আফগানিস্তানের বিপর্যয়ের জন্য আমেরিকা ও ন্যাটোকে দায়ী করেছে চীন, রাশিয়া, ইরান ও পাকিস্তান।
বৃহস্পতিবার (১৩ এপ্রিল) উজবেকিস্তানের সমরকন্দে অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্র পর্যায়ের এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠক শেষে যৌথ বিবৃতিতে এই দাবী করা হয়।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা সকলেই এবিষয়ে একমত যে, আমেরিকা ও তার মিত্ররা তাদের সামরিক পরীক্ষানিরীক্ষার জন্য ২০ বছর যাবত তাণ্ডব চালিয়ে আফগানে চরম বিপর্যয় ডেকে এনেছে। ব্যর্থ হয়ে পরবর্তীতে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। আফগান বিপর্যয়ের জন্য আমেরিকা তার মিত্রশক্তিরা সম্পূর্ণরূপে দায়ী।
বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা হুমকি দমনে আফগান সহযোগিতা বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও মানবিক বিপর্যয় রোধের লক্ষ্যে তালেবান নেতৃত্বাধীন সরকারের সাথে কাজ করতে সম্মতি প্রকাশ করে দেশগুলো। আফগান স্বার্থ রক্ষায় একটি ঐক্যবদ্ধ আঞ্চলিক জোট গড়ে তুলতে চায় তারা।
এছাড়া ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তান ও এর পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে ন্যাটো ও মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি কিংবা সামরিক অবকাঠামো কোনোভাবে মেনে না নেওয়ার উপরও জোর দেওয়া হয়।
জানা যায়, আন্তর্জাতিক ভাবে বৈদেশিক সহায়তার উপর বিধিনিষেধ আরোপ, রিজার্ভ বাজেয়াপ্ত সহ আরো বিভিন্ন ধরণের নিষেধাজ্ঞার ফলে ২০ বছর যাবত আমেরিকা ও তার মিত্রশক্তিদের মোকাবিলা করে আসা দেশটি কৃত্রিম অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছে। দেখা দিচ্ছে মানবিক বিপর্যয়, যার জন্য জাতিসংঘ খোদ তালেবান নেতৃত্বাধীন সরকারকেই দায়ী করছে।
তবে তালেবান নেতৃত্বাধীন সরকার জাতিসংঘের এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে। আফগান রিজার্ভ বাজেয়াপ্ত, অর্থ ও ব্যাংকিং ব্যবস্থা সহ বিভিন্ন খাতে যারা নিষেধাজ্ঞা দিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরির মাধ্যমে দেশের পরিবেশ অস্থিতিশীল করে তুলার অপচেষ্টা চালাচ্ছে তাদেরকে দোষারোপ করে।
রিজার্ভ ফিরিয়ে দিয়ে দ্রুত এসব নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সহায়তা ও কার্যকর পদক্ষেপও কামনা করে দেশটি।
সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর











