সুস্থতার পর মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র থেকে ১০০ জনকে মুক্তি দিলো তালেবান নেতৃত্বাধীন সরকার।
বুধবার (১৯ এপ্রিল) কাবুলের একটি মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র থেকে তাদের মুক্তি দেয়া হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপমন্ত্রী হাসিবুল্লাহ আহমাদি মুক্তির প্রাককালে মাদকাসক্তি থেকে সেরে উঠা ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে বলেন, ইমারাতে ইসলামিয়া তোমাদের দয়া দেখিয়েছে, স্নেহ করেছে। আমাদের কাছে তোমাদের প্রতিজ্ঞা করতে হবে যে, আর কখনো তোমরা মাদক সেবন করবে না। প্রতিজ্ঞা প্রতিশ্রুতিতে দৃঢ়তা প্রদর্শন করতে হবে।
নিরাময় কেন্দ্র থেকে মুক্তি পাওয়া মাসজিদি জাহির নামক এক ব্যক্তিকে তার ভবিষ্যত পরিকল্পনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে সাংবাদিকদের তিনি জানান, এখান থেকে মুক্তির পর সর্বপ্রথম আমি বাড়ি গিয়ে সবার সাথে ঈদ উদযাপন করতে চাই। তারপর আমি আমার পুরোনো পেশায় ফিরে যাবো। পুনরায় মাদকাসক্তিতে জড়িয়ে পড়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। আমি পুনরায় কেনো মাদকে জড়াবো অথচ বেকিংয়ে আমার ১২ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে। আমি যেকোনো ধরণের কেক তৈরি করতে পারি।
জানা যায়, আফগানিস্তান দীর্ঘদিন যাবত অবৈধ মাদক বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ ও এর অপব্যবহার রোধে হিমশিম খেয়ে আসছিলো।
ইন্টারন্যাশনাল নারকোটিক্স অ্যান্ড ল-এনফোর্সমেন্ট ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে আফগানে মাদকাসক্তের সংখ্যা প্রায় ৩.৫ মিলিয়ন।
২০২১ সনে ক্ষমতাগ্রহণের পর তালেবান নেতৃত্বাধীন সরকার মাদক ও মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
পথেঘাটে পড়ে থাকা, ঘুরে বেড়ানো হাজার হাজার মাদকাসক্তদের তারা আটক করে মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে নিয়ে যায় এবং সুস্থ হওয়ার আগ পর্যন্ত কমপক্ষে ২ মাস নিরাময় কেন্দ্রে আটক রাখা হয়।
২০ বছর যুদ্ধের পর বিজয় অর্জনকারী রাষ্ট্রটিকে বর্তমানে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার নিষেধাজ্ঞার ফলে কৃত্রিম অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
মাদক বিরোধী কঠোর অভিযানের ফলে নিরাময় কেন্দ্রগুলো ক্রমেই জনবহুল হয়ে উঠছে এবং মুখোমুখি হতে হচ্ছে অর্থসংকটে।
সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট











