শুক্রবার | ৩০ জানুয়ারি | ২০২৬
spot_img

ইউসিসি আইনের বিরুদ্ধে অবস্থান জানান দিতে বারকোড ব্যবহারের আহবান জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের

অভিন্ন ইউনিফর্ম সিভিল কোড ইউসিসি আইনের বিরুদ্ধে অবস্থান জানান দিতে সকলকে জমিয়তের তৈরি বারকোড ব্যবহারের আহবান জানিয়েছে ভারতীয় মুসলিমদের সংগঠন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ।

মঙ্গলবার (১১ জুলাই) বিশিষ্ট আলেম মাওলানা মাহমুদ আসাদ মাদানীর সভাপতিত্বে সংগঠনটির ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক শেষে এ আহবান জানানো হয়।

বৈঠক শেষে, ইসলামী ব্যক্তিগত আইন বহাল রাখার পক্ষে ১৪টি যৌক্তিক কারণ তুলে ধরা হয়। বলা হয়, ঐতিহ্য ও প্রথার উপর নয়, আমাদের আইন নির্ভর করে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কুরআন এবং বিশুদ্ধ হাদিসের উপর। বিশেষত নারী অধিকারকে পাশ কাটিয়ে ভারতীয় আইন কমিশনের প্রস্তাবিত অভিন্ন সিভিল কোডের বাস্তবায়ন সমাজে অবিচার, বিশৃঙ্খলা ও ক্ষতির বন্যা বইয়ে দিবে।

এছাড়া যেসব বিষয়ের উপর ভিত্তি করে ভারতীয় আইন কমিশন বর্তমান কার্যক্রম পরিচালনা করছে এতে ন্যায্যতার অভাব ও অস্পষ্টতা রয়েছে বলে অভিযোগ আনা হয়।

ভারতীয় সংবিধানের ২৫-২৬ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ব্যক্তি ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ক্ষতির প্রবল সম্ভাবনা রাখে এমন বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দেখানোর যে অধিকার রয়েছে সেদিকে ইঙ্গিত করে আইন কমিশনকে ভারতে বিদ্যমান প্রতিটি ধর্মের সম্প্রদায়, ধর্মীয় সংগঠন, বিশিষ্ট জন ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের মতামত না নিয়ে ইউসিসি আইন চাপিয়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকার দৃঢ় আহবান জানানো হয়।

ইউসিসি আইনের উপর উদ্বেগ প্রকাশ করে আরো বলা হয়, সকলের উপর অভিন্ন ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় আইন চাপিয়ে দেওয়া হলে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য যা ভারতীয় সমাজ কাঠামোর মৌলিক বৈশিষ্ট্য তা ভেঙ্গে পড়বে। বিলুপ্ত হয়ে যাবে বৈচিত্র্যময় ভারতীয় সামাজিক সংস্কৃতি। সবচেয়ে বিপদজনক হলো, জাতীয় ঐক্য এবং সংহতিও বিনষ্ট হবে।

উল্লেখ্য, ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি) হলো ভারতীয় নাগরিকদের ব্যক্তিগত আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের একটি অভিন্ন দেওয়ানি বিধির প্রস্তাবনা যা ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল ভারতীয় নাগরিকের উপর প্রযোজ্য হবে।

ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী  রাষ্ট্রটিতে বর্তমানে যার যার ধর্ম অনুযায়ী বিভিন্ন সমস্যার সমাধান হয়ে থাকে।

কিন্তু দেশটির উগ্র হিন্দুত্ববাদী সরকার দল বিজেপি ২০১৯ সাল থেকে ভারত জুড়ে অভিন্ন ইউনিফর্ম সিভিল কোড বাস্তবায়নের চেষ্টা করে আসছে, যা ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী সংবিধানের পরিপন্থী।

কেননা ভারতীয় সংবিধানের ২৫ থেকে ২৮ নং পর্যন্ত ৪টি অনুচ্ছেদ ভারতীয় নাগরিকদের নিজ নিজ ধর্মীয় স্বাধীনতার গ্যারান্টি প্রদান করে। ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলিকে তাদের নিজ নিজ ধর্মীয় রীতিনীতি বজায় রাখার অনুমতি দেয়।

‘ইউসিসি’ বাস্তবায়িত হলে ভারতের ভিন্ন ভিন্ন ধর্মের লোকজন তাদের স্বতন্ত্রতা হারাবে। বিবাহ বন্ধন, বিবাহ বিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, সন্তান দত্তক, পরিবার ও ভরণপোষণ সহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত বিষয়ে তাদের ধর্মীয় আইন ও রীতিনীতির পরিবর্তে ইউসিসি বা অভিন্ন দেওয়ানি আইন মানতে হবে। আদালত কর্তৃপক্ষও ইউসিসির উপর ভিত্তি করে এসব সমস্যার সমাধান প্রদানে বাধ্য থাকবে।

হিন্দুত্ববাদী মোদি সরকার ২০১৯ সালের নভেম্বর ও ২০২০ সালের মার্চে দুই দুই বার ইউনিফর্ম সিভিল কোড প্রস্তাবনা সংসদে উত্থাপনের চেষ্টা করেছিলো। কিন্তু প্রস্তাবনায় থাকা কয়েকটি পয়েন্ট নিয়ে অপর উগ্র হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসী সংগঠন আরএসএসের সাথে মতপার্থক্যের কারণে শেষমেশ তা উত্থাপন করা আর সম্ভব হয়ে উঠেনি।

এই ইউনিফর্ম সিভিল কোড নীতি নিয়ে সমস্যার আরেকটি কারণ হলো, ‘জাতীয় নীতি’ প্রণয়নের সময় সকল ভারতীয় নাগরিকের ধর্মীয় বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রেখে সাধারণ আইন প্রয়োগের কথা বলা আছে ভারতীয় সংবিধানের ৪৪ নং অনুচ্ছেদে। অথচ উগ্র হিন্দুত্ববাদী মোদি সরকার ভারতীয় মুসলিম, ইহুদি, খ্রিস্টান, শিখ, পারসিক ও জৈন ধর্মের বড় বড় সংগঠনগুলোর আপত্তি সত্ত্বেও এধরণের বিতর্কিত একটি ‘জাতীয় নীতি’ প্রণয়নের পায়তারা করে চলেছেন।

সূত্র: দ্যা অবজার্ভার পোস্ট

spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ