spot_img
spot_img

বিশ্বের কঠিনতম বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা শুরু; এবারের পরীক্ষার্থী ১কোটি ৩০লক্ষ

শুরু হলো বিশ্বের কঠিনতম বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত চীনের ‘গাওকাও’ পরীক্ষা।

বুধবার (৭ জুন) ২ দিন ব্যাপী চীনের এই কঠিনতম এই ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়।

কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মধ্যদিয়ে পরীক্ষার ১ম দিন অতিবাহিত করে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিচ্ছু চীনা শিক্ষার্থীরা। এবারের পরীক্ষায় মোট ১৩ মিলিয়ন বা ১কোটি ৩০ লাখ চীনা শিক্ষার্থী গাওকাও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।

পরীক্ষার মান ও ভাবগাম্ভীর্যতা বজায় রাখার অংশ হিসেবে পুরো চীনজুড়ে যানবাহন চলাচল সহ সব ধরণের কাজ বন্ধ রাখা হয়। সরকারিভাবে সাধারণ ছুটির ঘোষণা দেয়া হয়। যাতে নূন্যতম আওয়াজও পরীক্ষা কেন্দ্রে না পৌঁছে।

এই পরীক্ষায় চীনা শিক্ষাবিদদের আবিস্কৃত ‘৩+এক্স’ (3+x system) সিস্টেম অনুসরণ করা হয়, যেখানে ৭৫০ নাম্বারের প্রশ্নপত্র সাজানো হয়। আর এতে নূন্যতম মোট নাম্বার ধার্য করা ৬০০।

‘৩+এক্স’ সিস্টেমে ‘৩’ দ্বারা বাধ্যতামূলক ৩ বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করা হয়, যার প্রতিটির মোট নাম্বার ১৫০ করে মোট ৪৫০ নাম্বার।

আর ‘এক্স’ দ্বারা ছাত্রদের সামর্থ্য অনুযায়ী বিষয় বা বাছাইকৃত বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করা হয়। এক্ষেত্রে ২টি অপশন থাকে। প্রকৃত বিজ্ঞান এবং সামাজিক বিজ্ঞান। এগুলোতে ১০০ করে মোট ৩০০ নাম্বারের প্রশ্নপত্র সাজানো হয়।

সামাজিক বিজ্ঞানের আওতায় রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ইতিহাস ও ভূগোল বিষয়ক পরীক্ষা দিতে হয়। আর প্রকৃত বিজ্ঞান বিষয় বেছে নিলে রসায়ন, জীব ও পদার্থ বিদ্যার পরীক্ষা দিতে হয়।

বাছাইকৃত বিষয় হিসেবে যারা প্রকৃত বিজ্ঞান বেছে নেয় তাদেরকে বাধ্যতামূলক ৩ বিষয়ের অন্যতম পরীক্ষা গণিতে তুলনামূলক কঠিন গাণিতিক বিষয়ের উপর পরীক্ষা দিতে হয়। যেমন, বক্ররেখা ও সমীকরণ, মহাকাশ ভেক্টর ও সলিড জিওমেট্রি, দ্যা কনসেপ্ট অফ ডেফিনিট ইন্টিগ্রাল, ফান্ডামেন্টাল থিওর‍্যাম অফ ক্যালকুলাস, সিম্পল অ্যাপ্লিকেশান অফ ডেফিনিট ইন্টিগ্রাল, গাণিতিক ইন্ডাকশন, কাউন্টিং প্রিন্সিপল, র‍্যান্ডম ভেরিয়েবল এবং এর ডিস্ট্রিবিউশন ইত্যাদি।

সাধারণত ৭ ও ৮জুন অথবা ৮ ও ৯জুন এই দু’দিন পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হয়।

প্রথমদিন আবশ্যিক ৩ বিষয়ের মধ্যে ২ বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হয়। সকাল ৯ টা থেকে পরীক্ষা নেওয়া শুরু হয়। এক্ষেত্রে চীনা ভাষা ও সাহিত্য-সংস্কৃতির জন্য নির্ধারিত সময় পাওয়া যায় ১৫০ মিনিট বা আড়াই ঘন্টা। তারপর আড়াই ঘন্টা বিরতি দেওয়া হয়। এরপর দুপুর ৩টা থেকে গণিত পরীক্ষা নেওয়া শুরু করা হয়। এক্ষেত্রে নির্ধারিত সময় থাকে ১২০ মিনিট বা ২ ঘন্টা। বরাবর বিকাল ৫টায় প্রথম দিনের পরীক্ষা শেষ হয়।

দ্বিতীয় দিন আবার সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ১৫০ মিনিট বা আড়াই ঘন্টা পর্যন্ত যার যার বাছাইকৃত বিষয়ের উপর পরীক্ষা নেওয়া হয়। তারপর আড়াই ঘন্টা বিরতি দিয়ে দুপুর ৩টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ২ঘন্টা বা ১২০ মিনিট যাবত পরীক্ষা নেওয়া হয়। এক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক বিষয় হিসেবে বিদেশি ভাষার পরীক্ষা হয়।

এই পরীক্ষাকে চীনের সবচেয়ে মর্যাদা সম্পন্ন পরীক্ষা বলে মনে করা হয়। কেননা এতে কৃতকার্যদের মধ্য থেকেই চীনের গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরগুলোর ভবিষ্যত লিডারদের বেছে নেওয়া হয়। তাই শিক্ষা ও বুদ্ধিমত্তা যাচাইয়ে কঠিনভাবে প্রশ্নপত্র সাজানোর পাশাপাশি কঠোরভাবে এই পরীক্ষার মান নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

এছাড়া গাওকাও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা ছাড়া কোনো চীনা শিক্ষার্থীই দেশটিতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে পারে না। আর অধিকাংশ চীনাদেরই বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ থাকে না। এটিও পরীক্ষাটিকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে সবার কাছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমেরিকা ও ইংল্যান্ড সহ অন্যান্য দেশের কিছু বিশ্ববিদ্যালয় গাওকাও পরীক্ষার স্ট্যান্ডার্ড ও ফলাফলকে স্বীকৃতি দেয়। তাই কৃতকার্য শিক্ষার্থীরা সরাসরি সেসব উন্নত দেশে স্কলারশিপে পড়তে যাওয়ার সুযোগ পায়, যা পরীক্ষাটিকে চীনাদের কাছে আরো গুরুত্ববহ করে তুলেছে।

যেহেতু এই পরীক্ষায় কৃতকার্য না হলে দেশটিতে উচ্চশিক্ষার দুয়ার বন্ধ হয়ে যায়, তাই শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা প্রচন্ড চাপে থাকেন। অকৃতকার্য হওয়াকে কেন্দ্র করে আত্মহত্যার প্রবণতাও দেখা গিয়েছে দেশটিতে। বিপরীতে অনেক শিক্ষার্থীর মারাত্মক প্রতারণার আশ্রয় নেওয়ার খবরও পাওয়া যায়।

এক্ষেত্রে প্রক্সি বা অপরকে দিয়ে পরীক্ষা দেওয়ানোর পাশাপাশি অভিনব কায়দায় ডিজিটাল ডিভাইসের সহায়তা নেওয়ার নজিরও রয়েছে দেশটিতে।

এজন্য পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে চীনের শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে নেটওয়ার্ক জ্যাম করে দেয়। যে কোনো ধরণের ডিজিটাল ডিভাইস ও চেহারা সনাক্ত করতে বিশেষ স্ক্যানারও স্থাপন করে। সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য কেন্দ্রে ড্রোনও উড়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

গাওকাও ভর্তি পরীক্ষায় যাওয়ার আগে প্রাক-প্রাথমিক ছাড়া ১২ বছরের শিক্ষাজীবন কাটাতে হয় চীনা শিক্ষার্থীদের। প্রাথমিক শিক্ষা ৬ বছর। মাধ্যমিক ৩ বছর। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উচ্চ মাধ্যমিকে ৩ বছর। কারণ উচ্চ মাধ্যমিকের ৩য় বর্ষে গাওকাও ভর্তি পরীক্ষার জন্য প্রথম নিবন্ধিত হয় চীনা শিক্ষার্থীরা।

সূত্র: আল জাজিরা

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ