আগামী ১৪ মে তুরস্ককে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে দেশকে উদ্দেশ্যহীনতার পথে নিয়ে যেতে দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন ওয়ালফেয়ার পার্টির প্রধান ও প্রেসিডেন্ট এরদোগানের জোটসঙ্গী ফাতিহ এরবাকান।
রবিবার (৩০ এপ্রিল) গাজি আনতেপের এক নির্বাচনী প্রচারণা অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে তিনি একথা বলেন।
তুরস্কের ইসলামপন্থীদের অন্যতম প্রধান নেতা নাজমুদ্দীন এরবাকান পুত্র ফাতিহ এরবাকান বক্তৃতাকালে এরদোগানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কিলিচদার ওগলুর বিতর্কিত কিছু প্রতিশ্রুতির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, আগামী ১৪ মে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া তুরস্কের প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচনে তুরস্ককে আমরা বিশৃঙ্খলা ও উদ্দেশ্যহীনতার পথে নিয়ে যেতে দিবো না।
তুরস্কের আসন্ন নির্বাচনে রজব তাইয়েব এরদোগানের সম্ভাব্য প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কামাল কিলিচদার ওগলুর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সম্প্রতি যুব উন্নয়ন ও বেকারত্ব দূরীকরণ প্রসঙ্গে তিনি প্রতিশ্রুতি স্বরূপ তিনি বলেছিলেন যে, ক্ষমতায় আসার পর কামাল আতাতুর্ক বিমানবন্দরকে তিনি এভিয়েশন ও স্পেস সেন্টারের রূপান্তর করতে চান।
তবে বিপত্তি বাঁধে অন্য জায়গায়। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ও ব্যস্ততম এই বিমানবন্দরকে এভিয়েশন এন্ড স্পেস সেন্টারে রূপান্তরের দায়দায়িত্ব তিনি আমেরিকান কোম্পানি এসএনসির হাতে তুলে দিবেন বলে জানিয়েছেন, যা কি না সরাসরি আমেরিকান গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর তত্বাবধানে পরিচালিত হয়।
কামাল কিলিচদার ওগলুর এমন প্রতিশ্রুতি তাই জনসাধারণের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। তাকে নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও দেখা দিয়েছে অনাস্থা ও বিতর্ক।
এছাড়া এরদোগানের তুলনায় তার অন্যান্য নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলিও তেমন আশা জাগাতে পারছে না। কেননা ঐতিহাসিক মূল্যবোধ ও স্বকীয়তা বজায় রেখে উচ্চাকাঙ্খী এরদোগান গত ২ দশকে তুরস্ককে উন্নয়ন ও বৈশ্বিক নেতৃত্বের যে অবস্থানে তুলে এনেছেন ও আগামীতে যে সর্বোচ্চ শিখরে নিয়ে যেতে নির্বাচনে নামছেন তার সামনে কিলিচদার ওগলুর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বা ভবিষ্যত লক্ষ্য উদ্দেশ্য একেবারেই নস্যি!
তার নির্বাচনে দাঁড়ানো ও ইলেক্টোরাল ভোটের জন্য সবচেয়ে বড় জোট গড়ে তুলার পেছনেও প্রধান লক্ষ্য উদ্দেশ্য হলো এরদোগানকে ক্ষমতা থেকে সরানো!
এছাড়া গত ২৪ মার্চ খেলাফত পরবর্তী তুরস্কে ইসলামী বিপ্লবের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজমুদ্দীন এরবাকানের পুত্র ফাতিহ এরবাকান আসন্ন নির্বাচনে এরদোগানকে সমর্থন দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছিলেন বলে জানা যায়। এজন্য তিনি আগামী ১৪ মে’র নির্বাচনের প্রেসিডেন্ট পদ থেকে নিজের প্রার্থীতাও সরিয়ে নিয়েছিলেন।
সূত্র: আল জাজিরা











