পঞ্চগড়ের আহমদ নগরে কাদিয়ানিদের ৩ দিনব্যাপী সম্মেলন বন্ধ করতে সরকারের প্রতি জোর দাবী জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়াত বাংলাদেশ-এর সভাপতি ও দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসার মহা-পরিচালক আল্লামা মুহাম্মদ ইয়াহইয়া ।
মঙ্গলবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মাওলানা রাশেদ বিন নুরের মাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
আল্লামা ইয়াহইয়া বলেন, খতমে নবুওয়াত অস্বীকারকারী কাদিয়ানীরা সু্স্পষ্টভাবে অমুসলিম তথা কাফের। ইসলামবিদ্বেষী আন্তর্জাতিক অপশক্তির এজেন্ডা বাস্তবায়নে তারা মুসলিম নাম ও পরিভাষা ব্যবহার করে সাধারণ মুসলমানদেরকে ঈমানহারা করার মিশন চালাচ্ছে। তাদের প্রতারণাপূর্ণ কার্যক্রমের কারণে দেশের কোটি কোটি তাওহিদী জনতা চরম বিক্ষুব্ধ ও প্রতিবাদমুখর। কাদিয়ানীরা শুধু ইসলামের দুশমন নয়, তারা বেআইনী কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে শান্তি এবং স্থিতিশীলতায় বিঘ্ন ঘটিয়ে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের জন্যও চরম হুমকি তৈরি করছে।
তিনি বলেন, আমরা জানতে পেরেছি পঞ্চগড়ের আহমদ নগরে আগামী ২৫, ২৬ ও ২৭ ফেব্রুয়ারী তিনদিন ব্যাপী সম্মেলন আয়োজনের লক্ষ্যে কাদিয়ানীরা প্রস্তুতি গ্রহণ ও প্রচারণা চালাচ্ছে। এতে দেশের আলেম সমাজ ও রাসূলপ্রেমি তাওহিদী জনতা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এই সম্মেলন চলতে দিলে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার প্রবল আশংকা আছে। তাই সরকারের প্রতি পঞ্চগড়ে কাদিয়ানীদের সম্মেলন বন্ধ করতে আমরা জোর দাবী জানাচ্ছি।
তাছাড়া বাংলাদেশে কাদিয়ানীদের সকল কার্যক্রম বন্ধ এবং জাতীয় সংসদে আইন পাস করে তাদেরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার জোরালো আহ্বান জানাচ্ছি।
তিনি আরো বলেন, প্রতিটি মুসলমানের জন্য খতমে নবুওয়াতের উপর দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন ঈমানের অপরিহার্য অঙ্গ। কিন্তু গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর অনুসারী কথিত আহমদিয়ারা খতমে নবুওয়াতে বিশ্বাস করে না। সুতরাং তারা কোনভাবেই মুসলমানদের কোনো পরিভাষা, যেমন মসজিদ, মাদ্রাসা, মিম্বার, আযান, সালাত, রোযা, ঈদ, কুরবানী ইত্যাদি পরিভাষা ব্যবহার করতে পারবে না। তারা অমুসলিম পরিচয় নিয়ে অন্যান্য সংখ্যালঘু নাগরিকদের মতো এদেশে বসবাস করলে তাতে আমাদের কোন আপত্তি নেই।
হাটহাজারীর মহা-পরিচালক আল্লামা ইয়াহইয়া বলেন, বায়তুল্লাহ আল্লাহর ঘর- কেউ অস্বীকার করলে সে যেমন কাফের। কুরআন আল্লাহর কিতাব- কেউ অস্বীকার করলে সে যেমন কাফের, ঠিক তেমনিভাবে খতমে নবুওয়তকে যদি কেউ অস্বীকার করে, তাহলে সেও ঈমানহীন অর্থাৎ কাফের।
তিনি আরও বলেন, এদেশের মুসলমানদের ঈমান আক্বিদা হেফাজতের জন্য, তাদের প্রতারণা ও ধোঁকায় পড়ে ঈমানহারা হওয়ার হাত থেকে সাধারণ মুসলমানকে বাঁচানোর জন্য পঞ্চগড়ের আহমদ নগরে কাদিয়ানীরা যে সম্মেলন আয়োজন করতে যাচ্ছে তা বন্ধ করতে সরকারের নিকট জোর দাবী জানাচ্ছি। এই ধরনের আয়োজন বন্ধ না করলে ইসলাম প্রিয়, নবী প্রেমিক তৌহিদি জনতা ফুঁসে উঠবে।
তিনি আরও বলেন, ইতিপূর্বে সরকার যেভাবে দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করে তাদের এ জাতীয় সম্মেলন বন্ধ করেছিলো, এবারোও তাদের সম্মেলন বন্ধ করে সাধারণ মানুষকে তাদের ধোঁকা ও বিভ্রান্তি থেকে বাঁচানোর জন্য এবং দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হওয়া থেকে রক্ষা করতে তাদের সম্মেলন বন্ধ করা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। যদি এর ব্যত্যয় ঘটে এবং এর ফলে দেশে উদ্ভূত কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয় তখন এর দায়ভার সরকারকে বহন করতে হবে।











