খাদ্য ও শস্য পরিবহন চুক্তি ‘ব্ল্যাক সি গ্রেইন ইনিশিয়েটিভ’-এর মেয়াদ আগামী ১৮ মার্চ শেষ হতে যাচ্ছে। তাই জাতিসংঘের কাছে এ চুক্তিটির মেয়াদ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে ইউক্রেন। চুক্তিটির মেয়াদ ৬০ দিন বাড়ানোর প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেছে রাশিয়া। কিন্তু এর তীব্র বিরোধিতা করে বসে ইউক্রেন। তারা চুক্তিটির মেয়াদ ১২০ দিনে বাড়ানোর দাবি জানায়। এ সময় চুক্তি বৃদ্ধির এ মেয়াদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে তুরস্ক। তাই তুরস্ককে ধন্যবাদ জানিয়েছে ইউক্রেন।
বুধবার (১৫ মার্চ) ইউক্রেনের উপ-প্রধানমন্ত্রী ওলেক্সান্ডার কুব্রাকভ এক টুইটার বার্তায় এ বিষয়টি জানান।
তিনি বলেন, পূর্বে স্বাক্ষরিত চুক্তির প্রতি অটল আনুগত্য ও ১২০ দিনের জন্য চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধির প্রতি সমর্থনের জন্য ‘ব্ল্যাক সি গ্রেইন ইনিশিয়েটিভের’ স্বাক্ষরকারীর কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। এছাড়াও ব্যক্তিগতভাবে তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হুলুসি আকারের কাছে আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হুলুসি আকার এর পূর্বে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘ব্ল্যাক সি গ্রেইন ইনিশিয়েটিভ’ চুক্তিটির প্রথম সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এর মেয়াদ আরও ১২০ দিন বাড়ানোর জন্য আমরা আলোচনা শুরু করেছি। রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষের সাথেই আমরা ইতিমধ্যে আলোচনা করেছি। আলোচনা এখনও চলমান রয়েছে। আশা করি, উভয়ই আমাদের মূল্যায়ন করবে এবং তাদের সিদ্ধান্ত দেবে।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কাছে চুক্তিটির মেয়াদ বাড়ানোর আহ্বান জানালে তিনি বলেন, ‘ব্ল্যাক সি গ্রেইন ইনিশিয়েটিভ চুক্তি বহাল রাখাটা অতীব গুরুত্বপূর্ণ।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হলে ইউক্রেন থেকে বিশ্বে শস্য রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়। এতে বিশ্ববাজারে শস্য সংকট দেখা দেয়। ফলস্বরূপ শস্য পণ্যের দাম বৃদ্ধি পায়। এ সংকট নিরসনে উদ্যোগ নেয় জাতিসংঘ ও তুরস্ক। তাদের মধ্যস্থতায় ইউক্রেনের শস্য রপ্তানির সুযোগ দিয়ে ‘ব্ল্যাক সি গ্রেইন ইনিশিয়েটিভ’ নামের একটি চুক্তি করা হয় রাশিয়ার সঙ্গে।
গত বছরের জুলাইয়ে সাক্ষরিত এ চুক্তির ফলে কৃষ্ণসাগরীয় বন্দরগুলো দিয়ে ইউক্রেনের শস্য রপ্তানির সুযোগ উন্মোচিত হয়। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এ চুক্তির আওতায় ইউক্রেন থেকে ২ কোটি ৪১ লাখ টনের বেশি শস্য রপ্তানি করা হয়েছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর











