আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতার ৩৮তম আসরে সারাবিশ্বে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন বাংলাদেশের প্রতিযোগী হাফেজ সালেহ আহমাদ তাকরীম। তিনি রাজধানীর মিরপুর ১ এ অবস্থিত মারকাযু ফয়জিল কুরআন আল ইসলামীর ছাত্র।
ইরানের রাজধানী তেহরানের আন্দিশাহ হলে অনুষ্ঠিত ৩৮তম আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় তিনি সারাবিশ্বে প্রথম স্থানের এ গৌরব অর্জন করেন।
জানা যায়, গত বছরের ২২ আগস্ট হাফেজ সালেহ আহমাদ তাকরীম ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের তত্ত্বাবধানে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করে ইরান আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতার জন্য বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়।
এরপর পর্যায়ক্রমে ইরান আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতার প্রথম দুই বাছাই পর্বে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্ত পর্বে প্রথম স্থান অর্জন করে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকা ঊড্ডিণ করতে সক্ষম হয়।
সম্প্রতি চলতি মাসের ৫ তারিখে জমকালো আয়োজনের মাধ্যমে এবছরের পৃথিবী সেরা বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়।
ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইরানের সাংস্কৃতিক মন্ত্রী মাহদী ইসমাইলী, শিক্ষা মন্ত্রী ইউসুফ নুরীসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতগণ।
হাফেজ সালেহ আহমাদ তাকরীম ২০০৮ সালের টাঙ্গাইলের নাগরপুর থানাধীন ভাদ্রা গ্রামে এক ধার্মিক পরিবারে জন্ম গ্রহণ করে। তার বাবা হাফেজ আব্দুর রহমান পেশায় একজন মাদ্রাসার শিক্ষক এবং মা গৃহিণী।
তাকরিম ইতোপূর্বে জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো পবিত্র কুরআনের আলো-২০২০ এ বাংলাভিশনে ১ম স্থান অর্জন করে।
তার এই অসামান্য কৃতিত্বের শোকরিয়া স্বরূপ মারকাযু ফয়জিল কুরআন আল ইসলামী ঢাকার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল, গুলশান সোসাইটি জামে মসজিদের খতিব মুফতি মুরতাজা হাসান ফয়েজী মাসুম দেশবাসীর কাছে দুআ চেয়েছেন।
তিনি বলেন, আল্লাহ যেন তাকরীমসহ ইলমে দ্বীনের সকল শিক্ষার্থীকে আন্তর্জাতিক মানের আলেম ও দ্বীনের খাদেম হওয়ার তাওফীক দান করেন। আমীন।
মুফতি মুরতাজা হাসান ফয়েজী মাসুম আরও বলেন, তার প্রতিষ্ঠানের ছাত্ররা গত দু’বছর কুয়েত, মিশর ও আলজেরিয়া আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতার বাছাইয়ে চূড়ান্ত প্রতিনিধি মনোনীত হলেও করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে অংশগ্রহণ করতে পারেনি।
জানা যায়, হিফজ বিভাগের পাশাপাশি কিতাব বিভাগেও ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে মারকাযু ফয়জিল কুরআন আল ইসলামী। গত বছর কিতাব বিভাগের নাহবেমির ও শরহে বেকায়া জামাতের ৩০ জন ছাত্র বেফাক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। যাদের মধ্যে ২১জন মুমতাজসহ ১৪জন মেধাতালিকায় উত্তীর্ণ হয়েছে।










