উজবেকিস্তানের রাজধানী সমরকন্দে ১৩ ও ১৪ এপ্রিল দু’দিন ব্যাপী আফগান সীমান্তবর্তী দেশগুলোর মাঝে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৈঠকে তুর্কমেনিস্তান, তাজিকিস্তান, ইরান ও পাকিস্তানের মতো আফগান প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলো ছাড়াও চীন এবং রাশিয়া অংশগ্রহণ করে।
বৈঠকে আফগানের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তা প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা তুলে ধরা হয়। আফগান পরিস্থিতি তাদের দেশের উন্নয়ন, জাতীয় স্বার্থে কীভাবে প্রভাব ফেলে তা নিয়েও আলোচনা করা হয়।
যেহেতু এই অঞ্চলের উন্নয়ন ও অবনতি অনেকাংশে এশিয়ার মধ্যমণি আফগানের স্থিতিশীলতার উপর নির্ভরশীল তাই আফগান সংকট ও তা থেকে উত্তরণের পন্থা নিয়ে নিজেদের মত বিনিময় করেন বৈঠকে অংশগ্রহণকারী দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা।
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্গেই লাভরভ আফগান সংকট সমাধানের জন্য রাশিয়া, চীন, ভারত, ইরান ও পাকিস্তান এই পাঁচটি দেশের সমন্বয়ে একটি প্ল্যাটফর্ম গঠনের প্রস্তাবও পেশ করেন।
এছাড়া আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাওলানা আমির মুত্তাকীও বৈঠক শেষে সকলের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন এবং অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার হতে না দেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
এই অঙ্গীকার যে শুধু কথার কথা নয় সেদিকে ইঙ্গিত করে তিনি তালেবান নেতৃত্বাধীন সরকারের নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পদক্ষেপ ও সফলতার বিষয়টিও তুলে ধরেন। এরজন্য তিনি আল্লাহ পাকের শুকরিয়াও আদায় করেন।
আমেরিকা ও ন্যাটোর বিদায়, প্রকৃত স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়ন ও শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সরকার গঠন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মতো বিভিন্ন ইতিবাচক ঘটনা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির বিকাশে যে প্রতিবন্ধকতা ছিলো তা দূর করে দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এছাড়া আফগান রিজার্ভ বাজেয়াপ্ত ও বিভিন্ন ধরণের নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা আফগানকে অস্থিতিশীল করে তুলার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এসমস্যা সমাধানে বৈঠকে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর কার্যকরী ভূমিকা ও সহায়তাও কামনা করেন আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাওলানা মুত্তাকী।
প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে বর্তমানে যে সুসম্পর্ক রয়েছে তা ধরে রাখতে সকলের উদ্দেশ্যে একটি পরামর্শও দেন এই আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এই অঞ্চলের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির মধ্যেই আফগান জাতীয় স্বার্থ রক্ষা নিহিত বলে বিশ্বাস করি। প্রকৃতপক্ষে এটি এমন একটি বিষয় যা আমাদের সকলের ভূখণ্ডের স্বার্থও রক্ষা করার সামর্থ রাখে।
এক্ষেত্রে এই অঞ্চলের দেশগুলোকে সতর্ক থাকতে হবে, যেনো তাদের আফগান পলিসি বিরোধী শক্তির নেতিবাচক প্রপাগাণ্ডা ও ষড়যন্ত্রের শিকার না হয়ে যায়। বরং এমন পরিস্থিতিতে তাদের উচিত হবে নিজ নিজ জাতীয় স্বার্থ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিবেচনায় আফগানিস্তানের বাস্তবতা নিজে এসে পর্যবেক্ষণ করা, যাচাই করা এবং ইতিবাচক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথে হাটা।
স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে সামনের শতাব্দীতে পুরো বিশ্ব এশিয়ার উত্থান দেখবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন
বৈঠক আয়োজন করার জন্য উজবেকিস্তানকে আমির খান মুত্তাকী ধন্যবাদ জানান। বৈঠকে আফগানদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে যারা উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টিতে পরিশ্রম করেছেন তাদের বিশেষ শুকরিয়া জ্ঞাপন করেন।
সূত্র: আল ইমারাহ











