spot_img

জাতীয় মহাসমাবেশে দেশবাসীর প্রতি চরমোনাই পীরের আহ্বান

ইসলামের সুমহান আদর্শের আলোকে একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর, মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫১ তম বর্ষে এসেও আজকের সরকার ৭১ পুর্ববর্তী সরকারের মতো, নিপিড়নমূলক আচরন করছে। দেশের সাধারণ নাগরিকদের কোন অধিকার ও সম্মান নেই। সকল অধিকার ভোগ করছে ড়্গমতাসীন এবং তাদের দোসররা। অথচ স্বাধীনতা উত্তর দেশের মানুষ স্বপ্ন দেখেছিল, স্বাধীন দেশে তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবে। স্বাধীন নাগরিক হিসেবে মর্যাদা পাবে, সম্মান পাবে। বাক স্বাধীনতা পাবে, ন্যায়বিচার পাবে। জান-মাল, ইজ্জত-আবরম্ন এবং জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে বেঁচে থাকতে পারবে। অর্থনৈতিক সাম্য ও রম্নটি রম্নজির নিশ্চয়তা পাবে। একটি আত¥মর্যাদাশীল জাতি হিসেবে পৃথিবীর মানচিত্রে স্থান পাবে।

শুক্রবার (১ এপ্রিল) রাজধানীর গুলি¯ত্মান শহিদ মতিউর রহমান পার্কে অনুষ্ঠিত স্মরণকালের বৃহত্তম জনসমূদ্রে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী যারাই ক্ষমতায় এসেছে, সবাই জনগণের স্বপ্নকে গলা টিপে হত্যা করেছে। সবাই জনগণের সাথে অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছে। গণ-মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। দেশ শাসনের নামে জনগণকে জিম্মি করে রেখেছে। জনগণের সকল মৌলিক অধিকার হরণ করেছে। জনগণের সম্পদ লুন্ঠন করেছে। গণতন্ত্রের নামে সর্বত্র দলীয়করণ এবং স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে। গুম ও খুনের রাজত্ব কায়েম করেছে। দুর্নীতি, লুটপাট এবং সুদ ও ঘুষকে রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। শাসক শ্রেণীর এহেন কর্মকান্ডের ফলে স্বাধীনতা আজ অর্থহীন হয়ে পড়েছে। গোটা সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থায় এক ধরনের নৈরাজ্য চলছে। জনতাকে দুর্ভিড়্গরে দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন বৃদ্ধি দেশে একধরণের দুর্ভিড়্গ জন্ম দিয়েছে। লড়্গ লড়্গ মানুষ ক্ষুধা পেটে ঘুমাতে যাচ্ছে। খাবারের জন্য খাদ্য ট্রাকের পেছনে মানুষ দৌড়াচ্ছে। জাতীকে নেশাগ্রস্থ করে স্বার্থ হাসিলের পায়তারা চলছে। দেশ আর এভাবে চলতে পারে না।

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ, শিক্ষা-সিলেবাসে ধর্মীয় শিক্ষার সংকোচন বন্ধ, ইসলাম, দেশ ও মানবতাবিরোধী মদের বিধিমালা বাতিল, স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য-সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতি ও সন্ত্রাসমুক্ত কল্যাণরাষ্ট্র গঠনে ইসলামী হুকুমত কায়েমের লক্ষ্যে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় মহাসমাবেশে বক্তব্য রাখেন দলের সিনিয়র নায়েবে আমীর, মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম, মাওলানা আব্দুল আউয়াল, মাওলানা আব্দুল হক আজাদ, মহাসচিব, হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহম্মেদ,জাতীয় উলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সভাপতি হযরত মাওলানা নুরল হুদা ফয়েজী, প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, জাতীয় শিক্ষক ফোরাম সভাপতি অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, উপদেষ্টা মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ, ডা. মুহাম্মদ আক্কাস আলী সরকার, যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন সভাপতি মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, যুগ্ন মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সিনিয়র নেতা আতিকুল ইসলাম, হাফেজ মাওলানা ফজলে বারী মাসউদ, মাওলানা ইমতিয়াজ আলম, কে এম আতিকুর রহমান, ইসলামী মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ সেক্রেটারী জেনারেল বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ আবুল কাশেম, ইসলামী যুব আন্দোলন সেক্রেটারী জেনারেল আতিকুর রহমান মুজাহিদ, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ নুরুল করীম আকরাম প্রমুখ।

মহাসমাবেশ পরিচালনা করেন প্রচার ও দাওয়াহ বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম, শিক্ষা ও সংষ্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা নেছার উদ্দিন, মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী ও মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাকী। উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নেতৃবৃন্দ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন, ইসলামী যুব আন্দোলন, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ, জাতীয় শিক্ষা ফোরাম, ইসলামী মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ, ইসলামী আইনজীবী পরিষদ ও ইসলামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম পরিষদ-এর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

মহাসমাবেশ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও সরকার উদ্যান ব্যবহার করতে দেয়নি। ৩১ মার্চ জাতীয় মহাসমাবেশের ঘোষণা দিয়ে নিয়মতান্ত্রিকভাবে প্রশাসনে চিঠি ইস্যু করা হয়। সরকার নানা টালবাহানা করে প্রথমে তারিখ পরিবর্তনে বাধ্য করে, প্রশাসন চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ করে সেখানে সমাবেশ করতে দেয়নি। বাদ জুমু’আ জাতীয় মহাসমাবেশ শুরম্ন হওয়ার কথা থাকলেও সকাল ১০টার ভিতরে গুলি¯ত্মান এলাকা লোকে লোকারন্য হয়ে সমাবেশ স্থলে তিল ধারণের ঠাই ছিল না। বেলা ১১টায় জাতীয় মহাসমাবেশ শুরম্ন হয়ে দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর ও সমাবেশের সভাপতি মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম -এর খুৎবা দান ও ইমামতিতে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে জুমু’আর অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশের কারণে পুরো গুলিস্তান, নবাবপুর, পল্টন মোড় ও রাজুক ভবন এলাকা যানশূণ্য হয়ে ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীদের দখলে চলে যায়।

মহাসমাবেশে ১৫ দফা দাবি এবং ৮ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করা। ১. যেকোন মূল্যে দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি রোধ করতে হবে। বাজার কারসাজীর সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে। ২. দেশে মদ ও সকল ধরণের মাদকদ্রব্য নিষিদ্ধ করতে হবে। ৩. শিক্ষার সকল স্তরে ধর্মীয় শিড়্গাকে বাধ্যতামূলক করতে হবে। পূর্ণ ও আবশ্যিক বিষয় হিসেবে গণ্য করতে হবে। ৪. প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মুসলিম শিশুদের জন্য নামাজ শিক্ষা ও কোরআন শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করতে হবে ৫. শিক্ষা সিলেবাস থেকে চরম নাস্তিক্যবাদী সকল ধর্মবিরোধী, অবৈজ্ঞানিক ও বস্তাপঁচা ডারউইনের থিউরী বাদ দিতে হবে। কারাগারে থেকে সকল মজলুম আলেম এবং রাজবন্দিদের মুক্তি দিতে হবে ৬. জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পূর্বে জাতীয় সংসদ ভেঙ্গে দিতে হবে ৮. সকল নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মতামত নিয়ে নির্বাচনকালীন জাতীয় সরকার গঠন করতে হবে। ৯. তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহনের পূর্ব পর্যাপ্ত সশস্ত্রবাহিনী মোতায়েন করতে হবে এবং নির্বাচনের দিন সশস্ত্রবাহিনীর হাতে বিচারিক ক্ষমতা দিতে হবে ১০.নির্বাচনে সকল দলের জন্যে সমান সুযোগ তৈরী করতে হবে। রেডিও, টিভিসহ সকল সরকারী বেসরকারী গণমাধ্যমে সবাইকে সমান সুযোগ দিতে হবে এবং রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে সকল ধরনের হয়রানী বন্ধ করতে হবে ১১. দুর্নীতিবাজদেরকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে। ১২. নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার বন্ধ রাখতে হবে ১৩. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, জাতীয় সংহতি ও কার্যকর সংসদ প্রতিষ্ঠায় জাতীয় নির্বাচনে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতির (চ.জ) নির্বাচন ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে হবে ১৪. গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে প্রণীত বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করতে হবে ১৫.সকল রাজনৈতিক দলের জন্যে সভা-সমাবেশসহ সাংবিধানিক স্বীকৃত সকল রাজনৈতিক কর্মসূচী ও বাকস্বাধীনতা উন্মুক্ত করতে হবে। কর্মসূচি: বিভাগীয় সমাবেশ- ১. ১৩ মে, শুক্রবার রংপুর ২. ২০ মে, শুক্রবার বরিশাল ৩. ২১ মে, শনিবার খুলনা ৪. ২৭ মে, শুক্রবার চট্টগ্রাম ৫. ৪ জুন, শনিবার রাজশাহী ৬. ১০ জুন, শুক্রবার সিলেট ৭. ২০ জুন, সোমবার মোমেনশাহী ও ৮. ১ জুলাই, শুক্রবার ঢাকায় গণমিছিল।

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি প্রসঙ্গে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণেই দাম বাড়ে বলে মন্ত্রণালায়ের প্রতিবেদনেই উঠে এসেছে। সরকারীদলের সমর্থনপুষ্ট মধ্যস্বত্বভোগীরা স্তরে স্তরে দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি করে। পথে-ঘাটে পুলিশ ও স্থানীয় মা¯ত্মানরা চাঁদাবাজী করে। বিদেশ থেকে পণ্য আমদানী করার ড়্গেেত্র সরকারঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা নানা ধরণের কারসাজী করে পণ্যের দাম বৃদ্ধি করে। সরকারের ভুল মুদ্রানীতি, শুল্কনীতি, আমদানী সিদ্ধান্তে অপরিনামদর্শিতা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। দ্রব্যমূল্যের এই লাগামহীন বৃদ্ধি দেশে একধরণের দুর্ভিড়্গ জন্ম দিয়েছে। লড়্গ লড়্গ মানুষ ড়্গুধা পেটে ঘুমাতে যাচ্ছে। খাবারের জন্য খাদ্য ট্রাকের পেছনে মানুষ দৌড়াচ্ছে। এই পরিস্থিতি সম্পূর্ণ অর্থেই কৃত্রিম এবং তা বর্তমান সরকারের ব্যর্থতা ও সরকার দলীয় লোকদের নির্লজ্জ লোভের ফসল। অবিলম্বে দেশের খাদ্য উৎপাদন, সরবরাহ, বিতরণ ও সংরক্ষণসহ প্রতিটি স্তরে মধ্যস্বত্বভোগীদের উৎপাত কঠোর হাতে দমন করতে হবে। টিসিবিকে শক্তিশালী করে দেশব্যাপী রাষ্ট্রীয় খাদ্য সরবরাহ প্রনালী গড়ে তুলতে হবে। সিন্ডিকেটবাজী বন্ধ করতে আইন-শৃংখলা বাহিনীকে কঠোর হতে হবে। রাষ্ট্রীয় সিদ্ধাšত্ম গ্রহণে ব্যবসায়ীদের দৌরত্ব কমাতে হবে। যেকোন মূল্যে খাদ্যদ্রব্যের দাম সহনীয় করতে হবে। সরকার যদি এই ড়্গেেত্র ব্যর্থ হয় তাহলে তাদেরকে ড়্গমতা থেকে সরে যাওয়ার আহবান জানাচ্ছি।

মাদক প্রসঙ্গে তিনি কুরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, হে মুমিনগণ, নিশ্চয় মদ, জুয়া, প্রতিমা-বেদী ও ভাগ্যনির্ধারক তীরসমূহ নাপাক শয়তানের কর্ম। সুতরাং তোমরা তা পরিহার কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও। রাসুলুলস্নাহ (সা.) বলেন, ‘আলস্নাহর অভিশাপ মদের ওপর, তা পানকারীর ওপর, যে পান করায় তার ওপর, যে বিক্রি করে তার ওপর, যে তা নিষ্কাশন করে এবং যার আদেশে নিষ্কাশন করে তার ওপর আর যে ব্যক্তি তা বহন করে এবং যার কাছে পৌঁছে দেয়, সবার ওপর। ’ (সুনানে আবি দাউদ) “অ্যালকোহল নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা ২০২২” নামক মদ সহায়ক একটি বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। সরকার দেশে মদ ও অ্যালকোহল আমদানি, রপ্তানি, উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সরবরাহ, বিপণন ও ক্রয় বিক্রয় এবং সংরড়্গণের দুয়ার উন্মুক্ত করতে চাইছে। মদকে একটি সাধারণ ও সহজলভ্য পানীয় বানিয়ে ফেলা হয়েছে। যার মাধ্যমে গোটা দেশের তরম্নণ প্রজন্মকে ধ্বংশের দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ