জার্মানিতে আটকের পর মুক্তি দেওয়া হলো তুরস্কের ২জন শীর্ষ সাংবাদিক ইসমাইল ইরেল ও জামিল আলবাইকে।
বুধবার (১৭ মে) ডেইলি সাবাহ-র এই দুই শীর্ষ সাংবাদিককে আটকের পর বার্লিন-আঙ্কারার সম্পর্ক অবনতির দিকে যেতে থাকায় দ্রুত মুক্তি দেওয়া হয় তাদের।
জানা যায়, তুরস্কের সন্ত্রাসী গোষ্ঠী খ্যাত ফাতহুল্লাহ গুলেনের সমর্থকদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে ডেইলি সাবাহ-র এই দুই শীর্ষ সাংবাদিকের বাসায় হানা দেয় জার্মান পুলিশ। এসময় তাদেরকে গ্রেফতারের পাশাপাশি সংবাদ সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় সমস্ত ডিভাইসও বাজেয়াপ্ত করে নিয়ে যায় তারা।
এই ঘটনায় তুর্কি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়। খবর পৌঁছার সাথে সাথে আঙ্কারায় নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ইয়ুর্গেন শুলজকে তলব করে কড়া ভাষায় এর প্রতিক্রিয়া জানানো হয় এবং দ্রুত মুক্তির ব্যবস্থা করতে বলা হয়।
তুরস্কের পক্ষ থেকে বলা হয়, জার্মান যারা কি না বিশ্বকে সংবাদমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার তালিম দেয় তারাই কি না আজ কোনোকিছু যাচাই না করেই তুরস্কের ২ শীর্ষ সাংবাদিক ডেইলি সাবাহ-র ফ্রাঙ্কফুর্ট প্রতিনিধিদের গ্রেফতার করলো! এতো সম্পূর্ণ দ্বিচারিতা! সত্যতা যাচাই ছাড়া জার্মানির এমন পদক্ষেপ তুরস্কের সংবাদমাধ্যমকে হেনস্থা করা ও ভয় দেখানোর নামান্তর। আমরা এই জঘন্য আচরণের তীব্র নিন্দা জানাই। বার্লিনকে অতিদ্রুত তাদের মুক্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
উল্লেখ্য; ২০১৬ সালের ১৫-১৬ জুলাই তুরস্কে অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার পেছনে মূল হোতা হিসেবে ফাতহুল্লাহ গুলেনের আদর্শিক দল ফেটোকে দায়ী করা হয়ে থাকে।
সেই অভ্যুত্থান ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত প্রাক্তন জেনারেল, আমলা ও মূল সন্দেহভাজনদের অবস্থান জার্মানিতে বলে জানা যায়। বিচারের আওতায় আনতে তাদের তুরস্কে নিয়ে আসার ব্যবস্থা নিতে চাইলেও জার্মানির অনিচ্ছা এতে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। স্বভাবতই আঙ্কারা এতে বার্লিনের উপর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে।
সম্প্রতি জাওহারী গুভান নামী ফেটোরই এক সদস্যের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কোনো ধরণের সত্যতা যাচাই করা ছাড়া তুরস্কের পেশাদার সাংবাদিকদের গ্রেফতার ও প্রথমদিকে তাদের মুক্তিতে কোনো রূপ সাড়া না দেওয়াও বার্লিন ও আঙ্কারার মধ্যকার পুরোনো উত্তেজনা সৃষ্টির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড











