আফগানিস্তানের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা এই অঞ্চলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিন্ন নিরাপত্তা ও উন্নয়নসংক্রান্ত বিষয়গুলোর অন্যতম বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
তিনি বলেন, আফগানিস্তানের নিরাপত্তা এ অঞ্চলের সব দেশের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) কিরগিজস্তানের চোলপন-আতায় অনুষ্ঠিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
আফগানিস্তানের সঙ্গে তেহরানের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে আরাগচি বলেন, একটি স্থিতিশীল আফগানিস্তান প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নেওয়া যেকোনো উদ্যোগকে ইরান সমর্থন করে। একই সঙ্গে তিনি আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যকার উত্তেজনা ও সংঘর্ষ বন্ধের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “একটি নিরাপদ, স্থিতিশীল, উন্নত ও সন্ত্রাসবাদমুক্ত আফগানিস্তান প্রতিষ্ঠায় সহায়ক যেকোনো উদ্যোগকে আমরা সমর্থন করি, যেখানে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার থাকবে। বিশেষভাবে আমরা আফগানিস্তান এবং আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ পাকিস্তানের মধ্যকার উত্তেজনা ও সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানাই।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষক নাজিবুল্লাহ বাহাদুর বলেন, আফগানিস্তানের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা আঞ্চলিক দেশগুলো এবং বৃহত্তর বিশ্বের স্বার্থের সঙ্গে জড়িত। বিশেষ করে ইরান বর্তমানে যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে, সেগুলো বিবেচনায় আফগানিস্তানের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা দেশটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
একই বৈঠকে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারও আফগানিস্তানের স্থিতিশীলতাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তবে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি আফগানিস্তানকে ঘিরে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের অভিযোগগুলোর পুনরাবৃত্তি করেন।
ইসহাক দার বলেন, “পাকিস্তান সব সময় একটি শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ ও আঞ্চলিকভাবে সংযুক্ত আফগানিস্তান চেয়েছে এবং এখনো চায়, যা নিজের ভেতরে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে শান্তিতে থাকবে। এটি এসসিওর সব সদস্যরাষ্ট্র এবং এর বাইরের দেশগুলোরও স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত। বর্তমানে আফগানিস্তান থেকে উদ্ভূত সন্ত্রাসী হুমকি আমাদের সবচেয়ে গুরুতর নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হিসেবে রয়ে গেছে।”
এমন এক সময়ে এসব বক্তব্য এসেছে, যখন সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে আরও একবার আফগানিস্তানের ইমারাতে ইসলামিয়ার কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না।
সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার পূর্ণ সদস্যদেশ ১০টি। দেশগুলো হলো চীন, রাশিয়া, ভারত, পাকিস্তান, ইরান, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান ও বেলারুশ। আফগানিস্তান সংস্থাটিতে পর্যবেক্ষকের মর্যাদা ধারণ করে।
সূত্র: তোলো নিউজ










