spot_img
spot_img

কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে শীর্ষ ১০১ আলেমের যৌথ বিবৃতি

কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণার দাবীতে এবং পঞ্চগড়ের ঘটনা নিয়ে দেশের শীর্ষ ১০১ জন আলেম একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন।

রবিবার (৫ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো সেই বিবৃতিতে আলেমরা বলেন, কাদিয়ানী সম্প্রদায় ইসলামের মৌলিক দু’টি বিশ্বাসের একটি তথা হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শেষ নবী হওয়ার বিষয়টিকে অস্বীকার করে। খতমে নবুওয়াত সংক্রান্ত তাদের বিশ্বাস বিশ্ববিদিত। ফলে বিশ্বজুড়ে সকল মুসলিমদের কাছে তারা কাফের হিসেবে স্বীকৃত। বাংলাদেশেও সকল মুসলমান তাদেরকে অমুসলিম বলে মনে করে এবং তাদের জন্য সংখ্যালঘু সংক্রান্ত বিধি-বিধান সাব্যস্ত করার দাবী করে।

আলেমরা আরও বলেন, সংখ্যালঘু অমুসলিম জনগোষ্ঠি হিসেবে কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের প্রতি আমাদের কোনও রাগ-বিরাগ নাই। তাদের কোনও ধর্মীয় আচার-প্রথা ও আয়োজনের প্রতি আমাদের কোনও বিরুপ মনোভাব নাই। কিন্তু সমস্যা হলো, তারা যখন নিজেদেরকে মুসলিম দাবী করে দেশের কোটি-কোটি মুসলমানের ভেতরে অনুপ্রবেশ করতে যায়, যখন তারা নিজেদের মুসলিম দাবী করে কোটি কোটি জনতার আত্মপরিচয়ে বিভ্রান্তি ঘটায়, যখন তারা তাদের উপসানালয়, উৎসব ও আচারপ্রথাকে মুসলমানদের পরিভাষায় ব্যক্ত করে দ্বিধা-সংশয় তৈরি করে। কাদিয়ানিদের সাথে উম্মাহর সমস্যা তাদের ভিন্ন বিশ্বাস নিয়ে নয় বরং সমস্যা হলো, মুসলিম উম্মাহর পরিভাষা ব্যবহার করে উম্মাহর মধ্যে অনুপ্রবেশ করতে চাওয়া নিয়ে। সাম্প্রতিক পঞ্চগড়েও একই সমস্যা তৈরি হয়েছে। সেখানে কাদিয়ানিদের আলাদা পাড়া আছে। সেখানে তারা শান্তিতে জীবন-যাপন করছিলেন। কেউ তাদেরকে বাঁধা দেয় নাই। কিন্তু বিপত্তি বাধে যখন তারা নিজেদেরকে মুসলিম দাবী করে মুসলমানদের আদলে ও পরিভাষায় ধর্মীয় সম্মিলন করতে যায়।

তারা বলেন, কাদিয়ানিদের এই প্রতারণা নতুন নয়। যুগে যুগে তারা একই ধরণের প্রতারণা করে আসছে। মুসলিম উম্মাহ বারংবার তাদের এই প্রতারণা বন্ধ করতে চেয়েছে। তারা স্পষ্ট করে দাবী তুলেছে যে, তাদের এই ধরণের প্রতারণা বন্ধে তাদেরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করে তাদের জন্য সংখ্যালঘুদের বিধিমালা প্রযোজ্য করা হোক। এবারও এই দাবী নিয়ে পঞ্চগড়ের মানুষ শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছিলেন। তারা বহু আগে থেকেই মৌখিকভাবে বারংবার এই বিষয়ে সমাধান করতে রাষ্ট্রকে অনুরোধ করেছে। কিন্তু সরকার তা করে নি। ঘটনাক্রমে কাদিয়ানিদের প্রতারণামূলক আয়োজন যখন বাস্তবায়নের সন্নিকটে চলে এসেছে তখন জনতা রাস্তায় নেমেছে, ক্ষোভ দেখিয়েছে। বাংলাদেশ সরকার যদি সচেতন হতো, যদি তারা জনসম্পৃক্ত হতো, যদি তারা জনতার প্রতি দায়বদ্ধ থাকতো তাহলে কোটি জনতার দাবী মেনে এই বিষয়টার সুষ্ঠু সমাধান করতো। কিন্তু তা না করে হিংস্র পদ্ধতিতে তারা জনতার সাথে নির্মমতা করেছে। নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে। জনতাকে হত্যা করেছে। অতএব, ঘটনার দায় সম্পূর্ণ সরকারের। এজন্য অন্য কারো উপর দায় চাপিয়ে তৌহিদী জনতাকে কোনওরকম হয়রানী করা হলে দেশব্যাপী তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

ওলামায়ে কেরাম সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে আরও বলেন, গুলি ও হত্যা করে খতমে নবুওয়াতের আন্দোলনকে অবদমিত করা যাবে না। বরং কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণার দাবী প্রতিনিয়ত জোড়দার হবে। প্রতিফোটা রক্ত হাজার গুণ শক্তি হয়ে খতমে নবুওয়াতের দাবী নিয়ে রাজপথে নেমে আসবে।

তারা সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে বলেন, পঞ্চগড়ে হতাহত ও শহীদ পরিবারকে সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আহতদের সরকারি খরচে সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। সারা দেশে কাদিয়ানীদের সকল অপতৎপরতা বন্ধ ঘোষণা করতে হবে এবং অচিরেই কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা করে জাতীয় সংসদে আইন পাশ করতে হবে।

বিবৃতি প্রদানকারী শীর্ষ আলেমগন হলেন বেফাক-এর সভাপতি মাওলানা মাহমুদুল হাসান, জামিয়া হাটহাজারির মুহতামীম আল্লামা মুহাম্মাদ ইয়াহইয়া, জামিয়া নূরিয়ার মুহতামীম আল্লামা আতাউল্লাহ হাফিজ্জী, জামিয়া মেখলের মুহতামীম মাওলানা ওসমান ফয়জী, জামিয়া হাটহাজারির সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা শায়খ আহমদ, মুফতী রেজাউল করীম চরমোনাই পীর, মুফতী মিজানুর রহমান সাঈদ, জামেয়া নানুপুরের মুহতামীম মাওলানা সালাহ উদ্দিন নানুপুরী, জামিয়া নাজিরহাটের মুহতামীম মুফতী হাবিবুর রহমান কাসেমী, মুফতী ফয়জুল করীম, মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী, জামিয়া পটিয়ার মুহতামীম মাওলানা ওবায়দুল্লাহ হামযা, মুফতী ইমাদ উদ্দিন, ড. আ ফ ম খালিদ হোসাইন, মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী, মুফতী হিফজুর রহমান, মাওলানা মুহিবুল্লাহিল বাকী আন-নদভী, মুফতী ফয়জুল্লাহ, জামিয়া ইউনুসিয়ার মুহতামীম মাওলানা মোবারক উল্লাহ, মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, মাওলানা মুহাম্মাদ আলী, মাওলানা আবুল বাশার নোমানী, মাওলানা আবুল বাশার, মাওলানা সাইফুল ইসলাম, মাওলানা আব্দুল হক আজাদ, মাওলানা নূরুল হুদা ফয়েজী, মুফতী ওমর ফারুক সন্দ্বীপি, মাওলানা মাহবুবুল হক কাসেমী, মাওলানা মাহমুদুল হাসান ভুজপুরী, মাওলানা আবু জাফর কাসেমী, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ, ড. মাওলানা মোস্তাক আহমদ, মাওলানা মাহমুদুল হাসান মোমতাজি, মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, মাওলানা নেয়ামতুল্লাহ আল ফরিদী, মাওলানা ড. বেলাল নূর আজিজী, মাওলানা আজিজুর রহমান কক্সবাজার, মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, মুফতী শামসুদ্দোহা আশরাফী, মুফতী কেফায়েতুল্লাহ কাশফী, মাওলানা মুফতী রেজাউল করীম আবরার, হাফেজ মাওলানা কামাল উদ্দিন সিরাজ, মাওলানা আব্দুল আজিজ কাসেমী, মাওলানা শাহজাহান আল হাবিবী, মাওলানা নাজির আহমাদ শিবলী, মাওলানা আশরাফ আলী নূরী, মুফতী এমদাদুল্লাহ ফাহাদ, মুফতী তাজুল ইসলাম, মুফতী মিজানুর রহমান কাসেমী, মুফতী গোলাম মাওলা ভূঁইয়া, মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী, মাওলানা আব্দুল আখির কাসেমী, মুফতী মুহিব্বুল্লাহ কাসেমী, মুফতী আব্দুর রাজ্জাক কাসেমী, মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মুর্তুজা কাসেমী, মুফতী নুরুল আলম সিদ্দিকী, মুফতী রফিকুন্নবী হক্কানী, মুফতী আখতারুজ্জামান মাহদী, মাওলানা জোবায়ের আব্দুল্লাহ কাসেমী, মুফতী রেজওয়ান হাসান, মুফতী সানাউল্লাহ কাসেমী, মাওলানা এহসান সন্ধিপী, মাওলানা ইসমাঈল সিরাজী, মাওলানা মোহাম্মদ আলী, মাওলানা মনসুরুল হক জিহাদী, মাওলানা আব্দুস সাত্তার হামিদী, মাওলানা আব্দুর রহিম কাসেমী, মাওলানা ছগির আহমাদ বরিশাল, মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ ফয়েজী, মাওলানা বাছির উদ্দিন মাহমুদ, মাওলানা জাফর আহমাদ, মাওলানা মুসা বিন কাসেম, মাওলানা বদরুজ্জামান, মুফতী মোহাম্মাদুল্লাহ আনসারী, মুফতী জাবের হোসাইন, হাফেজ ক্বারী মোহাম্মদ ইলিয়াছ সাদী, মুফতী আমিমুল ইহসান, মুফতী লুৎফর রহমান ফরাজী, মাওলানা মজিবুর রহমান, মুফতী গোলামুর রহমান, মুফতী মোহাম্মাদ আলী, মুফতী ওলিউল্লাহ, মাওলানা ইমতিয়াজ আলম, মাওলানা মুকবুল হোসাইন, মাওলানা হাফিজুর রহমান সিদ্দিকী, মাওলানা হাবিবুর রহমান মিয়াজী, মাওলানা ইউনুছ ঢালী, মাওলানা খালেদ কাসেমী আজহারী, মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ আজাদী, মাওলানা ফরিদ উদ্দিন আল মোবারক, মাওলানা শোয়াইব আহমাদ আশরাফী, মাওলানা আব্দুল মালেক ফয়েজী, মাওলানা তাওকির আবু তাহের, মাওলানা আব্দুল হালিম, মাওলানা সালাউদ্দীন জাহাঙ্গীর, মাওলানা শেখ আব্দুল্লাহ, মাওলানা আবদুল কাদের, মাওলানা আবদুর রাজ্জাক, মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন, মাওলানা আবদুল জলিল, মুফতী হেমায়েতুল্লাহ কাসেমী।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ