শুক্রবার | ৩০ জানুয়ারি | ২০২৬
spot_img

ভারতের পুরলা শহর থেকে কেন উচ্ছেদ করা হচ্ছে মুসলিমদের

গত ২৬ মে ভারতের উত্তরাখণ্ডের ছোট শহর পুরলা থেকে এক হিন্দু নাবালিকাকে অপহরণের অভিযোগে ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনার পরপরই সেখানকার উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) ও বজরং দলের সদস্যরা মুসলিমদের উৎখাতের জন্য বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদান করেছে। যার ফলে জীবন বাঁচানোর জন্য সেখানকার মুসলিমরা অন্যত্র পালিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে সেখানকার ১২ টি মুসলিম পরিবার তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে গেছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের সূত্রে জানা গিয়েছে, এসব উগ্র হিন্দুত্ববাদী দলগুলো মুসলিম সম্প্রদায়ের দোকানদারদের এলাকা ছাড়তে হবে বলে নোটিশ প্রদান করেছে। শুধু তাই নয় যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এলাকা ছেড়ে চলে না যাওয়া হয় তাহলে ‘ভয়ংকর পরিণীতির’ জন্য তৈরি থাকতেও বলা হয়েছে এসব নোটিশে। এছাড়াও দোকানে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।

এসব হুমকির পর সেখানকার মুসলিমদের ৩০ টিরও বেশি দোকান বন্ধ করা হয়েছে। এসব দোকানদাররা জানিয়েছেন তাদেরকে উগ্র হিন্দুত্ববাদী দলগুলো হুমকি প্রদান করেছে।

পুরালার প্রায় ১০ হাজার বাসিন্দাদের মধ্যে ৪০০-৫০০ মুসলমান রয়েছে। এসব মুসলিম পরিবারগুলো কয়েক বছর ধরে এখানে বসবাস করছে। তবে উগ্র হিন্দুত্ববাদী হুমকির মুখে তারা বর্তমানে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সাংবাদিক আল জাজিরাকে বলেন, “উত্তরাখণ্ড একটি শান্তিপূর্ণ রাজ্য ছিল যেখানে হিন্দু ও মুসলমানরা সম্প্রীতিতে বসবাস করত। কিন্তু বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এখানকার মুসলিমদের জীবন হুমকির মুখে পড়েছে। প্রতিদিনই রাজ্যের কোথাও না কোথাও মুসলিম বিরোধী সমাবেশ হচ্ছে।”

পুরালার বাসিন্দারা বলছেন, হিন্দু গোষ্ঠীগুলি এ অঞ্চল থেকে মুসলিমদের বিতাড়িত করতে চায়। যার দরুন তারা ২৬ মে এর ঘটনাটিকে কাজে লাগিয়ে ফায়দা হাসিল করতে চাচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা

spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ