আর মাত্র একদিন পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত তুরস্কের প্রেসিডেন্ট নির্ধারণী ২য় রাউন্ডের নির্বাচন। চলছে একেবারে শেষ মুহুর্তের প্রচার-প্রচারণা। এরমধ্যেই আকার-ইঙ্গিতে আবারো বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসলেন ১ম রাউন্ডের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হওয়া প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী মুহাররম ইনচে।
শুক্রবার (২৬ মে) এক টুইট বার্তায় যাদের কারণে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছেন তাদের ইঙ্গিত করে আবারো ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
হোমল্যান্ড পার্টির প্রধান মুহাররম ইনচে বলেন, আমরা সবাই জানি, ফেতনার সময় বসে যাওয়া ব্যক্তি অবস্থানকারী ব্যক্তি থেকে উত্তম। অবস্থানকারী ব্যক্তি চলন্ত ব্যক্তি থেকে উত্তম। আর চলন্ত ব্যক্তি দুরন্ত ব্যক্তি থেকে উত্তম। তাই ষড়যন্ত্রের কবলে পড়ে আমরা সরে গিয়েছি। দলের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করিনি এবং কোনো ছলচাতুরীর আশ্রয়ও নিইনি।
তাই বলে কি আমরা দমে গিয়েছি? ফেতনাবাজরা আমাদের কন্ঠস্বর রোধ করতে চেয়েছিলো কিন্তু আমরা কর্ণপাত করিনি। আমরা নতি শিকার না করে সন্ত্রাসী সংগঠনের বিশ্বাসঘাতকতামূলক পরিকল্পনাগুলোর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি। উল্টো আমরা সবাইকে ৩য় পথ দেখিয়েছি। যৌক্তিকতা, ন্যায়বিচার এবং নৈতিকতার দিকে আহ্বান করেছি।
জানা যায়, গত রবিবার (১৪ মে) ১ম রাউন্ডের নির্বাচনে কাউকে সমর্থন না দিয়ে রহস্যজনকভাবে প্রেসিডেন্ট প্রার্থীতা থেকে সরে দাঁড়ানো হোমল্যান্ড পার্টির মুহাররম ইনচে অন্যান্য নাগরিকদের মতো নিকটস্থ ভোটকেন্দ্রে গিয়ে পছন্দের প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে ভোট দেন।
তিনি তার বন্ধু ফিদেল ওকানকে সাথে নিয়ে রাজধানী আঙ্কারায় তার নিকটস্থ কেন্দ্রে ভোট দিতে গিয়েছিলেন।
ভোট দিয়ে আসার পর ফিদেল ওকান তার বন্ধু ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগ মুহুর্তে বিভিন্ন জরীপে ৩য় অবস্থানে থাকা মুহাররম ইনচের মন্তব্য তার টুইটার একাউন্ট থেকে প্রকাশ করেন।
তিনি বলেছিলেন, “আমি আজ আমার বন্ধু ও সমর্থকদের ভোট দিয়ে এসেছি যাতে কিলিচদার ওগলু আজকের পর থেকে তার নাতী-নাতনীর সাথে রাজনৈতিক চাপমুক্ত নিশ্চিন্ত জীবন কাটাতে পারে।”
এর আগে বৃহস্পতিবার (১১ মে) নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার সময় তিনি বলেছিলেন, “তুর্কি প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসে এমন অপবাদ কখনোই পরিলক্ষিত হয়নি। এসবে আমি মোটেও ভীত নই। কারণ আমি আমার মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিচ্ছি ঠিকই কিন্তু তা করছি শুধুমাত্র আমার মাতৃভূমির জন্য। মাতৃভূমির স্বার্থ রক্ষায় এটি সহায়ক হবে। ”
জানা যায়, সম্প্রতি মুহাররম ইনচের বিরুদ্ধে প্যালেসে এরদোগানের সাথে সাক্ষাৎ ও নির্বাচনে এরদোগানকে জয়ী করার লক্ষ্যে ভূমিকা পালন করতে অর্থগ্রহণের অপবাদ দেওয়া হয়েছিলো এবং আপত্তিকর ফেইক ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিলো যার প্রেক্ষিতে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছিলেন।
এছাড়া ইনচের “মাতৃভূমির স্বার্থ রক্ষায় এটি সহায়ক হবে।” এই বক্তব্যটিও কিলিচদার ওগলুর বিরুদ্ধে দিকনির্দেশ করছিলো। কেননা কিলিচদার ওগলু এক নির্বাচনী প্রচারণায় বলেছিলেন, নির্বাচনে জয়ী হলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বিমানবন্দর কামাল আতাতুর্ক বিমানবন্দরকে এভিয়েশন ও স্পেস সেন্টারে রূপান্তরের জন্য আমেরিকান কোম্পানি এসএনসির হাতে তুলে দেওয়া হবে। যা তুরস্কের সর্ব মহলে তুমুল বিতর্কের পাশাপাশি অসন্তোষও সৃষ্টি করে। কারণ তা সরাসরি আমেরিকান গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর তত্বাবধানে পরিচালিত একটি কোম্পানি।
এছাড়াও তিনি শুরুতে মুহাররম ইনচেকে নিজের দলেও ভিড়াতে চেয়েছিলেন। প্রার্থীতা প্রত্যাহারের পর কিলিচদার ওগলু আবারো তাকে তার জোটে যুক্ত হওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।
এক টুইট বার্তায় তিনি বলেছিলেন, “ইনচেকে আমাদের জোটে শরীক হওয়ার আহবান জানিয়েছিলাম। সেই পথ এখনো তার জন্য খোলা রয়েছে। পুরোনো বৈরিতা ও দ্বন্দ্ব একপাশে রেখে তাকে আবারো বলতে চাই, আপনাকে তুর্কি টেবিল (ন্যাশনাল এলায়েন্স/সিক্স টেবিল) জোটে স্বাগতম। আপনি দয়া করে এখানে আসুন।”
শনিবার (১৩ মে) সরাসরি সম্প্রচারিত এক সাক্ষাতকারে প্রদত্ত এরদোগানের বক্তব্য থেকে জানা যায়, প্রেসিডেন্ট পদে ৩য় শক্তিশালী অবস্থানে থাকা হোমল্যান্ড পার্টির মুহাররম ইনচের অবস্থান শক্তিশালী হতে থাকায় তিনি কামাল কিলিচদারের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। মূলত এর পরপরই তিনি অপবাদ ও অপপ্রচারের শিকার হোন।
সূত্র: আল জাজিরা











