পাকিস্তানকে সাথে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করলেন আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাওলানা আমীর খান মুত্তাকী।
তিনি বলেন, পাকিস্তান ও ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তান একে অপরের প্রতিচ্ছবি। দু’দেশের চ্যালেঞ্জগুলোও প্রায় এক। ২ বছর ধরে আমরা উভয়েই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যদিয়ে যাচ্ছি। দু’দেশই এখন পর্যন্ত বিভিন্ন চড়াই-উতরাই পার করে এসেছে। আমরা এখন থেকে একসাথে পথ চলবো। পাকিস্তানকে সাথে নিয়েই এগিয়ে যেতে চাই আমরা।
সোমবার (৮ মে) ইসলামাবাদে আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাওলানা আমির খান মুত্তাকীর উপস্থিতিতে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা মুত্তাকী বলেন, আমরা কখনো পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক নষ্ট করতে চাইনি। রাজনৈতিক মতভিন্নতা সত্ত্বেও দেশটির সাথে আফগানিস্তানের বাণিজ্যিক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি।
বিশেষত অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে এই আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০ মাস যাবত আমরা রাষ্ট্র পরিচালনা করছি। আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমতে অধিকাংশ সমস্যাই নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছি। অন্যান্য সমস্যাগুলোকে কাবু করতে এখনো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এক্ষেত্রে আমাদের সবচেয়ে বড় যে চ্যালেঞ্জটি সামনে এসেছে তা হলো বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা। নিষেধাজ্ঞার কারণে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও বেকারত্বের পাশাপাশি দেখা দিচ্ছে কাঁচামাল আমদানিতে সমস্যা। তাই মাল আমদানির ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকেও বিপাকে পড়তে হচ্ছে। তবে একনিষ্ঠ প্রচেষ্টায় এসব সমস্যা থেকেও কিছুটা উতরে গেছি আমরা।
তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্থাপন করছি। তারা তালেবান নেতৃত্বাধীন সরকারকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না দিলেও সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে অনানুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিচ্ছে। আমরা আমাদের বাণিজ্যের পরিমাণ আগের তুলনায় ১.৯ বিলিয়ন ডলার বাড়াতে সক্ষম হয়েছি। এই সফলতার অন্যতম কারণ হলো, কঠোরভাবে দুর্নীতি দমন। আমরা অত্যন্ত কঠোরভাবে দুর্নীতি দমন করছি।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন ধরণের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কোনো ধরণের বৈদেশিক অর্থ সহায়তা ছাড়া বাজেট ঘোষণা করেছি। মুদ্রাস্ফীতির লাগাম টেনে ধরতে সক্ষম হয়েছি। ফলে আফগান কারেন্সির দরপতনও বন্ধ হয়ে গেছে এখন। এটি শুধু আমাদের বক্তব্য নয়, স্বয়ং বিশ্বব্যাংকই সম্প্রতি এই রিপোর্ট প্রকাশ করেছে যাদের কাছে কি না আমাদের রিজার্ভ বাজেয়াপ্ত অবস্থায় রয়েছে।
মাওলানা আমির খান মুত্তাকী অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সামর্থ দু’দেশেই বিদ্যমান রয়েছে উল্লেখ করে বলেন, পাকিস্তান ও ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তান যদি মিলেমিশে কাজ করে তবে অর্থনৈতিক সংকট সহ আরো বিভিন্ন ধরণের সমস্যা থেকে নিমিষেই নিষ্কৃতি পাওয়া যাবে।
এসময় টিটিপি প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, আফগানিস্তান কখনোই পাকিস্তানের নিরাপত্তাহীনতা ও রক্তপাতের পক্ষে ছিলো না এবং তা আশাও করে না। আমরা পাকিস্তান ও টিটিপি উভয় পক্ষকে আহবান জানাবো তারা যেনো আলোচনায় বসে নিজেদের মধ্যকার সমস্যা সমাধান করে নেয়।
সূত্র: জিও নিউজ











