মহিমান্বিত রজনী শবে কদর

13599547_1823358184564840_392168129_nলাইলাতুল বা শবে কদর মহিমান্বিত একটি রজনী। লাইলাতুল কদরের নির্দিষ্ট কোন তারিখ নেই। রমজানের শেষ দশকের বেজোড় যে কোন রাতই শবে কদর হতে পারে। লাইলাতুল কদরের তারিখের ব্যাপারে হযরত উবায়দা (রা:) নবী করীম (সা: কে জিজ্ঞাসা করলে তখন নবী (সা:) সেই সাহাবীকে বললেন রমজানের বেজোড় শেষের দশ দিনের রাতগুলোকে তালাশ করো’। তাই ২১, ২৩, ২৫, ২৭, ২৯ তারিখের রাতসমুহকে বেশি গুরুত্ব দেয়া জরুরি। যুগে যুগে আল্লাহওয়ালাদের অনুভব এবং বিগত দিনের অভিজ্ঞতার আলোকে ২৭ তারিখেই অধিক সম্ভাবনাময় বলে কেউ কেউ মনে মনে করেন। লাইলাতুল কদরের রজনীর ফজিলত অপরিসীম। তাই সারা রাত জাগরণ করে সঠিকভাবে ইবাদত-বন্দেগীতে মনোনিবেশ করা কর্তব্য। বেশি বেশি নফল নামাজ, তাহাজ্জুদ, সালাতুস তাসবিহ, উমরী কাযা নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, দান-সাদকা, জিকির-আজকার, তাসবিহ-তাহলিল, তাওবা-ইসতেগফার, দুয়া-দুরূদসহ ইত্যাদি নফল আমলের প্রতি মনযোগী হওয়া একান্ত জরুরি।

‘লাইলুন’ শব্দটি আরবি, এর শাব্দিক অর্থ হচ্ছে, রজনী। কদর শব্দটিও আরবি এর কয়েকটি অর্থ রয়েছে, এক অর্থ হচ্ছে মাহাত্ম্য ও সম্মান। আরেক অর্থ হচ্ছে তাকদির বা আদেশ। কদর নামকরনের কারণ: যেহেতু এ রজনী অত্যন্ত মহিমান্বিত ও সম্মানী সে জন্য এ রজনীকে লাইলাতুল কদর বলা হয়ে থাকে। আবার এ রাতে যেহেতু পরবর্তী এক বৎসরের অবধারিত বিধিলিপি ফেরেশতাগণের নিকটে হস্তান্তর করা হয় সে জন্যএ রজনীকে কদরের রজনী বলা হয়।

 


সূরা কদর অবতীর্ণ হওয়ার পটভূমি


ইবনে আবি হাতেম (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন-একদা রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিগণের সম্মুখে বনী ইসরাঈলের জনৈক চারজন লোক সর্ম্পকে আলোচনা করলেন েেয, তারা দীর্ঘ হায়াত লাভ করে অধিককাল যাবত ইবাদত করেন। এ সময়ের মধ্যে তারা একটি ও নাফরমানি করেননি। রাসুল (সা.) এর জবান মোবারক থেকে এ কথা শুনতে পেরে সাহাবায়ে কেরামগণ অত্যন্ত বিস্মিত হলেন এবং নিজেদের ব্যাপারে আফসোস করতে লাগলেন। সাহাবায়ে কেরামগণের এ আফসোসের পরিপ্রেক্ষিতে মহান রাব্বুল আলামিন হযরত জিবরাঈল (আ:) এর মাধ্যমে রাসুল (সা:) এর উপর এমন সময় এই সুরায়ে ‘কদর’ অবতীর্ণ করেন।


লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব ও তাৎপর্য 


যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াব লাভের আশায় লাইলাতুল কদরের রাতকে ইবাদতের মাধ্যমে সারা রাত জাগরণ করে কাটাবে তার পূর্বকৃত গুনাহসমূহকে মাফ করে দেয়া হবে’। (বুখারি ও মিশকাত শরিফ)

_1186418307_nলাইলাতুল কদরের ফজিলত অপরিসীম। কদরের ফজিলত বুঝানোর জন্য মহান আল্লাহ তালা পবিত্র কুরআনে ‘কদর’ নামে আলাদা একটি সুরা অবতীর্ণ করেন। কেবল কুরআনেই নয় বরং হাদিসে ও কদরের ফজিলত রয়েছে বলে প্রমাণ রয়েছে। কদরের ফজিলত সর্ম্পকে মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনের সুরায়ে কদরে এরশাদ করেন, নিশ্চয়ই আমি মানবতার মুক্তির মহান সনদ পবিত্র আল কুরআনকে লাইলাতুল কদরে অবতীর্ণ করেছি। আপনি কি জানেন লাইলাতুল কদর কি? লাইলাতুল কদর হচ্ছে হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। উক্ত রজনীতে ফেরেশতাগণ ও জিবরাঈল (আ:) তাদের প্রতিপালকের নির্দেশে প্রত্যেক বিষয় নিয়ে অবতীর্ণ হন এটা শন্তিময় রজনী যা ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। কুরআনে কদরের রাতকে হাজার মাসের চেয়েও উত্তম বলা হয়েছে। হাজার মাস ৮৩ বছর ৪ মাস হয়ে থাকে। অর্থাৎ হাজার মাস ইবাদত-বন্দেগী করে যে সওয়াব অর্জন করা যায় সে সওয়াব শুধু এক কদরের রজনীতে ইবাদত-বন্দেগী করে অর্জন করা যায়। এ জন্য যতটুকু পারা যায় ততটুকু ইবাদত করে কদরের রজনীকে কাটানো আমাদের জন্য জরুরি।

বিখ্যাত সাহাবি হযরত আবু হোরায়রা (রা:) থেকে বর্ণিত রাসূল (সা:) ইরশাদ করেন-‘মহানবী (সা:) এরশাদ করেন,-‘যদি তোমরা কবরকে আলোকময় পেতে চাও তাহলে লাইলাতুল কদরে জাগ্রত থেকে ইবাদত কর’।-(মিশকাত ও বায়হাকি শরিফ)

রাসূল (সা:) এরশাদ করেন, ‘তোমরা লাইলাতুল কদরকে মাহে রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাত সমুহে তালাশ কর’।-(বুখারি শরিফ)
হযরত উমর (রা:) থেকে বর্ণিত রাসূল (সা:) এরশাদ করেন, ‘রমাজানের ২৭ তারিখের রাতের ভোর পর্যন্ত ইবাদত-বন্দেগী আমার কাছে সারা রমজানের অন্য সব রাত্রের ইবাদত অপেক্ষা অধিক প্রিয়’। (তিরমিজি শরিফ)

হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা:) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা:) এরশাদ করেন- ‘যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদর পেল কিন্তু ইবাদত বন্দেগীর মাধ্যমে কাটাতে পারল না তার মতো হতভাগা দুনিয়াতে আর কেউ নেই! রাসূল (সা:) আরো বলেন, যে লোক শবে কদর থেকে বঞ্চিত হয় সে যেন সমগ্র কল্যাণ থেকে পরিপূর্ণ বঞ্চিত হল। (ইবনে মাজাহ শরিফ)

হযরত আয়েশা (রা:) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, একদা আমি রাসূল (সা:) কে জিজ্ঞাসা করলাম হে আল্লাহর রাসূল আমি যদি কদরের রাত সর্ম্পকে অবহিত হতে পারি তবে আমি কি করব? তখন রাসূল (সা:) আমাকে এই দুয়া পাঠ করার জন্য বললেন। দুয়াটি হল, ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি’।