spot_img
spot_img

নির্বাচন নিয়ে কারও মাথা ঘামানোর দরকার নেই : শাহাবুদ্দিন

রাষ্ট্রপতি মুহাম্মাদ শাহাবুদ্দিন বলেছেন, আমি মনে করি কোনো কিছুই ক্রুশিয়াল নয়। আমাদের সংবিধান আছে, নির্বাচন নিয়ে কারও মাথা ঘামানোর দরকার নেই। একটি নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য একজন রাষ্ট্রপতি হিসেবে আমার যা কিছু করার আমি তা করব।

গতকাল সোমবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে গুলশানে তার লেখা “এগিয়ে যাও বাংলাদেশ” বইটি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি মুহম্মাদ শাহাবুদ্দিন বলেন, দেশের সংবিধান অনুযায়ী স্বাধীন নির্বাচন কমিশন (ইসি) তাদের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা প্রয়োগ করে সংবিধানের আলোকে একটি নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক এবং গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে সক্ষম হবে। সেখানে রাষ্ট্রপতি হিসেবে আমার যেটুকু দায়িত্ব এই নিরপেক্ষতাকে বজায় রাখার জন্য, সমস্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য জন্য যতটুকু প্রয়োজন করব।

মুহম্মাদ শাহাবুদ্দিন বলেন, সাহস না থাকলে রাজনীতি করা যায় না। রাজনীতি করতে হলে দৃঢ়চেতা হতে হয়। আমি যখন দুদকে কমিশনারের দায়িত্ব পালন করি, তখন সরকারের ভিতরে ছায়া সরকার ছিল। একজন সিনিয়র মন্ত্রী, তিনি প্রয়াত। আমি তাকে দেশপ্রেমিক বলি, ভাষাসৈনিক বলি। তিনি এবং আমাদের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বললেন, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক যা বলবে, তাই করতে হবে। আমি বললাম, হোয়াই? ওয়ার্ল্ড ব্যাংক কি আমাদের ফাদার-মাদার? আমার সঙ্গে তর্ক-বিতর্কে আসুক। ওয়ার্ল্ড ব্যাংক যা বলবে, আমি তা করতে পারব না। আমরা স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। আপনারা পারলে করে নেন। আমার একার দৃঢ়তার কারণে বিশ্বব্যাংকের এজেন্ডা পূরণ করতে দিইনি।

মুহম্মাদ শাহাবুদ্দিন বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা আমাকে গুরুদায়িত্ব দিয়েছেন। অনেকে চমক বলছেন। আমিও চমক বলি। আওয়ামী লীগের সংসদীয় দল-নেত্রীকে দায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি আমাকে নির্বাচিত করেছেন। তাঁকে অসংখ্য ধন্যবাদ-কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আমি কী ছিলাম, কেমন ছিলাম তা এই বইটা পড়লে সবকিছুই জানতে পারবেন। তিনি বলেন, আমি দুর্দান্ত প্রকৃতির ছিলাম। না হলে পায়ে ডান্ডাবেড়ি দেয় কেমনে? দুর্দান্ত না হলে, সাহস না থাকলে রাজনীতি করা যায় না। সাহসিকতার সঙ্গে পদ্মা সেতু ফেস করেছি আমি একা। কী অবস্থা তখন হয়েছে? একটা পত্রিকা আমাদের সপক্ষে লেখে না। সব ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের পক্ষে লেখে। চিলে কান নিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা। কেউ কানে হাত দেয়নি। আমার দুজন কমিশনার, একজন চেয়ারম্যান সাহেব হঠাৎ করে চুপ হয়ে গেলেন। কথা বলতে হয় আমাকে। আমি বিচার বিভাগ থেকে এসেছি, ড. কামাল হোসেনের আইন দ্বারা আমাকে পরাস্ত করা যাবে না। ড. কামাল হোসেন আর বন্ধু রশিদের আইন দ্বারা কি পরাস্ত করা যাবে। ওনারা ছিলেন ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের টিমের উপদেষ্টা। ওনারা জানেন কোম্পানি আইন, শ্রম আইন। ওনারা কি পেনাল কোর্ট জানেন? সিআরপিসি জানেন? পেনাল কোর্ট, সিআরপিসি যারা জানেন, তারাই মাত্র বুঝতে পারবে পদ্মা সেতুতে দুর্নীতি হয়েছে কি না? সে কারণেই আমি বুঝতে পেরেছিলাম।

নতুন রাষ্ট্রপতি বলেন, আমি যখন দুদকের কমিশনার ছিলাম, আমি সেদিন প্রধানমন্ত্রীকে বলেছিলাম, সরকারের ভিতরে ছায়া সরকার আপনার বিরোধিতা করেছে। তারপরও আপনি জিতেছেন। কারণ, আপনি বলেছেন, পদ্মা সেতু করব। আমি দেড় বছর আগে রিপোর্ট দিয়েছি, কোনো কিছু নেই। তখন টিআইবির ইফতেখারুজ্জামান সংবাদ সম্মেলন করে বললেন, এখনই কেন দুদক রিপোর্ট দিয়ে দিল? হোয়াই? আমরা তো স্বাধীন দেশ, স্বাধীন সংস্থা। বলতে কোনো সমস্যা আছে? আমরা দেড় বছর ধরে তদন্ত করে পেলাম, কিছুই নেই। রিপোর্ট দিয়েছিলাম। তখন একজন রিপোর্টার বললেন, তাহলে কি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল? আমি বলেছিলাম, অবশ্যই রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল। আমরা যা বলেছিলাম, কানাডার কোর্ট অব জাস্টিস দেড় বছর পরই একই কথা বলেছেন। তারাও বলেছেন, চায়ের কাপের ঝড় তোলার মতো। যে কারণে ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো আমার কার্টুন ছেপেছে। আমার ব্যঙ্গাত্মক ছবি দিয়ে লিখেছে দুদক। আমি সত্যের পথে আছি। আমরা যা দেড় বছর আগে দিয়েছিলাম, কানাডার কোর্ট সে রকমই রিপোর্ট দিয়েছিল দেড় বছর পর।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ