spot_img

দুর্নীতি আড়াল করতে তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার : মুফতী ফয়জুল করীম

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেছেন, সরকারের দুর্নীতিকে আড়াল করতে জ্বালানি তেলে দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়েছে। ফলে দেশকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিবে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে। তেলের দাম বাড়ানোর কারণে নিত্যপণ্যের দাম আরও বাড়বে, মূল্যস্ফীতির কারণ হবে। দেশকে এই ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে গণ-আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এ ছাড়া বিকল্প নেই।

গতকাল মঙ্গলবার (৯ আগস্ট) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঘোষিত দেশব্যাপী বিক্ষোভের অংশ হিসেবে চাঁদপুরে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মুফতী ফজুল করীম বলেন, সরকার অন্তিম শয্যায় অবস্থায় থাকার পরও মিথ্যার আশ্রয় নিযেছে। সরকার গত ৭ বছরে ৪৩ হাজার কোটি টাকা লাভ করার পরও জনগণের স্বার্থে কাজ করতে পারছে না। সরকার সেবার মানসিকতা বাদ দিয়ে ব্যবসায়ী মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে। তিনি বলেন, তেলের দাম ১ লক্ষ টাকা লিটার হলেও সরকার দলীয় লোকজনের কোন সমস্য নেই। কেননা তারা দুর্নীতি করে প্রচুর টাকা কামিয়েছে। কিন্তু জনগণর কী হবে? এতে সভাপতিত্ব করেন দলের জেলা সভাপতি শেখ মুহাম্মদ জয়নুল আবেদীন। জেলার অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সারাদেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ পালিত
জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ এবং বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবিতে গতকাল ৯ আগস্ট মঙ্গলবার সারাদেশে জেলায় জেলায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে। কোন কোন জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ করলেও মিছিল করতে দেয়নি পুলিশ। কোথাও কোথাও বাধার সম্মুখীন হয়েছে জেলা নেতৃবৃন্দ।

বিক্ষোভ সমাবেশগুলোতে নেতৃবৃন্দ বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত চরম অমানবিক ও গণবিরোধী। এ সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে। অন্যথায় সারাদেশে জনতার রুদ্ররোষ সৃষ্টি হলে সরকারের করুণ পরিণতি বরণ করতে হবে। জেলা নেতৃবৃন্দ বলেন, সামগ্রিক বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলবে। সরকার জ্বালানি তরল-ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন, পেট্রোলের দাম যে মাত্রায় বৃদ্ধি করেছে, তা নিয়ে দেশবাসী উদ্বিগ্ন। নেতৃবৃন্দ বলেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ফলে ভোগ্যপণ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম আরেক দফা বৃদ্ধি পাবে। ফলশ্রুতিতে জনদুর্ভোগ বেড়ে যাবে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতিধারা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে তেল-গ্যাসসহ সব ধরনের জ্বালানি সহনীয় পর্যায়ে রাখতে হবে।

যেসকল জেলায় বিক্ষোভ কর্মসূচি একযোগে পালিত হয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে, ঢাকা জেলা দক্ষিণ, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সিগঞ্জ, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, শেরপুর, মোমেনশাহী, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, জামালপুর, শেরপুর, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, মাগুরা, ঝিনাইদহ, যশোর, খুলনা, নড়াইল, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, নাটোর, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, চট্টগ্রাম মহানগর, বি-বাড়ীয়া, চাঁদপুর, নোয়াখালী, কুমিল্লা, ফেনী, বরিশাল, পটুয়াখালী, ঝালকাঠী, বরগুনা, পিরোজপুর, সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার জেলায় পৃথক পৃথকভাবে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ