এবার তুরস্কের বিমানবহরে যুক্ত হয়েছে সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ৫ম প্রজন্মের অত্যাধুনিক একটি যুদ্ধবিমান।
সোমবার (১ মে) দেশটির প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান অত্যাধুনিক এই যুদ্ধবিমানটি উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনকালে তিনি বলেন, সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি পঞ্চম প্রজন্মের এই অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানের নাম দেওয়া হয়েছে কা’ন।
মূলত মিল্লি মুহারিব উচুক বা ন্যাশনাল কমবেট এয়ারক্রাফটটি সফলভাবে তার গ্রাউন্ড রানিং ও ট্যাক্সি টেস্ট সম্পন্ন করার পর যুদ্ধবিমানটিকে তিনি কা’ন (সর্দার/শক্তিশালী শাসক) নামে ভূষিত করেন।
এরদোগান বলেন, আমি অনেক গর্ববোধ করছি। কেননা সমুদ্রের তলদেশ, জল, স্থল, আকাশ ও মহাকাশ সর্বত্রই এখন তুরস্কের পদচারণা রয়েছে।
এছাড়া সফলভাবে এই যুদ্ধবিমান নির্মাণের মাধ্যমে আমরা সেই অল্পসংখ্যক দেশের কাতারে উঠে এসেছি, যাদের ৫ম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরির সম্পূর্ণ নিজস্ব অবকাঠামো ও প্রযুক্তি রয়েছে।
জানা যায়, সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অত্যাধুনিক এই যুদ্ধবিমানটি একই সাথে স্ট্র্যাটেজিকাল এয়ার-টু-এয়ার এবং এয়ার-টু-গ্রাউন্ড টার্গেটে আক্রমণ করতে সক্ষম। ডেটা শেয়ারিং নিরাপদ করতে ও অত্যাধুনিক যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহারের জন্য এটিতে অত্যন্ত উন্নত্মানের অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো রয়েছে।
এটিতে উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন রাডার, দ্রুত কোনোকিছু সনাক্তকরণ, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ও ইলেক্ট্রো-অপ্টিক্স প্রযুক্তি, কমিউনিকেশন ও নেভিগেশন সিস্টেম এবং সুপারসনিক গতিতে উড়তে উড়তে অভ্যন্তরীণ অস্ত্রের স্লট থেকে নির্ভুলভাবে গুলি চালানোর সুবিধাও রয়েছে যা যুদ্ধক্ষেত্রে দারুণ কাজে দিয়ে থাকে।
এছাড়াও এটিতে অটোমেটিক টার্গেট চিহ্নিতকরণ, টার্গেট লক সিস্টেম, বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও তা যাচাইকরণ ডেটা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষমতা রয়েছে।
উল্লেখ্য, কা’ন নামের এই অত্যাধুনিক ৫ম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরির প্রজেক্টটি ২০১৬ সালে শুরু করা হয়।
আমেরিকান এফ-১৬ এর বিকল্প হিসেবে এই যুদ্ধবিমানটি তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিলো এরদোগানের নেতৃত্বে ক্রমেই বিশ্বশক্তিতে পরিণত হওয়ার পথে এগিয়ে যেতে থাকা তুরস্ক।
জানা যায়, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটিতে পর্যায়ক্রমে আমেরিকার তৈরি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ব্যবহার বন্ধ করে দেওয়া হবে।
সূত্র: ডেইলি সাবাহ











