বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা ইউসুফ আশরাফ বলেছেন, ১৯৭১ এর স্বাধীনতা সংগ্রাম ইসলাম ও কুফরের ভিত্তিতে ছিলো না। ছিলো জালেমের বিরুদ্ধে মজলুমের লড়াই। পাকিস্তান আমাদের উপর জুলুম করেছে। আমাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। স্বাধীনতার যুদ্ধে সকল ধর্মের মানুষ অংশ গ্রহণ করে ছিলো। কিন্ত একটি স্বার্থান্বেষী মহল এ যুদ্ধকে অন্যভাবে আখ্যায়িত করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করে দেশ ও ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে দেশে অশান্তি সৃষ্টি করতে চায়। দেশের মানুষ সজাগ রয়েছে। তাদের ষড়যন্ত মোকাবেলায় ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
আজ শনিবার (২৬ মার্চ) সকালে পুরানা পল্টনস্থ দারুল খিলাফাহ মিলনায়তনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে আয়োজিত মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও দুআ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমীর বলেন, স্বাধীনতা অর্জন করলেও দেশের মানুষ স্বাধীনতা ভোগ করতে
পারছে না। দুর্নীতির কষাঘাতে মানুষ জর্জরিত। সরকার দুর্নীতি বন্ধ করতে পারছে না। দুর্নীতি নির্মূল করতে পারলে জিনিসপত্রের দাম ও গ্যাসের মূল্য
বৃদ্ধি করতে হবে না।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকসহ অনেক আলেম-উলামা ও ইসলামী নেতৃবৃন্দ এখনও কারাবন্দী। অবিলম্বে তাদের মুক্তি দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, স্বাধীনতার পর যারাই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিলো কেউ মানুষের মৌলিক অধিকার দিতে পারে নাই। সুতরাং মৌলিক অধিকার পেতে হলে খেলাফতের শাসন প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
তিনি বলেন, মানুষের জান মালের কোনো নিরাপত্তা নেই। মানুষের আয়ের তুলনায় জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় মহাকষ্টে রয়েছে। তিনি রমজানের আগেই জিনিসপত্রের দাম কমানোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
ঢাকা মহানগর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুফতি নূর মোহাম্মদ আজিজীর সভাপতিত্বে ও সহ-সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আতিক উল্লাহ এর পরিচালনায় এতে বক্তব্য রাখেন যুগ্মমহাসচিব মাওলানা কোরবান আলী কাসেমী, কেন্দ্রীয় অফিস ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আবুল হাসানাত জালালী, প্রকাশনা সম্পাদক মাওলানা হারুনুর রশীদ ভূইয়া, নির্বাহী সদস্য মাওলানা রুহুল আমীন খান, যুব মজলিসের ঢাকা মহানগরীর সভাপতি মাওলানা রাকিব হোসাইন, সহ-সভাপতি মুফতি জাহিদুজ্জামান, মাওলানা আবু হানিফ নোমানী, মুহাম্মদ জাভেদ হোসাইন, হাফেজ দেলোয়ার
হোসাইন,ইসলামী ছাত্র মজলিস ঢাকা মহানগরীর সভাপতি মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ সাকিব সাইফী প্রমূখ।
আলোচনা শেষে স্বাধীনতা সংগ্রামে শাহাদাত বরণকারীদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দুআ করা হয়।










