ভারতে গরু চুরির মিথ্যা অভিযোগ এনে সাদ্দাম হোসেন নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করেছে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা।
গত ২৫ জুলাই ভারতের মধ্য আসামের মুরিগাও জেলার আহটগুড়ি গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় আরো ৫ জন মুসলিম যুবক আহত হয়।
উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের হামলা থেকে বেঁচে ফেরা আনোয়ারুল হক জানান, স্থানীয় একটি কাবাডি লীগের ফাইনাল খেলা দেখার পর তারা একত্রে মোটরসাইকেলে করে বাসায় ফিরছিলেন। এ সময় তাদের পথ আটকে দাঁড়ায় উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা। এরপর তাদেরকে গরু চুরির অভিযোগ দেওয়া হয়। তবে ভুক্তভোগীরা এ বিষয়টি অস্বীকার করে। তবুও তাদেরকে পেটানো শুরু করে হিন্দুত্ববাদীরা।
তিনি আরো বলেন, “তাদের একমাত্র উদ্দেশ্যই ছিল আমাদের হত্যা করা। তাই আমরা প্রাণ-পনে দৌড়াতে শুরু করি। এসময় আমি পালাতে সক্ষম হলেও হিন্দুত্ববাদীদের হাতে ধরা পড়ে অন্য তিনজন। যার মধ্যে সাদ্দাম হোসেনকে তারা পিটিয়ে মেরে ফেলে।”
এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মিরাজুল ও বিল্লাল হোসেন। ভুক্তভোগীদের মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয় তারা। শুধু তাই নয় সাংবাদিকদের গাড়িতেও হামলা চালিয়েছে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা।
এদিকে, এই ঘটনার জের ধরে, উক্ত অঞ্চল দিয়ে যাওয়া আজিম উদ্দিন নামের এক মুসলিম মাছ বিক্রেতাকেও গুরুতর জখম করেছে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা।
অন্যদিকে, পুলিশের আইজিপি প্রশান্ত কুমার ভূঁইয়া গণমাধ্যমকে বলেন, আহটগুড়ি গ্রামে তিনটি গরু চুরি যাওয়ার ফলে সহিংসতা শুরু করে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা। পুলিশের গাড়িতেও হামলা চালিয়েছে তারা। এ ঘটনায় আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তবে গ্রেফতার প্রসঙ্গে আনোয়ারুল হক বলেন, “এই নৃশংসতার সাথে জড়িত একজনকেও গ্রেফতার করেনি পুলিশ। আমরা গরিব বলেই কি ন্যায় বিচার পাবো না ? নাকি আমরা মুসলিম তাই আমাদের কোন বিচার পাওয়ার অধিকার নেই ?”
সূত্র: মাকতোব











