ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতী ফয়জুল করীম বলেছেন, দেশ গভীর সঙ্কটে নিপতিত। সঙ্কট উত্তরণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রয়োজন। নির্বাচন কমিশন অধিকাংশ রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতের প্রতি কোন তোয়াক্কা না করে বর্তমান সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় নিয়ে আসতে ১৫০ আসনে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আজ (৩১ আগস্ট) ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ ফেনী জেলা শাখা আয়োজিত প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।
মুফতী ফয়জুল করীম বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দিয়ে ভারতের কাছে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ক্ষমতা ভিক্ষা দেশের নাগরিক হিসেবে ভাবিয়ে তুলেছে। এভাবে একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ টিকে থাকতে পারে না।
তিনি বলেন, সরকার জনগণকে কোন মানুষই মনে করে না। জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়িয়েছে ৪৭% ভাগ, জনতার রুদ্ররোষে কমিয়েছে ৪% যা জনগণের সাথে চরম তামাশা। জ্বালানী তেলের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি ও দ্রব্যমূল্যের ক্রম ঊর্ধ্বগতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যয়বহুল হয়ে গেছে। সীমিত আয়ের মানুষ খুব কষ্টে দিনাতিপাত করছে। বাসাভাড়া সহ সংসারের খরচ নির্বাহ করতে না পেরে অনেকে শহর ছেড়ে গ্রামে চলে যাচ্ছে। কর্মহীন মানুষের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ডলারের বাজারে অস্থিরতার কারণে গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের আমদানী ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কারণে শিল্পকারখানা সহ কৃষি উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।
মুফতী ফয়জুল করীম বলেন, ধর্মীয় শিক্ষা নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি মানুষকে ধোকা দিচ্ছে। সিলেবাসে রেখে পাঠদানে নেই, পাবলিক পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই। এভাবে জনগণকে ধোকা দিচ্ছে শিক্ষামন্ত্রী। অপরদিকে ডারউইনের মতাদর্শ সিলেবাসে অন্তর্ভূক্ত করে নতুন প্রজন্মকে নাস্তিক বানাবার সকল আয়োজন সম্পন্ন করছে। তিনি সিলেবাস থেকে নাস্তিক্যবাদী পাঠ বাদ দিয়ে ইসলামের মহামনিষীদের জীবন চরিত অন্তর্ভূক্ত করার দাবি জানান।
শহরের একটি মিলনায়তনে সংগঠনের জেলা সভাপতি এইচএম আবু রায়হান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ছাত্র সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল করীম আকরাম।
বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা জান্নাতুল ইসলাম, সৌদী আরব প্রবাসী শাখার সভাপতি শায়খ মিজানুর রহমান, প্রিন্সিপাল মাওলানা নূরুল করীম, মুফতী আব্দুর রহমান গিলমান।










