সিরিয়া থেকে তুর্কি সেনাদের সরিয়ে না আনার কথা জানালেন মুসলিম বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব রজব তাইয়েব এরদোগান।
শনিবার (২০ মে) সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার প্রদানের সময় তিনি একথা জানান।
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট সুন্নি মুসলিমদের রক্তপিপাসু বাশার আল আসাদের ডাকে সাড়া দিয়ে দেশটি থেকে তুরস্ক তাদের সেনাদের সরিয়ে আনবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে এরদোগান বলেন, আমরা উত্তর সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহারের কথা ভাবছি না। কেননা সেখানে এখনো সন্ত্রাসবাদের হুমকি রয়েছে।
সিরিয়ার সুন্নি মুসলিমদের গণহত্যার মূল হোতা প্রেসিডেন্ট আসাদকে আরব বিশ্ব মেনে নিয়েছে। এখন এরদোগানের সরকারও তাকে মেনে নিবে কি না কিংবা সমঝোতায় যাবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে এরদোগান বলেন, তিনি (বাশার-আল আসাদ) যদি সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সম্মত হন এবং এর সক্ষমতাও তার থাকে তবে তার সাথে সমঝোতায় যেতে আমাদের কোনো আপত্তি থাকবে না।
জানা যায়, আরব লীগের সদস্য পদ ফিরে পেয়ে সংস্থাটির ৩২তম সম্মেলনে যোগ দেওয়া সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আসাদ সম্প্রতি তাদের দেশ থেকে তুর্কি সেনাদের সরিয়ে নেওয়ার আহবান জানায় তুরস্ককে।
মূলত, ২০১১ সালে সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ সিরিয়ার শিয়া সমর্থিত প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়। যা এক পর্যায়ে গণহত্যায় রূপ নেয়। প্রেসিডেন্ট আসাদ ও তার সরকারের বাহিনী স্মরণকালের অন্যতম নৃশংস গণহত্যা চালায়। শুধুমাত্র ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে হাজার হাজার সুন্নি মুসলিম নিধন করে দেশটিকে মৃত্যুপুরীতে রূপান্তর করে। এসময় আইএসের মতো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীরও উদ্ভব ঘটে। দেশটির নাজুক পরিস্থিতি ওই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটির উদ্ভবের সহায়ক হয়ে উঠে।
এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে আরব বিশ্বের জোটসংস্থা আরব লীগ সিরিয়ার সদস্য পদ বাতিল করে দেশটিকে একঘরে করে দেয়। আর তুরস্কও আইএসের মতো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর হুমকি ও সন্ত্রাসবাদ দমনের অংশ হিসেবে দেশটির উত্তরাঞ্চলে সেনা মোতায়েন করে।
তবে নতুন বৈশ্বিক মেরুকরণের হাওয়া আরব বিশ্বেও লাগে। শত্রুতে পরিণত হওয়া ইরান ও সৌদির মধ্যকার সম্পর্ক পুনরুদ্ধার হয়। ইয়েমেন সংঘাতের স্থায়ী বিরতি ঘটে। কাতারের উপর সর্বাত্মক অবরোধ আরোপ করা আরব দেশগুলো সম্পূর্ণভাবে অবরোধ উঠিয়ে নেয়। আর মৃত্যুপুরী সিরিয়াও খুনি আসাদ সরকারের নেতৃত্বে আরব লীগের সদস্য পদ ফিরে পায়।
সূত্র: আল জাজিরা।











