বুধবার | ১৪ জানুয়ারি | ২০২৬
spot_img

তুরস্কের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান হতে যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট এরদোগান!

বৈঠকে বসতে যাচ্ছে তুরস্কের সুপ্রিম মিলিটারি কাউন্সিল। সোমবার  (৩১ জুলাই) এক বিবৃতি বিষয়টি জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগানের নেতৃত্বে আগামী সপ্তাহে সুপ্রিম মিলিটারি কাউন্সিলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে সেনা সদস্য ও সামরিক কর্মকর্তাদের পদন্নোতি এবং তুর্কি সশস্ত্র বাহিনীতে নতুন সেনা নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বর্তমানে আর্মি চীফ অফ স্টাফের দায়িত্ব সামলানো প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলারের পরিবর্তে প্রেসিডেন্ট এরদোগানকে আর্মি চীফ অফ স্টাফ করার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বৈঠকে কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেভদেত ইয়েলমাজ, আইন ও বিচারমন্ত্রী ইয়েলমাজ তুঞ্জ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান, অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ সিমসেক, স্বররাষ্ট্রমন্ত্রী আলী ইয়ারিলি কায়া, শিক্ষামন্ত্রী ইউসুফ তেকিন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলার,  স্থল বাহিনীর প্রধান ও ডেপুটি চীফ অফ স্টাফ  মূসা আওসেওয়ার, নৌবাহিনী প্রধান আরজুমান্ত তাতলি ওগলু ও বিমানবাহিনী প্রধান আতিল্লা গুলান।

নিয়মানুযায়ী প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বে একত্রে মোস্তফা কামাল আতাতুর্কের সমাধি জেয়ারতের পর সুপ্রিম মিলিটারি কাউন্সিলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

উল্লেখ্য, সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ ভার ও যুদ্ধকালীন সময় যার উপর প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে সর্বাধিনায়ক বা প্রধান সেনাপতির দায়িত্ব অর্পণ করা হয় তিনিই হলেন চীফ অফ জেনারেল স্টাফ বা আর্মি চীফ অফ স্টাফ।

এছাড়াও একজন আর্মি চীফ অফ স্টাফ সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার হিসেবে গণ্য হয়ে থাকেন। যেকোনো আর্মি চীফ অফ স্টাফকে নিজ দায়িত্বের জন্য প্রতিরক্ষামন্ত্রীর নিকট দায়বদ্ধ থাকতে হয়।

একারণে আপাতদৃষ্টিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিযুক্তির পর বর্তমান চীফ স্টাফ ইয়াসার গুলারকে এই পদ ছেড়ে দিতে হচ্ছে বলে মনে হলেও তা সঠিক নয়। কারণ, একজন চীফ অফ স্টাফ সর্বোচ্চ ৪ বছর পর্যন্ত এই পদে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। তবে প্রেসিডেন্ট কোনো কারণে তার মেয়াদ আরো ১ বছর পর্যন্ত বাড়ানোর ক্ষমতা রাখেন।

ইয়াসার গুলার ২০১৮ সাল থেকে তুরস্কের চীফ অফ স্টাফের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ২০২২ এর ৩০ আগস্ট তার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু প্রেসিডেন্ট এরদোগান ২০২৩ সালে নিয়োগের সরকারি গেজেট প্রকাশ সাপেক্ষে তার মেয়াদকাল বর্ধিত করেছিলেন।

তুরস্কের নিয়ম অনুযায়ী প্রতিরক্ষা খাতের সর্বোচ্চ প্রধান হলেন দেশের রাষ্ট্রপতি। এরপরের স্থানগুলো হলো যথাক্রমে প্রতিরক্ষামন্ত্রী, চীফ অফ স্টাফ বা সশস্ত্র বাহিনী প্রধানের। তারপর স্থল, নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রধানের।

সামরিক অভিযানের জন্য সশস্ত্র বাহিনীকে প্রস্তুত করা, সামরিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, সেনাদের সুসংগঠিত করা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া, লজিস্টিক পরিষেবা ব্যবস্থাপনা এসব বিষয়ও সামলাতে হয় একজন চীফ অফ স্টাফকে।

মিলিটারি কাউন্সিলের বৈঠকে এরদোগানকে সশস্ত্র বাহিনীর চীফ অফ স্টাফ নিযুক্ত করা হলে তার কাঁধে এসব গুরুদায়িত্ব এসে পড়বে। সকল বাহিনীর উপর কর্তৃত্ব আরো মজবুত ও সুসংহত হবে। এছাড়াও ন্যাটোর সদস্যভুক্ত কিংবা বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সাথে তুরস্কের সশস্ত্র বাহিনীর সম্পর্ক থাকবে কি থাকবে না কিংবা থাকলেও কেমন হবে সেই সম্পর্ক এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ারও পূর্ণ অধিকার পাবেন তিনি।

সূত্র: ডেইলি সাবাহ

spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ