খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত আমীর মাওলানা আবদুল বাছিত আজাদ বলেন, দেশের অর্থনৈতিক সংকট দিন দিন ঘণিভূত হচ্ছে। ডলার সংকটের কারণে এলএনজি আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিল্প, বিদ্যুৎ, সার ও গৃহস্থালি খাতে গ্যাস সরবরাহে মারাত্মক সংকট দেখা দিয়েছে।অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানী ব্যাহত হচ্ছে। উচ্চহার সুদের কারণে অর্থনৈতিক মন্দা ঘটছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাহিরে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যারা দারিদ্রসীমার কাছাকাছি ছিল, এখন তারা দারিদ্রসীমার নিচে অবস্থান করছে। অতি দরিদ্রদের জীবনধারণ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। মানুষের মৌলিক ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে সকলকে আজ ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সরকারকে অবশ্যই জনগণের দাবি মেনে নিতে হবে। অনমনীয় নীতির কারণে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়লে এই সংকট আরো ঘণীভূত হবে।
আজ শনিবার (২০ মে) খেলাফত মজলিসের মরহুম আমীর শায়খুল হাদীস মাওলানা যোবায়ের আহমদ চৌধুরী (রহ.) এর জীবন ও কর্ম শীর্ষক আলোচনা ও দু’আ মহফিলে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আজ সকাল ১০ টায় রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মাল্টিপারপাস হলে এই আলোচনা ও দু’আ মহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
দলের সাবেক আমীর মাওলানা যোবায়ের আহমদ চৌধুরী (রহ.)-এর স্মৃতিচারণ করে মাওলানা আবদুল বাছিত আজাদ বলেন, তিনি ছিলেন একজন গভীর ইলমী যোগ্যতাসম্পন্ন আলেমে দ্বীন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সাথে সক্রিয় ছিলেন। মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত খেলাফত মজলিসের আমীর হিসেবে ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শরিক ছিলেন। তিনি একাধারে হাদীসের দরস দিয়েছেন অন্যদিকে রাজনৈতিক কাজেও সমভাবে সক্রিয় ছিলেন। প্রকৃতপক্ষে তিনি নবীদের যোগ্য উত্তরসূরি আলেম হতে পেরেছিলেন। তাঁর ইন্তেকালে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে তা সহজে পূরণীয় নয়। আমাদেরকে মাওলানা যোবায়ের আহমদ চৌধুরীর যোগ্য উত্তরসূরি হতে হবে।
খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল ও অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল জলিলের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন মহাসচিব ড: আহমদ আবদুল কাদের।
তিনি বলেন, দেশে দূর্ভিক্ষের পদধ্বণি শোনা যাচ্ছে। রাজনৈতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা না হলে এই সংকট আরো বাড়বে। এই ক্ষেত্রে সরকারকে অবশ্যই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। তাই অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।
আলোচনা ও দু’আ মাহফিলে আরও বক্তব্য দেন বেফাকের সহ-সভাপতি মাওলানা আবদুল হামিদ (মধুপুর পীর), বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল অব: সাইয়েদ মুহাম্মদ ইবরাহীম বীর প্রতিক, মুসলিম লীগের মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, যুগ্ম-মহাসচিব এডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, মুহাম্মদ মুনতাসির আলী, এবিএম সিরাজুল মামুন, কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মাওলানা নজরুল ইসলাম মাজহারী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, দারুল উলুম বনশ্রীর মুহতামিম ও শায়খুল হাদীস মাওলান ইয়াহইয়া মাহমুদ, আন্তর্জাতিক তাহাফ্ফুজে খতমে নবুওয়্যাতের মহাসচিব মাওলানা মহিউদ্দিন রাব্বানী, বিশিষ্ট রাষ্ট্র চিন্তক ও লেখক ফরহাদ মজহার, ডেইলি নিউ নেশনের সাবেক সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদার, বেফাকের সহ-সভাপতি মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন আহমদ রাজু, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমীর মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে সভাপতি এম আবদুল্লাহ, মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের স্থায়ী কমিটির সদস্য আতিকুল ইসলাম, লালবাগ জামেয়ার সাবেক মুহাদ্দিস মাওলানা যোবায়ের আহমদ, ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের মহাসচিব অধ্যাপক মোস্তফা তরিকুল হাসান, জামেয়া শরিয়্যা মালিবাগের মুহাদ্দিস মাওলানা আবদুস সালাম, মিরপুর দারুর রাশাদ মাদ্রাসার মুঈনে মুহতামিম ড: মাওলানা কেরামত আলী, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিজানুর রহমান, মুহাদ্দিস শেখ সালাহ উদ্দিন, প্রশিক্ষণ সম্পাদক অধ্যাপক কাজী মিনহাজুল আলম, প্রচার ও তথ্য সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুল হাফিজ খসরু, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা: শরীফ মোহাম্মদ মোসাদ্দেক, যুব বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট তাওহীদুল ইসলাম তুহিন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা অজিজুল হক, উত্তর সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা সাইফ উদ্দিন আহমদ খন্দকার, মরহুম আমীরে মজলিসের বড় ছেলে হাফেজ মারুফ আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি বিলাল আহমদ চৌধুরী, শ্রমিক মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি প্রভাষক আবদুল করিম, খেলাফত মজলিনেসর কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মাওলানা সৈয়দ মুশাহিদ আলী, মাওলানা আহমদ বিলাল, নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি মাওলানা আহমদ আলী, ময়মনসিংহ মহানগরী সভাপতি এডভোকেট রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
আলোচনা শেষে মরহুম আমীরে মজলিস মাওলানা যোবায়ের আহমদ চৌধুরীসহ মরহুম সকল নেতৃবৃন্দের মাগফিরাত ও কারাবন্দি আলেমদের মুক্তির জন্য মহান আল্লাহর সাহায্য কামনা করে দু’আ পরিচালনা করেন ভারপ্রাপ্ত আমীরে মজলিস মাওলানা আবদুল বাছিত আজাদ।










