ


সমকামিতা: একটি বৈজ্ঞানিক ও তাত্ত্বিক অনুসন্ধান-১ম পর্ব


১ম পর্বের পর…

‘তার মানে তুই কইবার চাস, মেডিক্যাল সাইন্সের বিষয়গুলা নিয়া আমাগোর ঘাঁটাঘাঁটি করবার অধিকার নাই?’
‘অবশ্যই আছে। থাকবে না কেন? সবারই অধিকার আছে। কিন্তু মিথ্যাচার করার অধিকার কারো নেই।’
‘তার মানে তুই কইবার চাস অভিজিৎ দাদা মিসা কতা লিখছে তার বইডার মধ্যে?’
‘শুধুই কি মিথ্যা? তার গোটা বইটাই তো মিথ্যার ফুলঝুরি দিয়ে সাজানো।’
‘দাদা তো বইডার মধ্যে রেফারেন্স দিয়াই লিখছে, না-কি?’
‘রেফারেন্স দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু ভুল গবেষণার।’
‘ভুল?’
‘জ্বি, ভাই। ভুল।’
‘যেমন?’
‘অভিজিৎ রায় গে-জীনের কথা উল্লেখ করে দাবি করেছেন, মানুষের সমকামী হওয়ার জন্য এই গে-জীন দায়ী। কিন্তু তথাকথিত গে-জীনের ফাদার উপাধিপ্রাপ্ত Dr. Dean Hamer গে-জীনের কথা সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন। Scientific American Magazine যখন তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলো – ‘সমকামিতা কি জীনবিদ্যার সাথে সম্পর্কিত?’ উত্তরে তিনি বলেছিলেন, ‘Absolutely not.’ The Human Genome প্রজেক্ট শুরু হয়েছিলো ১৯৯০ সালে। তা শেষ হয় ২০০৩ সালে। এই প্রজেক্টে মানুষের জীন নিয়ে ব্যাপক গবেষণা করা হয়। কিন্তু তারা তথাকথিত গে-জীনের কোনো অস্তিত্বই খুঁজে পায়নি। Dr. George Rice, Dr. Neil and Whitehead, Drs. William Byne, Bruce Parsons এই সব বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন যে, মানুষ কখনোই জন্মগতভাবে সমকামী হতে পারে না। এছাড়াও অনেক বিজ্ঞানীই হেমারের গবেষণাকে ভুল প্রমাণ করেছেন। যে গবেষণায় তিনি দাবি করেছিলেন যে, মানুষ জন্মগতভাবে সমকামী হতে পারে, Laumann এর গবেষণায় দেখা গেছে যে, সমকামিতা সৃষ্টিতে শহুরে পরিবেশ গ্রাম্য পরিবেশের তুলনায় বেশি ভূমিকা পালন করে। যদি সমকামিতা জেনেটিকই হতো, তাহলে তো সব স্থানে এর বিস্তার সমান হওয়ার কথা ছিলো। সমকামিতা আবেগ, কৌতূহল, আকর্ষণ ও সামাজিক মিথস্ক্রিয়ার ফলেই উদ্ভূত হয়। আর সমকামী সম্পর্ক অস্থায়ী। যা সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়। এখন বলেন তো ভাই, অভিজিৎ রায় কী মিথ্যা তথ্য দেন নি?’
রফিক ভাইকে কিছুটা চিন্তিত মনে হচ্ছে। তিনি চুপ রইলেন। চুপ থাকারই কথা। তাঁর অভিজিৎ দাদা যে এতবড় ভুল করবেন – তা কি আর তিনি জানতেন? জানবেনই বা কী করে? বেচারা পড়াশুনা করেছেন কমার্স নিয়ে। বিজ্ঞান নিয়ে যে দু’কলম জেনেছেন, সেটাও নিজের জ্ঞানে না – অন্যদের থেকে ধার করে। কখনো ধার করেছেন ব্লগ থেকে, কখনো বা বিজ্ঞানমনষ্ক কলাবিভাগের ছাত্রের কাছ থেকে। যাদের কাছ থেকে ধার করেছেন, তারাও আবার কারো কাছ থেকে ধার করে লিখেছে। সত্য মিথ্যা মিলিয়েই লিখেছে। তাই বিজ্ঞানের ভুল জ্ঞান তাঁর কাছে থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে সত্য-মিথ্যা যা-ই হোক, সে পরে দেখা যাবে। কিন্তু এখন তাঁর গুরুকে ফারিস মিথ্যাবাদী প্রমাণ করবে, আর তিনি বসে বসে দেখবেন – তা কি হয়? যে করেই হোক ফারিসকে হারাতে হবে। তাই তো তিনি বলে উঠলেন, ‘তোর আগের কথাডা মাইনা নিলাম। কিন্তু বিজ্ঞান তো এইডাও প্রমাণ করছে – সমকামীদের মগজ অন্যদের থেইকা আলাদা। তাইলে মিছা মিছা দাদারে দুশ দিয়া লাভ কী?’
প্রশ্ন শেষ করে রফিক ভাই কফির কাপে চুমুক দিলেন। তাঁর মুখের চিন্তার ছাপটা এখন আর দেখা যাচ্ছে না। হয়তো মনে মনে ভাবছেন – নে বেটা, পারলে আমার এই প্রশ্নের জবাব দে? দেখি তোর মুরদটা কেমন! তিনি যা ভাবার ভাবুন। তাতে কিছু আসে যায় না। ফারিস যে তাঁর প্রশ্নের উচিৎ জবাব দেবে, সে আমার বুঝতে বাকি নেই। ফারিস তাঁর প্রশ্নের জবাবে তাৎক্ষণিক বলে উঠলো, ‘এইটাও আপনি অভিজিৎ রায়ের বই থেকে বলছেন, তাই না ভাই?’
‘না মানে……’
‘অভিজিৎ রায় তাঁর বই-এ Dr. Simon Levay এর একটি গবেষণাকে কেন্দ্র করে এই তথ্যটা দিয়েছেন। যদিও পরবর্তীতে বিজ্ঞানীরা তাঁর এই তথ্যকে বাতিল করে দিয়েছেন।’
Dr. Simon Levay তাঁর গবেষণায় কী বলেছিলেন, তা জানতে ইচ্ছে করছিলো। তাই ফারিসকে প্রশ্ন করলাম, ‘ডক্টর সাহেব কী বলেছিলেন রে?’
‘ডক্টর সাহেব বলেছেন, হাইপোথ্যালামাসের Cluster cell INAH-3 বিষমকামী পুরুষের আর সমকামীদের এক নয় – ভিন্ন। তাই সমকামিতা জন্মগতভাবে লাভ করা সম্ভব।’
‘তাঁর গবেষণা বিজ্ঞানমহলে সমাদৃত না হওয়ার কারণ কী?’
‘তাঁর গবেষণা ছিলো দুর্বল।’
‘কেন?’
‘কারণ তিনি যে সমকামীদের নিয়ে গবেষণা করেছেন, তারা এইডস রোগে মৃত্যুবরণ করেছিলো। তাই তাঁর গবেষণার বিশুদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিলো। প্রফেসর Dr. A. Dean Byrd সহ অনেকেই তাঁর গবেষণাকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, মানুষের মস্তিষ্ক স্থির নয় – পরিবর্তনশীল। কেউ যখন একটা কাজ বারবার করতে থাকে, তখন নির্দিষ্ট একটা নিউরাল পথ শক্তিশালী হয়। যখন এই নিউরাল পথ শক্তিশালী হয়, তখন এটি মস্তিষ্কের রসায়নে প্রতিফলিত হয়। তাই ভিন্ন ভিন্ন পেশার লোকদের মধ্যে মস্তিষ্কের তারতম্য ঘটে। যিনি সাইন্টিস্ট আর যিনি কৃষক – দু’জনের মস্তিষ্কের গঠন এক নয়। আলাদা। তুই শুনলে হয়তো আরও অবাক হবি, ডক্টর সাহেব নিজেই ২০০১ সালে তাঁর গবেষণার ব্যর্থতা স্বীকার করে নেন এবং তিনি বলেন, ‘আমি প্রমাণ করিনি যে, সমকামিতা জেনেটিক। আমি সমকামিতার জেনেটিক কোনো কারণও বের করিনি।’
ফারিসের কথায় রফিক ভাই প্রচণ্ড একটা ধাক্কা খেলেন। খাবেনই বা না কেন? তাঁর দাদা বিজ্ঞানের নাম দিয়ে বিজ্ঞানের ভুল ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর তো কষ্ট হবেই। অবশ্যি তা ছাড়া কোনো উপায়ও নেই। কেননা বিজ্ঞান দিয়ে তো আর সমকামিতাকে জেনেটিক প্রমাণ করা যাবে না; যদি মিথ্যা দিয়ে হয় – তো ক্ষতি কী?
‘শুনলাম আমেরিকার মনোবিজ্ঞানীরা নাকি সমকামিতারে মানসিক রোগের চার্ট থেইকা বাদ দিছে? যদি দিয়াই থাকে, তাইলে তোর কথা কেমনে মানি? হেরা নিশ্চয়ই তোর চাইতে বিজ্ঞান বেশি জানে।’ রফিক ভাইয়ের প্রশ্ন ফারিসের কাছে।
রফিক ভাইয়ের কথা শুনে ফারিস বেশ হাসিমুখে বললো, ‘ভাই আপনি জানেন কি, ১৯৭৩ সালের আগ পর্যন্ত আমেরিকায় সমকামিতা একটি মানসিক ব্যাধি হিসেবে গণ্য হতো?’
‘না। এইডা আমার জানা ছিল না।’
‘সমকামিতাকে মানসিক ব্যাধির চার্ট থেকে বাদ দেওয়ার কারণ বিজ্ঞান নয় – অন্য কিছু।’
‘তোরা না! সব কামোই খালি সন্দেহ খুজস। আইচ্ছা ক দেহি হেই কারণডা কী।’
‘পলিটিকাল কারণ।’
‘পলিটিকাল?’
‘জ্বী ভাই, পলিটিকাল। কেননা রাজনৈতিক দলগুলো সমকামী ও তাদের প্রতি সহনশীল ব্যাক্তিবর্গের ভোট পাওয়ার জন্য আমেরিকান মনোবিজ্ঞান সংস্থাকে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। তাদের চাপের মুখে সংস্থাটি নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়। তবে তারা এটা বলার দুঃসাহস দেখায়নি যে – বিজ্ঞান এটা মেনে নিয়েছে। ২০০০ সালের মে মাসে American Psychiatric Association জানায় – এমন কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই যা দিয়ে সমকামিতার পক্ষে বায়োলজিক্যাল প্রমাণ দাঁড় করানো যায়।
রফিক ভাই এবার চেয়ারের সাথে হেলান দিয়ে বসলেন। এরপর বললেন, ‘তা না হয় বুঝলাম। কিন্তু ব্যক্তিস্বাধীনতা বইলা তো একটা কথা আছে, নাকি? সমকামীরা তো আমাগোর সমাজে কোনো ক্ষতি করতাছে না। তাইলে তাগো পিছনে লাইগ্যা লাভ কী? তারা তাগোর কাম করুক, আমরা আমাগোর কামে টাইম দেই। হেইডাই আমাগোর লাইগ্যা ভালা।’
‘রফিক ভাই, একটা প্রশ্ন করি?’
‘হ, কর।’
‘কেউ যদি আপনার সামনে গাঁজা খায়, আপনি কি তাকে বাধা দেবেন?’
‘বাধা দিমু না মানে? এইডা তুই কী কস?’
‘কেন বাধা দিবেন? গাঁজা খাওয়াটা কি তার ব্যক্তিস্বাধীনতা নয়? বাধা দিলে তো আপনি তার ব্যক্তিস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করলেন।’
‘রাখ তোর স্বাধীনতা। গাঞ্জা খাইলে হের শরীলো কী পরিমাণ ক্ষতি অইবো তুই জানস? তারে অবশ্যই এই কাম থেইকা ফিরাইয়্যা রাহন লাগবো।’
‘সমকামীদেরও বাধা না দিলে যে বিভিন্ন ধরণের রোগ তাদের শরীরে বাসা বাঁধবে – তার খেয়াল কে করবে ভাই?’
‘মানে? তুই কী কইবার চাস?’
‘ভাই, বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে যে, অ্যানাল সেক্স অন্য যে কোনো সেক্সের তুলনায় অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ, এর মাধ্যমে সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড ডিজিজগুলো অতি দ্রুত বিস্তার লাভ করে। আর সে জন্যেই আপনি লক্ষ্য করলে দেখবেন, সমকামিদের মধ্যে এইডস, সিফিলিস, গনোরিয়া সহ সব যৌনরোগগুলোর সংক্রমণের হার বেশি। গে-বাওয়েল সিনড্রোম নামক রোগ সমকামীদের মধ্যে অধিকমাত্রায় পরিলক্ষিত হয়। তাই এর নাম রাখা হয়েছে গে-বাওয়েল সিনড্রোম। আচ্ছা রফিক ভাই বলেন তো – এইডস, সিফিলিস, গনোরিয়া রোগগুলোর মধ্যে কোনটা মানুষের জন্য অধিক ক্ষতিকারক?’
‘কোনডা আবার? এইডস। এইডা তো সবাই জানে। কারণ এইডার কোনো অশুধ এহনো আবিষ্কার অয়নাই।’
‘আপনি শুনলে হয়তো অবাক হবেন – মরণঘাতী এইডসের অন্যতম কারণ হচ্ছে সমকামিতা।’
‘এইডা কি তর কতা? নাকি বিজ্ঞানীদের?’
‘আমার কথা কেন হবে ভাই? এটা বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রমাণিত।আমেরিকান সেন্ট্রাল ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার UNAIDS এর দেওয়া স্টাডি এ কথা প্রমাণ করেছে। তারা দেখিয়েছে যে, সমকামিতা এইডসের অত্যন্ত বড় রিস্ক ফ্যাক্টর। CDC’র দেওয়া তথ্য থেকে আরও জানা যায়, ১৯৯৮ সালে আমারিকায় নতুন এইচআইভি সংক্রমিত ব্যক্তিদের মধ্যে ৫৪%-ই ছিলো সমকামী। ২০০৯ সালের আগষ্ট মাসে CDC’র দেওয়া অপর একটি রিপোর্ট বলছে, সাধারণ জনগোষ্ঠীর চেয়ে সমকামীদের মধ্যে এইডস সংক্রমণের হার প্রায় ৫০গুণ বেশি। UNAIDS’র ২০১৫ এর একটি রিপোর্টও ঠিক একই কথাই বলেছে।’
ফারিসের কথা শুনে রফিক ভাইয়ের মাথা ধরছে মনে হলো। তাঁর কপালের ভাঁজ স্পষ্টতই দৃশ্যমান হচ্ছে। হয়তো মনে মনে ভাবছেন, ‘যাকগে! আর প্রশ্ন করার দরকার নেই। না জানি কোন বিপদ হয়। যেভাবে ফারিস আমার দাদার ভুলগুলো টেনে টেনে বের করছে, আবার কিছু বললে মনে হয় থলের বিড়াল সব বেরিয়ে যাবে। তার চেয়ে বরং চুপ থাকি। চুপ থাকাই শ্রেয়।’
চুপচাপ ভাই কফি খাচ্ছেন। ফারিসও খাচ্ছে। আমি এক চুমুক দিয়ে বললাম, ‘আচ্ছা ফারিস, সমকামিতা কি যৌনরোগ ছাড়া অন্যান্য রোগের জন্যেও দায়ী? যেমন, ক্যান্সার বা এই টাইপের কিছু?’
আমার প্রশ্ন শুনে ফারিস বললো, ‘গুড পয়েন্ট। অনেক সুন্দর একটা প্রশ্ন করছিস। প্রশ্নটা না করলে হয়তো আমার এই পয়েন্টটা মনেই আসতো না। জাঝাকাল্লাহ দোস্ত। সমকামিতা শুধু যৌনরোগই ছড়ায় না, বরং অন্যান্য রোগও ছড়ায়। ক্যান্সার হলো তাদের মধ্যে অন্যতম।’
‘মেকানিজমটা কী, দোস্ত?’
‘অ্যানাল সেক্সের ফলে মলাশয়গাত্রে অতি সহজেই ক্ষতের সৃষ্টি হতে পারে – যেটা কিছুক্ষণ আগে তুই নিজেই বলেছিস। প্যাপিলোমা ভাইরাস খুব সহজেই অ্যানাল রুট দিয়ে প্রবেশ করতে পারে। ক্ষতের মাধ্যমে এই ভাইরাস অতি দ্রুত রক্তের সাথে মিশে যায়। যার ফলে অ্যানাল ক্যান্সার সমকামীদের মধ্যে অনেক বেশি দেখা যায়। Nursing Clinic of North America’র দেওয়া ২০০৪ সালের একটি রিপোর্ট থেকে দেখা যায় – এইডস আক্রান্ত ৯০% এবং এইডস ব্যতীত ৬৫% সমকামীদের দেহে Human Papilloma Virus রয়েছে, যা ক্যান্সারের জন্য দায়ী। সমকামীদের অ্যানাল ক্যান্সারের ঝুঁকি বিষকামীদের থেকে ১০গুণ বেশি। আর এইডস আক্রান্ত সমকামীদের এ ঝুঁকির পরিমাণ আরও বেশি। প্রায় ২০গুণ।’
‘ক্যান্সার ছাড়া অন্য কিছুর ঝুঁকি তাদের মধ্যে কেমন?’
‘অন্যান্য রোগগুলোও তাদের মধ্যে বেশি। যেমন ধর, হেপাটাইটিস-এ সমকামীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। ১৯৯১ সালে নিউইয়র্কে এই রোগটার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। সে সময়ে ৭৮% হেপাটাইটিস-এ তে আক্রান্ত ব্যক্তি ছিল সমকামি। এছাড়া বিভিন্ন প্যারাসাইটিক ও ব্যাকটেরিয়াল ডিজিজ সমকামীদের মধ্যে বেশি হয়ে থাকে।’
‘যেমন?’
‘সালমোনেলা সম্পর্কে ধারণা আছে?’
‘হুম, আছে। কিন্তু এটি তো যৌনবাহিত রোগ নয়।’
‘তা নয়। তবে যৌন সংশ্লিষ্ট সালমোনেলার প্রধান কারণ ওরাল-অ্যানাল এবং ওরাল–জেনিটাল সমকামী যৌনসম্পর্ক।’
‘ও আচ্ছা।’
‘বল তো টাইফয়েড কোন ধরণের রোগ?’
‘এটি তো পানিবাহিত রোগ।’
‘তবুও এর যৌন সংশ্লিষ্ট প্রকারটির অন্যতম মূল কারণ সমকামিতা। টাইফয়য়েড ছাড়াও মলাশয়ের প্রদাহ সমকামীদের মধ্যে বেশ কমন। এছাড়া গনোরিয়া, সিফিলিস, ক্ল্যামিডিয়া, এমিবিয়োসিস ইত্যাদি রোগগুলোও বিষমকামীদের থেকে বেশি। অত্যন্ত বেশি। এসব রোগ থেকে অতি সহজেই মলাশয়ের প্রদাহ হতে পারে। সমকামি এইচআইভি আক্রান্তদের অনেকেই কাপোসিসারকোমা নামক একটি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। অহ, ভালো কথা! রেক্টাল প্রলেপস ডিজিজের কথা মনে আছে?’
‘হ্যাঁ, আছে।’
‘এটি কাদের হয়?’
‘যারা অ্যানাল রুটে সংগম করে, তাদের হয়।’
রফিক ভাই এতক্ষণ নিঃশব্দে বসে কেবল কফি পান করছিলেন। কিন্তু কাপটা এখন শুন্য। তাই সেটা টেবিলে রেখে দিলেন। তাঁর শরীর থেকে ঘাম ঝরছে। গরম যদিও কম, তবুও তিনি ঘামছেন। কেন ঘামছেন কে জানে! পকেট থেকে টিস্যু পেপার বের করে মুখ মুছতে মুছতে বললেন, ‘আমার একটা প্রশ্ন আছিলো।’
ফারিস চায় রফিক ভাই তাকে প্রশ্ন করুক। তবে প্যাঁচে ফেলার জন্যে নয় – জানার জন্যে। রফিক ভাইয়ের মাথায় মিথ্যার যে বসত গড়ে উঠেছে, সেটা দূর হোক। তিনি আলোর পথ খুঁজে পান। তাই রফিক ভাইয়ের প্রশ্ন শুনে তাকে বেশ প্রসন্ন দেখালো। একটু মুচকি হেসে বললো, ‘কী প্রশ্ন, ভাই?’
‘সমকামি পুলাগোরে সমস্যা অয় হেইডা না হয় বুঝলাম, কিন্তু মাইয়্যাগো তো সমস্যা অইবার কতা না। তাইলে তাগোর সমকামিতা তো মাইনাই নেওন যায়। তুই কী কস?’
‘সমকামী মেয়েরা মানে লেসবিয়ান যারা, তারা কি ওরাল সেক্স করে নাকি অ্যানাল?’
‘ওরাল।’
‘কয়েকদিন আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা -এর ওরাল সেক্স নিয়ে একটা রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে বিবিসি’র অনলাইন পেইজে। সেখানে কী লিখেছে জানেন?’

‘আমি কেমনে জানুম? আমি কি সারাদিন বিবিসি লইয়া পইড়া থাহি? নাকি আমি বিবিসি’র সাংবাদিক? ভার্সিটিতে আমার অনেক কাম। কাম বাদ দিয়া এইসব চিপা চাপার খবর পড়ার মতন টাইম আমার নাই। কী লিখা আছে তুই-ই ক।’
‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা’র রিপোর্টে বলা হয় – ওরাল সেক্সের মাধ্যমে গনোরিয়া খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। গনোরিয়া জীবাণু সাধারণত যৌনাঙ্গ, মলদ্বার বা গলার ভেতরে সংক্রমণ ঘটায়। তবে এর মধ্যে গলার সংক্রমণই চিকিৎসকদের কাছে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অন্তত ৭৭টি দেশের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখেছে – গনোরিয়া অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে ওঠার প্রবণতা কতটা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এর জন্য দায়ী ওরাল সেক্স। ওরাল সেক্সের কারণে গনোরিয়ার জীবাণুকে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ভয়ঙ্কর মাত্রায় নিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া লেসবিয়ান নারীদের আরও অনেক সমস্যায় পড়তে হয়।’
‘যেমন?’
‘মাদকাসক্ত পুরুষের সঙ্গে লেসবিয়ানদের সঙ্গমের হার বিষমকামী নারীদের থেকে ৩-৪গুণ বেশি।এছাড়া লেসবিয়ানদের মধ্যে এইডসের জন্য হাই রিস্ক ফ্যাক্টর কর্মকাণ্ড যেমন, ইন্ট্রাভেনাস ড্রাগ এবিউজ, পতিতাবৃত্তি ইত্যাদিতে জড়িত থাকার প্রবণতাও অত্যধিক।’
রফিক ভাইয়ের মতো যারা চিকিৎসা বিজ্ঞান নিয়ে পড়েনি কোনোদিন – তারা কী করে জানবে সমকামিতা কতটা খারাপ হতে পারে? শুধু ব্যক্তিস্বাধীনতা জিন্দাবাদ বলে সমকামিতাকে সাপোর্ট করাটা অতিশয় ভয়ানক। সমকামিতা শুধু ব্যক্তিকেই নিঃশেষ করে না – সমাজকেও কলুষিত করে। সমকামিতার সাথে জীবন-মরণ সম্পর্ক জড়িয়ে আছে। জীবনটাই যদি না থাকে, তাহলে অযথা মরীচিকার পেছনে দৌড়িয়ে লাভ কী? সমকামিতাকে যদি ব্যক্তিস্বাধীনতা বলে ছাড়পত্র দিতে হয়, তবে মদ্যপান, ধূমপান, ইয়াবা সেবন – এসবকেও ছাড়পত্র দিতে হবে। মানবাধিকার মানে যা ইচ্ছে তা-ই করা নয় – এই কথাটা রফিক ভাই যত তাড়াতাড়ি বুঝবেন, ততটাই মঙ্গল।

আমার কফি অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। ফারিসের কাপে এখনো অবশ্যি কিছু বাকি আছে। ফারিস শেষ চুমুকটা দিয়ে নিলো। এরপর বললো, ‘সমকামিতার আরও বড় সমস্যা হলো, সমকামীরা একটা সময়ে এসে বিকৃত মস্তিষ্কের অধিকারী হয়ে যায়।’
‘বিকৃত মস্তিষ্ক হইয়্যা যায় মানে? কস কী আবোল-তাবোল? এইসব ইনফরমেশন তোরে কেডায় দিছে?’ রফিক ভাই খানিকটা উত্তেজিত হয়ে প্রশ্ন করলেন।

‘Coprofilia কাকে বলে জানেন ভাই?’ ফারিসের পাল্টা প্রশ্ন রফিক ভাইয়ের কাছে।
রফিক ভাই না-সূচক মাথা নাড়লেন। এরপর চেয়ারে হেলান দিয়ে কফির কাপের দিকে মনোযোগ দিলেন। কফি তাঁর অনেক আগেই শেষ। তাই কফির কাপটা ঘুরাতে লাগলেন, আর ফারিসের দিকে তাকিয়ে রইলেন। রফিক ভাইয়ের উত্তরটা জানা ছিলো না বিধায় উত্তরটা ফারিসই দিলো।

ফারিস বললো, ‘Coprofilia হলো এমন একটি যৌন আচরণ যেখানে ব্যক্তি মলমূত্রের সংস্পর্শে এসে আনন্দলাভ করে। ফিনল্যান্ডের একটি সার্ভে থেকে জানা যায় যে ১৭% সমকামী এই অস্বাভাবিক যৌনাচারে লিপ্ত। একবার চিন্তা করুন ভাই, সমকামীরা মোট জনসংখ্যার একটি ক্ষুদ্রতম অংশ। তারপরেও এই অস্বাভাবিক যৌনাচার তাদের মধ্যে ১৭%। আনুপাতিক বিচারে এই পারসেন্টেজটা তাহলে কত বিশাল? সমকামীদের মধ্যে ধর্ষকামও বেশি দেখা যায়। ৩৭% সমকামী এই অস্বাভাবিক যৌনাচারে লিপ্ত। সমকামীরা যৌনতাড়িত বেশি হয়। একটা পর্যায়ে এসে সমকামীরা আত্নবিধ্বংসী চিন্তা-চেতনার অধিকারী হয়ে যায়। New York Times-এর একটি প্রতিবেদন থেকে দেখা যায় – এইডস আক্রান্ত সমকামী ব্যক্তির তার সেক্সুয়াল পার্টনারের মধ্যে এইডসের ভাইরাস ছড়িয়ে দেওয়ার পরেও এ নিয়ে কোনো অনুতাপ নেই। কোনো অনুশোচনা নেই। এছড়া সমকামীরা উন্নাসিক প্রকৃতির হয়। সমাজ ও রাষ্ট্র নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথাই থাকে না। অপরদিকে Bagley ও Tremblay-এর রিসার্চ থেকে দেখা যায় – সমকামী ব্যক্তিদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বিষকামীদের চেয়ে ২ থেকে ১৩.৯ গুণ বেশি।’
ফারিসের পাশে বসা রফিক ভাই এতক্ষণ চুপই ছিলেন। কিন্তু ফারিসের কথা শুনে যেন তাঁর টনক নড়ে উঠলো। ভ্রু যুগল কুঁচকে গেলো। তিনি কিছুটা মোটা গলায় বললেন, ‘তোর লাস্ট পয়েন্টটার সাথে আমি একমত হইতে পারলাম না, ফারিস।’
‘কেন ভাই?’

‘আত্মহত্যা কস আর মানসিক সমস্যাই কস, এইগুলার জন্য সমকামীরা দায়ী না। এইডার জন্য দায়ী হোমোফোবিয়া। দায়ী সমাজের হুজুররা। যারা উঠতে বইতে সমকামীদের বিরোধিতা করে। আর হোমোফোবিয়া ছড়াইবার কাম করে। সমকামীদের সামাজিকভাবে মাইন্যা নিলে এই সমস্যাডা আর থাকবো না।’
‘ভাইয়ের নিশ্চয় জানা আছে, নেদারল্যান্ডে সমকামী বিয়ে আইনসিদ্ধ?’
‘হ জানি। জানুম না কেন?’

‘ভালো। নেদারল্যান্ডের General Psychiatry’র দেওয়া রিপোর্ট থেকে জানা যায় – তাদের দেশে সমকামীদের মধ্যে মানসিক সমস্যা অনেক বেশি। সমকামীরা অনেক বেশি মেন্টাল ডিপ্রেশনে ভুগে। অপরদিকে কানাডা একটি উদার রাষ্ট্র, যেখানে সমকামিতা সাধারণ বিষয়। কানাডায় বছরে যে কটি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে, তার মধ্যে ৩০% আত্মহত্যাকারী সমকামি। একটু লক্ষ্য করুন, ভাই। এইসব রাষ্ট্রে হোমোফোবিয়া নেই, তারপরেও এখানে সমকামীদের মানসিক সমস্যা অত্যদিক। আর এ থেকেই বুঝা যায় – সমকামীদের মানসিক সমস্যার কারণ হোমোফোবিয়া নয়। হুজুররাও নয়। তারা নিজেরাই এর জন্যে দায়ী। তাদের যৌন-উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপনই এর জন্য দায়ী।’

‘আইচ্ছা ফারিস, সমকামিতা তো খৃষ্টের জন্মেরও অনেক আগে থেইকাই চইলা আইতাছে। তাইলে এইডারে কি স্বাভাবিক আচরণ হিসেবে ধরা যাইবো না?’

‘ধর্ষণকে আপনি কীভাবে দেখেন? এটাকে কি আপনি স্বাভাবিক আচরণ মনে করেন?’
‘পাগলে কয় কী? হা হা হা। সাত খণ্ড রামায়ণ পইড়া কয় শিতা কার বাপ। ধর্ষণরে কি কোনো সুস্থ মানুষ স্বাভাবিক আচরণ বইলা মাইনা নিবো? হা হা হা।’

‘কেন নিবে না, ভাই? আপনার আপত্তি কোথায়? ধর্ষণ তো খৃষ্টের জন্মের অনেক আগে থেকে চলে আসছে।’
রফিক ভাই চুপচাপ। কফির কাপটিকে ঘুরাচ্ছেন। কপাল ভাঁজ করে কী যেন চিন্তা করছেন। হয়তো মনে মনে ভাবছেন, ‘আমার শেষ টোপটাও ফারিসকে গেলানো গেলো না।’ রফিক ভাইয়ের নিস্তব্ধতা আমাকে সত্যিই আনন্দিত করছে। লোকটা অনেক ফাক-ফোঁকর খুঁজে ফারিসকে আটকানোর চেষ্টা করলো। কিন্তু কোনোটাই কোনো কাজে আসলো না। আসলে মিথ্যা যতই বিশাল হোক না কেন – তার স্থিতি নেই। মিথ্যা তো সমুদ্রের ফেনার মতো। ফেনা তো বিলীন হয়েই যায়।
রফিক ভাই চুপ করে আছেন দেখে ফারিস বললো, ‘সমকামিতাকে সহজলভ্য করার জন্য আমেরিকাকে আজ চরম মূল্য দিতে হচ্ছে। আমেরিকা আজ যৌন বিকারগ্রস্ত রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। যৌনরোগ সেখানে মহামারি আকার ধারণ করেছে। আমেরিকার ৬৫ মিলিয়ন নাগরিক বিভিন্ন যৌনরোগে আক্রান্ত। শুধুমাত্র HIV-তে আক্রান্ত হলো ১.২ মিলিয়ন। এদের মধ্যে সমকামীদের পরিমাণ হলো ৫৪%। আমেরিকার মোট জনসংখ্যার মাত্র ৩.৫% হলো সমকামি। তুলনামূলক অনুপাতে সমকামীরা একেবারেই নগণ্য। কিন্তু সংক্রমণের দিক থেকে এরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ শুধুমাত্র ২০১২ সালে ১৩,৭১২ জন এইডস আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু ঘটে। যাদের মধ্যে ম্যাক্সিমামই হল গে অথবা লেসবিইয়ান। যৌনরোগুলোর ৫৭% সমকামীদের দ্বারা ছড়ায়। রফিক ভাই, একটু ভাবুন। ভেবে দেখুন, সকামিতা কতটা ভয়ানক ব্যাধি। সমাজের জন্য কতটা ক্ষতিকর। ব্যক্তির জন্য কতটা ধ্বংসাত্মক। এর পরেও যদি আপনি সমকামিতার পক্ষ নেন, আর সমকামিতার বিরোধীতা করার জন্য হুজুরদের সমালোচনা করেন – তো আমার বলার কিছুই নেই ভাই। অ্যাজ ইওর উইশ, ব্রাদার।’

কথা বলতে বলতে কোন দিক দিয়ে যে এক ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে বুঝতেই পারিনি। ফারিসের যাদুকরী কথার ছোঁয়ায় হারিয়ে গিয়েছিলাম মনে হয়। তাই ষাট মিনিটকে কয়েক মিনিটের মতো মনে হয়েছে। মনে হচ্ছে যেন এইমাত্রই এলাম।
ক্লাসের সময় হয়ে গিয়েছিলো। তাই আমি ফারিসকে ইশারা দিলাম। ও কথা থামিয়ে দিলো। রফিক ভাইয়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আমরা ফ্যাকাল্টির দিকে যাত্রা করলাম। চলে যাওয়ার সময় আমি রফিক ভাইয়ের মুখের দিকে তাকাচ্ছিলাম। তাঁর মুখটা বেশ শুকনো দেখাচ্ছিলো। মনে হচ্ছে যেন বাংলার পাঁচ। তাঁকে পরাজিত সৈনিকের মতো মনে হচ্ছিলো। তিনি আজও ফারিসের কাছে হেরেছেন। মারাত্মকভাবে হেরেছেন। আর হবেনই না কেন? সত্য কখনোই মিথ্যার সামনে জয়ী হতে পারে না। মিথ্যার সে ক্ষমতা নেই। মিথ্যা তো নিম্নগামী।


তথ্যসূত্র:
1) Hamer DH, Hu S, Magnuson VL, Hu N, Pattatucci AM (July 1993). “A linkage between DNA
markers on the X chromosome and male sexual orientation”. Science, 261 (5119): 321–7
2) S. S. Witkin and J. Sonnabend, “Immune Responses to Spermatozoa in Homosexual Men,” Fertility and Sterility, 39(3): 337-342, pp. 340-341 (1983).
3) New Evidence of a gay gene’ by AnastasiaTouefexis,Time ,November 13,1995,vol. 146,issue 20,p.95
4) George Rice, et al., “Male Homosexuality: Absence of Linkage to Microsatellite Markers at Xq28,”Science, Vol. 284, p. 667.
5) William Byne and Bruce Parsons, “Human Sexual Orientation: The Biologic Theories Reappraised,” Archives of General Psychiatry, Vol. 50, March 1993: 228-239
6) Laumann EO, Gagnon JH, Michael RT, Michaels S. 1994. The Social Organization of Sexuality. Chicago: University of Chicago Press
7) American Psychiatric Association . Fact sheet – “Gay,Lesbian and Bisexual Issues,” , May – 2000
8) Henry Kazal, et al., “The gay bowel syndrome: Clinicopathologic correlation in 260 cases,” Annals of Clinical and Laboratory Science, 6(2): 184-192 (1976).
9) Hepatitis A among Homosexual Men—United States, Canada, and Australia,” Morbidity and Mortality Weekly Report, CDC, 41(09): 155, 161-164 (March 06, 1992).
10) Glen E. Hastings and Richard Weber, “Use of the term ‘Gay Bowel Syndrome,’” reply to a letter to the editor, American Family Physician, 49(3): 582 (1994).
11) Paraphilias,” Diagnostic and Statistical Manual of Mental Disorders, Fourth Edition, Text Revision, p. 576, Washington: American Psychiatric Association, 2000;
12) Karla Jay and Allen Young, The Gay Report: Lesbians and Gay Men Speak Out About Sexual Experiences and Lifestyles, pp. 554-555, New York: Summit Books (1979).
13) Mads Melbye, Charles Rabkin, et al., “Changing patterns of anal cancer incidence in the United States, 1940-1989,” American Journal of Epidemiology, 139: 772-780, p. 779, Table 2 (1994).
14) N. Kenneth Sandnabba, Pekka Santtila, Niklas Nordling (August 1999). “Sexual Behavior and Social Adaptation Among Sadomasochistically-Oriented Males”. Journal of Sex Research.
15) Theo Sandfort, Ron de Graaf, et al., “Same-sex Sexual Behavior and Psychiatric Disorders,” Archives of General Psychiatry, 58(1): 85-91, p. 89 and Table 2 (January 2001).
16) Edward O. Laumann, John H. Gagnon, et al., The social organization of sexuality: Sexual practices in the United States, p. 293, Chicago: University of Chicago Press, 1994
17) United States”. HIV/AIDS Knowledge Base. University of California, San Francisco. Retrieved November 25, 2011.
18) “Estimating HIV Prevalence and Risk Behaviors of Transgender Persons in the United States: A Systematic Review”. AIDS Behav. 12 (1): 1–17. Jan 2008. doi:10.1007/s10461-007-9299-3. PMID 17694429.
19) Centers for Disease Control and Prevention, (CDC) (June 3, 2011). “HIV surveillance—United States, 1981–2008”. MMWR. Morbidity and mortality weekly report. 60 (21): 689–93. PMID 21637182.
20) R. R. Wilcox, “Sexual Behaviour and Sexually Transmitted Disease Patterns in Male Homosexuals,” British Journal of Venereal Diseases, 57(3): 167-169, 167 (1981).
21) C. M. Thorpe and G. T. Keutsch, “Enteric bacterial pathogens: Shigella, Salmonella, Campylobacter,” in K. K. Holmes, P. A. Mardh, et al., (Eds.), Sexually Transmitted Diseases (3rd edition), New York: McGraw-Hill Health Professionals Division, 1999.
22) Wikipedia, Article: Homosexuality,
https://en.wikipedia.org/w/index.php?title=Homosexuality&oldid=788405411
23) Wikipedia, Article: Coprophilia,
https://simple.m.wikipedia.org/wiki/Coprophilia
24) Wikipedia, Article: HIV, https://en.m.wikipedia.org/wiki/HIV/AIDS
25) Wikipedia, Article: Sadism, https://en.m.wikipedia.org/wiki/Sadism
26) http://www.bbc.com/bengali/news-40546773
27) http://www.cdc.gov/hiv/topics/msm/index.htm
28) http://www.springerlink.com/content/jx13231641717w48/
29) http://www.cdc.gov/hiv/resources/qa/qa22.htm
30) http://www.unaids.org/en/aboutunaids/unaidsstrategygoalsby2015/
31) http://www.cdc.gov/hiv/topics/surveillance/basic.htm#incidence
32) http://www.journals.uchicago.edu/CID/journal/issues/v38n2/30832/30832.html?erFrom=-8997763093503343538Guest
33) http://www2.law.ucla.edu/williamsinstitute/pdf/How-many-people-are-LGBT-Final.pdf
34) http://www.theatlantic.com/science/archive/2015/10/no-scientists-have-not-found-the-gay-gene/410059/
35) http://www.evolvedworld.com/articles/item/169-back-to-school-sex-101
36) http://www.yourtango.com/experts/ava-cadell–ph-d—ed-d/3-reasons-men-cheat
37) https://concernedwomen.org/images/content/bornorbred.pdf
38) http://www.youth-suicide.com/gay-bisexual/gbsuicide1.htm


সমাপ্ত