পবিত্র হজ্বের আনুষ্ঠানিকতা শুরু : মুসল্লিদের মিনায় গমন

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | মুহাম্মাদ জিন্নুরাইন


মহিমান্বিত হজ্বব্রত পালনার্থে মক্কায় সমবেত বিশ্বের লাখো ধর্মপ্রাণ মুসলমান আজ ফজরের পরে ইহরামে আবৃত ও তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় মিনায় এসে সমবেত হয়েছেন। হাজীদের মিনায় গমনের মধ্যদিয়ে শুরু হয়ে যায় হজ্বের ৫ দিনের ধারাবাহিক আনুষ্ঠানিকতা। (৮ই জিলহজ্ব থেকে ১২ই জিলহজ্ব পর্যন্ত মোট ৫ দিন হজ্বের মূল সময়। ১৩ই জিলহজ্বেও হজ্ব সংশ্লিষ্ট কিছু ঐচ্ছিক আমল রয়েছে।)

হজ্বযাত্রীরা বাসে, গাড়িতে উপরন্তু পদব্রজে সেলাইবিহীন (পুরুষেরা) কাপড়ে আবৃত হয়ে ৯ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে মিনায় উপনীত হন। তাঁদের মুখে গুঞ্জরিত ছিল ‘লাব্বাইকাল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা-শারিকা-লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হাম্‌দা- ওয়া- নি’মাতা লাকা ওয়াল-মুল্‌ক, লা শারিকা-লাক।

আজকের কার্যসূচী:
সৌদিতে আজ ৮ই জিলহজ্ব। সে হিসাবে আজ সূর্য ঢলে যাওয়ার পর থেকে ৯ই জিলহজ্ব সূর্যোদয় পর্যন্ত পুরো সময় মিনায় অবস্থান করা মুস্তাহাব। আর ৮ই জিলহজ্ব জোহর থেকে ৯ই জিলহজ্ব ফজর পর্যন্ত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মিনাতে পড়া এবং ৮তারিখ দিবাগত রাতে মিনায় অবস্থান করা পৃথক দুটি সুন্নত।

বর্তমানে মিনা ও মুজদালিফা মক্কার অংশ হিসাবে পরিগণিত। কারণ, এ দু’স্থান এবং মক্কার পুলিশ প্রশাসন একই। এছাড়া মক্কা থেকে মিনা পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে বসতি চলে এসেছে। আর অপর দিকে আজিজিয়া থেকে মুজদালিফাতে আবাদি চলে এসেছে।

হজ্বের সুবিধার্তে প্রতিটি গ্রুপে একজন সৌদি মুয়াল্লিম ও একজন দেশী মুয়াল্লিম থাকে। মুয়াল্লিমগণ মক্কা থেকে মিনায় গমনের জন্য নির্দিষ্ট রিজার্ভ পরিবহণের ব্যবস্থা করেন। সাধারণত ১৫ মিনিটের রাস্তা হলেও তীব্র যানজটে মিনায় গমনে ঘণ্টা দুয়েক লেগে যায়।

পবিত্র নগরী মিনা এখন (fireproof) অগ্নিরোধী তাবু দ্বারা আচ্ছাদিত। একইসাথে তাঁবুগুলো শীতাতপনিয়ন্ত্রিত। মহিলা ও পুরুষের জন্য আলাদা তাবু এবং প্রতিটি তাবুতে প্রায় ১০০ জনের বিছানা থাকে। সৌদি সরকার প্রত্যেকের জন্যে পৃথক পৃথক ফোমের বিছানা, বালিশ, কম্বল, চাঁদর ইত্যাদির ব্যবস্থা করে। প্রায় ৮টি তাবু মিলিয়ে একটি এরিয়া করা হয়। প্রতিটি এরিয়ায় বিরাট পরিধিজুড়ে রান্নারস্থান,নিজস্ব এজেন্সির অফিস, বাথরুম ইত্যাদি থাকে। পুরো মিনায় সিসি ক্যামেরা সহ ডিফেন্সের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে। প্রত্যেক হাজীকে তাবু ও হজ্বের অনুমতিপত্র প্রদর্শন করে স্বীয় তাবুতে প্রবেশ করতে হয়।

মিনায় অবস্থানকালে বিশুদ্ধ পানি, খাবার ও ফলমূলের ব্যাবস্থা সৌদি সরকার কর্তৃক করা হয়।

বাংলাদেশ সরকারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী গতবছর আনুমানিক ১৮৮ দেশ থেকে ২৩ লক্ষ ধর্মপ্রাণ মানুষ হজ সম্পাদন করেছিলেন।

আজ রাত্রি যাপন শেষে হাজ্বীরা কাল সূর্যদয়ের পর থেকে মিনা থেকে আরাফার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন।