ইতিহাস বিকৃত করে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের নামে উদ্দেশ্যমূলক ভাবে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের চেয়ারম্যান ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর নামে শরীয়তপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলা করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দণ্ড বিধির ৫০০ ধারা মোতাবেক মামলাটি করেছেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন শরীয়তপুর জেলার সভাপতি সাইফ রুদাদ।
জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস মামলাটি গ্রহণ করেছেন। মামলার নম্বর ১৫/২০২২।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২ ফেব্রুয়ারি ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি— এনডিএফের এক প্রতিবাদ সভায় ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, কাদের মোল্লা ছাত্র ইউনিয়ন করতেন। এর পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ মিডিয়াগুলোতে হৈ চৈ পড়ে যায়।
মামলায় বলা হয়, ১৯৬৮ সালে কাদের মোল্লা তার ছাত্রজীবনে ফরিদপুরে থাকাবস্থায় জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন ছাত্র সংগঠন ছাত্র সংঘর সামনের সারির নেতা ছিলেন। এরপর ১৯৬৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর সলিমুল্লাহ হল শাখার সভাপতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি, ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য হিসেবে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে ছাত্র সংঘর যাবতীয় কাজে নিজেকে সক্রিয় রেখেছেন। ১৯৭১ সালের একজন প্রতিষ্ঠিত রাজাকার হিসেবে প্রমাণিত যুদ্ধাপরাধী হওয়ায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করলে তা কার্যকরও করা হয়। অন্যদিকে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ দেশের স্বাধীনতা ও স্বাধীকার আন্দোলনে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ছাত্র ইউনিয়ন তার গেরিলা বাহিনী নিয়ে এ দেশকে মুক্ত করার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করলে তার অনেক কর্মী শহীদ হন। কাদের মোল্লার মতো একজন ব্যক্তি ১৯৭১ সালে ছাত্র ইউনিয়ন করত মর্মে জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বক্তব্য ইতিহাস বিকৃত করার শামিল ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত।











